লিওনেল মেসির ফেরার ম্যাচে জয় পেল না ইন্টার মিয়ামি। ঘরের মাঠে আটলান্টা ইউনাইটেডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে মেজর লিগ সকারের দলটি। মেসির অ্যাসিস্টে ক্যাসেমিরো গোল করে মিয়ামিকে এগিয়ে দিলেও শেষ মুহূর্তের পেনাল্টিতে গোল করে আটলান্টাকে সমতায় ফেরান ব্রিল এমবোল।বৈরী আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর শুরু হয় ম্যাচটি। তবে মাঠে নেমেই নিজের উপস্থিতি জানান দেন মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর এটিই ছিল আর্জেন্টাইন তারকার প্রথম ম্যাচ।ম্যাচের ৩২তম মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে গোল করেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো। তাঁর গোলে এগিয়ে যায় ইন্টার মিয়ামি।তবে সেই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকেরা। তিন মিনিট পরই গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায় আটলান্টা ইউনাইটেড।প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে আবারও এগিয়ে যায় মিয়ামি। অভিজ্ঞ উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজ গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ওই ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় মেসির দল।দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করে ইন্টার মিয়ামি। তবে জয় নিশ্চিত করতে পারেনি তারা। ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি পায় আটলান্টা ইউনাইটেড। সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোল পেনাল্টি থেকে গোল করে আটলান্টাকে ২-২ সমতায় ফেরান। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে লিওনেল মেসির অবসরের খবরে বিশ্ব ফুটবলে তৈরি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে নিজের বিদায়ের ঘোষণা দেওয়ার পর মেসির সতীর্থ ও ঘনিষ্ঠজনেরা তাঁকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিচ্ছেন। এবার সেই তালিকায় যোগ দিলেন তাঁর স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো।জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির দীর্ঘ পথচলার উত্থান-পতনের অনেকটাই কাছ থেকে দেখেছেন আন্তোনেলা। প্রেমিকা থেকে স্ত্রী হয়ে ওঠার এই সময়ে মেসির সাফল্যের পাশাপাশি ব্যর্থতা ও কঠিন সময়ও দেখেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার কথাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন আন্তোনেলা।ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় মেসির জাতীয় দলের অধ্যায়ের সমাপ্তি দেখে নিজের গর্বের কথা জানান তিনি। মেসির দীর্ঘ যাত্রার স্মৃতিচারণ করে আন্তোনেলা লেখেন, ‘কত বছর, কত মুহূর্ত, কত আনন্দ; আবার কত হতাশা ও কঠিন সময়ও ছিল। আমি তোমাকে কষ্ট পেতে দেখেছি, পড়ে যেতে দেখেছি, আবার উঠে দাঁড়াতেও দেখেছি। যখন কিছুই তোমার পক্ষে যাচ্ছিল না, তখনও তোমাকে লড়াই করে যেতে এবং বারবার চেষ্টা করতে দেখেছি।’মেসির স্বপ্নপূরণের সাক্ষী হতে পারাকে নিজের জন্য সৌভাগ্যের বলে উল্লেখ করেছেন আন্তোনেলা। তিনি বলেন, ‘এত বছর পর আমি সৌভাগ্যবান যে তোমাকে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে দেখেছি এবং আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনগুলোর কিছু মুহূর্ত তোমার সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরেছি।’মেসির ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে তাঁর পরিবারের উপস্থিতি ছিল। সম্প্রতি মেসির বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর পরিবারটিও শোকের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যেই মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি বাবা হিসেবে তাঁর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন আন্তোনেলা।