ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিয়ে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমান

সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিয়ে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমান

দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা এবং জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর দাবি, গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে, পতিত স্বৈরাচার ও তাদের সহযোগীদের একটি অংশ সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে। আর দেশের ভেতরে থাকা আরেকটি চক্র কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষসহ বিভিন্ন অপতৎপরতার মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।মঙ্গলবার রাজশাহীতে আখচাষিদের মধ্যে সরকারি প্রণোদনার অর্থ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে স্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে—যে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তারা সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ পাঠাচ্ছে এবং তাদের দোসররা সেই টাকায় দেশের ভেতরে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন কলকারখানায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়া হচ্ছে।’নির্বাচনের আগে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা মিথ্যা কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল এবং টিকিট বিক্রির রাজনীতি করেছিল, জনগণ তাদের কর্মকাণ্ড প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন সেই পক্ষগুলো আবার এক হয়ে দেশের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।‘নিজেদেরই ভাগ্য বদলাতে হবে’দেশের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিদেশ থেকে কেউ এসে বাংলাদেশের উন্নয়ন করে দিয়ে যাবে না। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করে নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই বদলাতে হবে।তিস্তা-পদ্মায় ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিউত্তরাঞ্চলের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে তিস্তা ও পদ্মা নদীতে শিগগিরই ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু ও শেষ করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।এ ছাড়া প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া, কৃষকদের সুরক্ষায় ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণ এবং খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে উন্নয়ন ও দেশ গড়ার কাজে বিএনপি সরকারের পাশে থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ সময় ‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার জন্য বাংলাদেশ’ স্লোগান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে

জুলাই বিপ্লব চলাকালে রাজশাহীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে পলাতক ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং চারজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তাঁকে সহযোগিতা করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, মার্জিনা রায়হান, সহিদুল ইসলাম সরদার ও তারেক আবদুল্লাহ।শুনানিতে তিনটি ভিডিও উপস্থাপনশুনানিতে মামলার অভিযোগ ও ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। এ সময় ট্রাইব্যুনালে তিনটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, ভিডিওগুলোতে কয়েকজন আসামিকে অস্ত্র হাতে গুলি করতে দেখা যায়। তাঁদের মধ্যে জহিরুলসহ কয়েকজনকে শনাক্ত করার কথা জানান প্রসিকিউটর।পরে অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি বা প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড বিবেচনায় নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করে প্রসিকিউশন।শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল ৩৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং চারজনকে হাজিরের নির্দেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।যাঁদের হাজিরের নির্দেশপ্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হওয়া চারজন হলেন রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, জহিরুল ইসলাম রুবেল ও মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক।গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়া ৩৪ জন হলেন—খায়রুজ্জামান লিটন, বিপ্লব বিজয় তালুকদার, হুমায়ুন কবির, রকি কুমার ঘোষ, রাশিক দত্ত, বাপ্পী চৌধুরী রনি, মহিদুল ইসলাম মোস্তফা, খালিদ হাসান বিপ্লব, রাশেদুল করিম রোজেল, মেহেদী হাসান ওরফে রনি, জেডু সরকার ওরফে জাবেদুর রহমান, আব্দুল হামিদ সরকার ওরফে টেকন, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার, আরমান আলী, আব্দুল মোমিন, শাহাদত হোসেন শাহু, তৌহিদুল হক সুমন, মাহতাব হোসেন চৌধুরী, আলাউদ্দিন ওরফে আলাল, সরিফুল ইসলাম বাবু, মো. নাবিল হাসান, মাহমুদুল হাসান রাজীব, ফরহাদ হোসেন বিপ্লব, তৌরিদ আল মাসুদ রনি, মেহেদী হাসান রিমেল ওরফে রিগেন, আশরাফুল ইসলাম জাফর, সুকান্ত কুমার দাস, ফয়সাল আহমেদ রুনু, নুর মোহাম্মদ সিয়াম, আসাদুল্লা-হিল-গালিব, গোলাম কিবরিয়া, আলাল পারভেজ লুলু, মনিরুজ্জামান খান ওরফে মনির এবং শফিকুজ্জামান ওরফে শফিক।২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই বিপ্লব চলাকালে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানার শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের বিপরীতে লবঙ্গ রেস্টুরেন্টের সামনে আন্দোলনকারী রায়হান আলীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই সময়ে শাহ মখদুম কলেজের সামনে আনজুম সাকিব নিহত হন।এ ছাড়া সালমান ওরফে শিমুলসহ আরও অনেকে ওই সময় আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের সামনে, শাহ মখদুম কলেজের সামনে, পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ, আলুপট্টি মোড় ও আশপাশের এলাকায় সংঘটিত এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন।এর আগে গত ৩০ জুলাই এই ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল প্রসিকিউশন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার তা আমলে নিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে

বোমা ভেবে আতঙ্ক, পুলিশ গিয়ে পেল মিউজিক ডিভাইস

রাজশাহীতে স্কুটিতে লাগিয়ে দেওয়া একটি ডিভাইস নিয়ে হুলস্থুল কাণ্ড ঘটেছে। স্কুটির মালিক এই ডিভাইসটিকে বোমা ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো আরডিএ মার্কেট এলাকায়।  খবর পেয়ে পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখে ডিভাইসটি আসলে মোটরসাইকেলের একটি মিউজিক ডিভাইস। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মহানগরীর সাহেববাজার আরডিএ মার্কেটের নিচতলায় সাত নম্বর গলিতে এ ঘটনা ঘটে।  পুলিশ বলছে, আতঙ্ক ছড়াতে এক যুবক ইচ্ছাকৃতভাবেই এই কাজটি করেছেন। জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর কারণে তাকে শনাক্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে অজ্ঞাত এক যুবক স্কুটিতে ডিভাইসটি লাগিয়ে দিয়ে চলে যান। পরে এর মালিক সেটি দেখে বোমা ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এরপর পুরো মার্কেটেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখন বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়। খবর পেয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা সেখানে আসেন। আরএমপির মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘স্কুটিতে লাগিয়ে দেওয়া ডিভাইসটি আসলে মিউজিক ডিভাইস। এটি মোটরসাইকেলেই ব্যবহার করা হয়। আতঙ্ক ছড়াতে এটি এক যুবক ওই স্কুটিতে লাগিয়ে দেয়। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট গিয়ে দেখে এটি মিউজিক ডিভাইস। পরে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে পুলিশ ফিরে আসে।’ তিনি জানান, জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো একটি অপরাধ। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তারা আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

বোমা ভেবে আতঙ্ক, পুলিশ গিয়ে পেল মিউজিক ডিভাইস

বোমা ভেবে আতঙ্ক, পুলিশ গিয়ে পেল মিউজিক ডিভাইস

রাজশাহীতে স্কুটিতে লাগিয়ে দেওয়া একটি ডিভাইস নিয়ে হুলস্থুল কাণ্ড ঘটেছে। স্কুটির মালিক এই ডিভাইসটিকে বোমা ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো আরডিএ মার্কেট এলাকায়।  খবর পেয়ে পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখে ডিভাইসটি আসলে মোটরসাইকেলের একটি মিউজিক ডিভাইস। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মহানগরীর সাহেববাজার আরডিএ মার্কেটের নিচতলায় সাত নম্বর গলিতে এ ঘটনা ঘটে।  পুলিশ বলছে, আতঙ্ক ছড়াতে এক যুবক ইচ্ছাকৃতভাবেই এই কাজটি করেছেন। জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর কারণে তাকে শনাক্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে অজ্ঞাত এক যুবক স্কুটিতে ডিভাইসটি লাগিয়ে দিয়ে চলে যান। পরে এর মালিক সেটি দেখে বোমা ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এরপর পুরো মার্কেটেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখন বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়। খবর পেয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা সেখানে আসেন। আরএমপির মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘স্কুটিতে লাগিয়ে দেওয়া ডিভাইসটি আসলে মিউজিক ডিভাইস। এটি মোটরসাইকেলেই ব্যবহার করা হয়। আতঙ্ক ছড়াতে এটি এক যুবক ওই স্কুটিতে লাগিয়ে দেয়। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট গিয়ে দেখে এটি মিউজিক ডিভাইস। পরে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে পুলিশ ফিরে আসে।’ তিনি জানান, জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো একটি অপরাধ। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তারা আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

বোমা ভেবে আতঙ্ক, পুলিশ গিয়ে পেল মিউজিক ডিভাইস