ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
রোহিঙ্গা সংকটে পরিবেশ, নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে: সেনাপ্রধান

রোহিঙ্গা সংকটে পরিবেশ, নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে: সেনাপ্রধান

রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি বাংলাদেশের পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ পরিবেশ ধ্বংস, মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।বৃহস্পতিবার মিরপুর সেনানিবাসের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) তিন সপ্তাহব্যাপী ক্যাপস্টোন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় সেনাপ্রধান এসব কথা বলেন।জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের কারণে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিও বাড়ছে।তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় দেশের অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সংকটটির প্রভাব শুধু মানবিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই; পরিবেশ, নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে।অনুষ্ঠানে এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি নেতৃত্বের সক্ষমতা বাড়ানোই ছিল ক্যাপস্টোন কোর্সের অন্যতম উদ্দেশ্য।তিন সপ্তাহের এই কোর্সে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনীতি, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি, রোহিঙ্গা সংকট, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা, জ্বালানি, বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচারব্যবস্থা ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।কোর্সে বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন এবং অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। অংশগ্রহণকারীরাও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।এবারের ক্যাপস্টোন কোর্সে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি, কূটনীতিক, সাংবাদিক ও করপোরেট প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পেশার ৩৭ জন অংশ নেন।সমাপনী অনুষ্ঠানে কোর্সে অংশ নেওয়া ফেলোদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন সেনাপ্রধান। অনুষ্ঠানে কোর্সের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরা হয়।

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলার বক্তব্যে একমত নয় ঢাকা

মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশ একমত নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করতে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর বিকেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।শামা ওবায়েদ বলেন, ‘অবশ্যই সেটার সঙ্গে আমরা একমত নই। তাদের নিজেদের একটি আইডেনটিটি আছে। সেই আইডেনটিটি নিয়েই তারা ফেরত যাবে।’মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠককে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আলোচনাটি ভালো পরিবেশে হয়েছে। রাষ্ট্রদূত বিষয়গুলো নিয়ে নিজ সরকারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ২০১৭ সালে মানবতা ও মানবাধিকারের বিবেচনায় বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর লক্ষ্যে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।চীনও এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী চীন সফরের সময় চীনা সরকার মিয়ানমারের ওপর যথেষ্ট চাপ প্রয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছিল।‘সবকিছু ঘোষণা দিয়ে প্রতিবাদ করতে হয় না’মিয়ানমারের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক চাপের পরিবর্তে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বলা হলেও বাংলাদেশ কেন আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ করেনি—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সব বিষয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করলেই যে সমাধান আসবে, বিষয়টি এমন নয়।তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশ সবসময়ই বলে আসছে। আরাকান আর্মির ওপরও চাপ প্রয়োগের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসছে।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা মিয়ানমার সরকারের ওপর আস্থা রাখতে চাই। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কমিউনিটিকে আরও বেশি জোর দিচ্ছি, তারাও যেন মিয়ানমারের ওপর সেই প্রেশারটা ক্রিয়েট করে।

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলার বক্তব্যে একমত নয় ঢাকা