তিনি লেখেন, ‘এই পুরো গল্পের একটি বিষয় আমাকে বিশেষভাবে আবেগাপ্লুত করে; আমাদের সন্তানরা সবকিছু নিজেদের চোখের সামনে থেকে দেখেছে। তারা দেখেছে, তাদের বাবা কীভাবে নিজের লক্ষ্যের জন্য লড়াই করেছে, কখনো হাল ছাড়েনি এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রেখেছে। এরপর তারা নিজের চোখে দেখেছে, সে কীভাবে সব অর্জন করেছে এবং বিশ্বকাপ উচিয়ে ধরেছে।’মেসি ও আন্তোনেলার তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও চিরো। তাদের বয়স যথাক্রমে ১৩, ১০ ও ৮ বছর। বাবার অর্জনের ব্যাপকতা তারা এখনো পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও তাঁকে নিয়ে গর্বিত বলে জানান আন্তোনেলা।তিনি লেখেন, হয়তো একদিন তারা সত্যিই বুঝতে পারবে তোমার গল্প কতটা বিশাল। কিন্তু আজ তারা শুধু তাদের বাবাকে নিয়ে গর্বিত।বার্তার শেষ দিকে মেসির প্রতি ভালোবাসা ও গর্বের কথা জানিয়ে আন্তোনেলা লেখেন, ‘আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত; তোমার পথচলা, তুমি যা কিছু অতিক্রম করে এসেছ এবং সবচেয়ে বেশি গর্বিত সেই মানুষটির জন্য, যে প্রতিটি মুহূর্তের পেছনে ছিল। তোমার পাশে থেকে এসব অভিজ্ঞতার অংশ হতে পারা কত বড় সৌভাগ্য! আমরা তোমাকে অসীম ভালোবাসি।’ সূত্র: টিওয়াইসি স্পোর্টস
২০২৬ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির পেনাল্টি যেন হয়ে গেছে অরণ্যে রোদন, সব যেন নিষ্ফল চেষ্টা। ২ বার পেনাল্টি নিয়ে দুই বারই পেনাল্টি মিস করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অথচ আগের আসরেই মেসি পেনাল্টি থেকে করেছিলেন ৪ গোল, শ্যুট আউট যোগ করলে পেনাল্টিতে স্কোর করেছিলেন ৬ বার। সেবার মেসি খুবই বুদ্ধিদীপ্ত এক কৌশল ব্যবহার করতেন। তিনি গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতেন, সঠিক সময়ে শট নিতেন এবং মানসিকভাবে থাকতেন শান্ত। মূলত তিনি দুই ধরনের শট নিতেন। একটি ছিল চতুর সাইড ফুট শট, যেখানে তিনি গোলরক্ষককে ভালোভাবে লক্ষ্য করে বিপরীত দিকে শট নিতেন। আরেকটি ছিল শক্তিশালী ইনস্টেপ শট, যেখানে গতিই ছিল আসল অস্ত্র। দৌড় শুরুর সময় মেসি ছোট ছোট পা ফেলতেন। এতে তিনি নিজের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারতেন। পাশাপাশি গোলরক্ষকের নড়াচড়াও ভালোভাবে বুঝতে পারতেন। বল না দেখে তিনি চোখ রাখতেন গোলরক্ষকের দিকে। গোলরক্ষক কোন দিকে ঝুঁকছেন, সেটাই বোঝার চেষ্টা করতেন তিনি। গোলরক্ষক একবার দিক ঠিক করে ফেললে, মেসি আলতো করে বল পাঠিয়ে দিতেন উল্টো দিকের ফাঁকা কোণে। এই ধরনের শটের গতি সাধারণত থাকত ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে। এখানে শক্তির চেয়ে নিখুঁত নিশানাই ছিল আসল ব্যাপার। সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সের বিপক্ষে এই কৌশলে গোল করেছেন তিনি। তবে গোলরক্ষক যদি স্থির দাঁড়িয়ে থাকতেন বা তার এই কৌশল ধরে ফেলতেন, তখন মেসি ভিন্ন পথে হাঁটতেন। সেই সময় তিনি সোজা পথে দৌড় শুরু করতেন। গোলরক্ষকের দিকে না তাকিয়ে তিনি চোখ রাখতেন বলের দিকে। এতে বলে ঠিকভাবে পা লাগানো সম্ভব হতো। এরপর তিনি জোরালো শট নিতেন। সেই শটের গতি অনেক সময় ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারও ছাড়িয়ে যেত এবং তা গিয়ে লাগত গোলবারের ওপরের কোণে। এত দ্রুতগতির শট হওয়ায় গোলরক্ষক সঠিক দিকে ঝাঁপ দিলেও কিছুই করার থাকত না তার। এই পদ্ধতির শটে অবশ্য সফলতার হার ৫০ শতাংশ ছিল, তিনি পোল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যর্থ হলেও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সফল হয়েছিলেন। ২০২২ বিশ্বকাপের ২ কৌশলের প্রথমটির ব্যবহার এবারের বিশ্বকাপে করেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অস্ট্রিয়া ও মিশর দুই দলের বিপক্ষেই পেনাল্টি নিয়েছেন বেশ জোরের ওপর, প্রথমটি বারের ওপর দিয়ে গেছে, দ্বিতীয়টি হয়েছে সেভ। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে ওই প্রথম কৌশল ব্যবহার না করার ফলেই পেনাল্টি থেকে এভাবে ব্যর্থ হচ্ছেন মেসি।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।