দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা শুধু ডিসেম্বর মাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত এ ধরনের চেষ্টা চলতে পারে বলে মনে করছে সরকার। এসব অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার
সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা
বলেন। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান
তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ
উপস্থিত ছিলেন।
শ্রমিকদের
বিভিন্ন দাবিতে চলমান আন্দোলনে সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগের
বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন,
আন্দোলনের মধ্যে কিছু মানুষের যে
ধরনের সহিংস আচরণ দেখা গেছে,
তা প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের আচরণ হতে পারে
না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব ঘটনার সঙ্গে
সীমান্তের ওপারের সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছেন।
তথ্য
উপদেষ্টার মতে, আওয়ামী লীগের
রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সক্ষমতা না থাকলেও দলটির
হাতে থাকা বিপুল অর্থ
ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে
নাশকতা ও অস্থিরতা তৈরির
চেষ্টা হতে পারে।
ডিসেম্বরে
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথ
তৈরি করতেই এসব অস্থিরতা সৃষ্টি
করা হচ্ছে কি না, সাংবাদিকদের
এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি
শুধু ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে নয়। শেখ
হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত এ
ধরনের চেষ্টা চলতে পারে বলে
সরকার মনে করে। সরকার
এসব তৎপরতা প্রতিহত করবে।
এ
প্রসঙ্গে ১৯৯১ সালের জাতীয়
সংসদ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম
দিনের একটি ঘটনার কথা
উল্লেখ করেন জাহেদ উর
রহমান। তিনি বলেন, ওই
নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর শেখ হাসিনা
বলেছিলেন, এই সরকারকে এক
দিনও শান্তিতে থাকতে দেবেন না। তাঁর মতে,
সেই রাজনৈতিক মানসিকতার প্রতিফলন এখনো থাকতে পারে।
শেখ
হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে
নিজের আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও
দিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি
বলেন, ডিসেম্বর শেষ হওয়ার পর
বিষয়টি নিয়ে আবার কথা
বলবেন। শেখ হাসিনা দেশে
ফিরে এলে তাঁর আগের
ব্যাখ্যা ভুল প্রমাণিত হবে
এবং সে ক্ষেত্রে তিনি
প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করবেন।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যদি দেশে এসে হাজির হন, তাহলে এরপর নিশ্চয়ই একটি মঙ্গলবার আসবে। সেদিন তিনি বেঁচে থাকলে এবং দায়িত্বে থাকলে প্রকাশ্যে এসে ক্ষমা চাইবেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমার ইন্টারপ্রিটেশন ভুল ছিল’ এ কথা স্বীকার করবেন তিনি।