ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি কত দিন, কবে থেকে শুরু

দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি কত দিন, কবে থেকে শুরু

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চলতি বছর দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘ ছুটির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসার ছুটির তালিকা অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হলে প্রতিষ্ঠানভেদে টানা ১০ দিন বা তারও বেশি সময় বন্ধ থাকতে পারে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরন ও শিক্ষার স্তর অনুযায়ী ছুটির সময়সূচিতে পার্থক্য রয়েছে।এদিকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটিও বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করায় সাপ্তাহিক ছুটিসহ তাঁরা টানা পাঁচ দিনের বিরতি পাচ্ছেন।মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে টানা ১০ দিনের সুযোগ২০২৬ সালের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।এর আগে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা সাত দিন বন্ধ থাকবে বিদ্যালয়গুলো। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর আবার সাপ্তাহিক ছুটি। ২৫ অক্টোবর রোববার লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ছুটি থাকলে ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ১০ দিনের বিরতি পাওয়া যাবে।তবে এই ছুটির হিসাব সংশ্লিষ্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। একাডেমিক ক্যালেন্ডারের প্রয়োজনে ছুটির সময়সূচিতে পরিবর্তনও আসতে পারে।কলেজে ছুটি ১৮ থেকে ২৯ অক্টোবরমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ-৪ শাখার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কলেজগুলোতে ১৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি আলাদাভাবে গণনা করা হয়নি।দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমীর পাশাপাশি প্রবারণা পূর্ণিমা এবং ২৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে এই ছুটি রাখা হয়েছে।ছুটির আগে ও পরের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হলে কলেজের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ বিরতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ১৬ ও ১৭ অক্টোবর এবং ৩০ ও ৩১ অক্টোবরের শুক্র ও শনিবার যুক্ত করলে ১৬ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১৬ দিনের ছুটি হতে পারে।মাদরাসায় তিন দিনের ছুটিদুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি, এমপিওভুক্ত ও ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্যও ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি থাকবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি নির্ভর করবে নিজস্ব সিদ্ধান্তেদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দুর্গাপূজার ছুটির সময়সূচি একরকম নয়। সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ছুটির তালিকা সরাসরি প্রযোজ্য হয় না। স্বতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব একাডেমিক ক্যালেন্ডার, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে ছুটি নির্ধারণ করে।তাই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে কত দিনের ছুটি থাকবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তির ওপর। কোনো প্রতিষ্ঠান সরকারি ছুটির সঙ্গে মিল রেখে ছুটি দিতে পারে, আবার কোনোটি পূজার আগে বা পরে অতিরিক্ত ছুটি নির্ধারণ করতে পারে।ক্লাস, পরীক্ষা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আবাসিক হলের কার্যক্রমের সময়সূচিও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আলাদা হতে পারে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টানা কত দিনের ছুটি পাওয়া যাবে, তা পৃথক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।সরকারি চাকরিজীবীদের টানা পাঁচ দিনের ছুটিজনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে ছুটি নির্ধারিত ছিল। এর সঙ্গে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।ফলে সাপ্তাহিক ছুটিসহ সরকারি চাকরিজীবীদের টানা পাঁচ দিনের ছুটি তৈরি হয়েছে।

মক্কায় গিয়ে দেশ ও তরুণদের জন্য প্রার্থনা রাখি সাওয়ান্তের

সম্প্রতি পবিত্র মক্কায় আধ্যাত্মিক সফরে গেছেন অভিনেত্রী রাখি সাওয়ান্ত। সেখানে নিজের জন্য প্রার্থনার পাশাপাশি দেশ, দেশের তরুণ প্রজন্মের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্যও প্রার্থনা করেছেন তিনি।মক্কার পবিত্র ভূমিতে দাঁড়িয়ে রাখি সাওয়ান্ত প্রার্থনা করেন, তাঁর দেশ যেন নিরাপদ থাকে এবং মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করা ব্যক্তিদের হাত থেকে দেশ রক্ষা পায়। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান এবং তাঁদের সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করার জন্যও তিনি প্রার্থনা করেন।দেশের রাজনৈতিক নেতাদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বানও জানান এই অভিনেত্রী।প্রার্থনার সময় সম্প্রতি আইফোন কেনার আবদারকে কেন্দ্র করে পারিবারিক অশান্তির জেরে একটি পরিবারের তিন সদস্যের আত্মহত্যার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন রাখি। এ ঘটনাকে সামনে রেখে তরুণদের দামি পণ্য কেনার জন্য বাবা-মায়ের ওপর চাপ না দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।রাখি বলেন, তরুণদের নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে এবং কঠোর পরিশ্রম করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে। বাবা-মাকে কষ্ট দিয়ে দামি জিনিসপত্র বা আইফোন কেনার আকাঙ্ক্ষা পূরণ না করার আহ্বান জানান তিনি।নিজের ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও কথা বলেন রাখি। তিনি জানান, জন্মসূত্রে হিন্দু হলেও পরবর্তীতে খ্রিষ্টান ধর্মের সঙ্গে যুক্ত হন এবং বর্তমানে ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করছেন। তবে সব ধর্মের প্রতিই তাঁর সমান সম্মান রয়েছে বলে জানান তিনি। মক্কা সফরে রাখির বক্তব্যে শিক্ষা, সততা, তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ববোধের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

মক্কায় গিয়ে দেশ ও তরুণদের জন্য প্রার্থনা রাখি সাওয়ান্তের

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে কোরআন প্রতিযোগিতার উদ্যোগ

শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে জাতীয় পর্যায়ে পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জোরদার করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।সোমবার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান।পোস্টে তিনি বলেন, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বাড়ানোর লক্ষ্যেই শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে এ প্রতিযোগিতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এর আগে গত ১৮ জুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। তখন তিনি বলেছিলেন, শিক্ষার সব ক্ষেত্রে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলেও তখন জানিয়েছিলেন তিনি।নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ের কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে কোরআন প্রতিযোগিতার উদ্যোগ

অভাব পেরিয়ে সুমাইয়ার জিপিএ-৫

অভাব-অনটনকে পেছনে ফেলে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সুমাইয়া আক্তার। পরিবারের আর্থিক সংকটের মধ্যেও পড়াশোনায় মনোযোগ ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জন করেছে সে। তার ফলাফলে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।সুমাইয়ার বাড়ি উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের চাপুরী গ্রামে। তার বাবা সাইফুল ইসলাম ফকির একটি মুরগির খামারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। সংসারের খরচ চালাতে সুমাইয়ার মাকেও বিভিন্ন কাজে যুক্ত হতে হয়। সীমিত আয়ের সংসারে মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানো পরিবারের জন্য সহজ ছিল না। তবে সামর্থ্যের মধ্যে থেকে মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তার বাবা-মা।সুমাইয়া এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে কথাসাহিত্যিক ড. হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান ‘শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ’ থেকে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে সুমাইয়ার জিপিএ-৫ বিদ্যালয়ের সাফল্যে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।সুমাইয়ার মেধা ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বিবেচনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তার পাশে দাঁড়িয়েছে। পড়াশোনার খরচের একটি অংশ বহন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।সুমাইয়া জানায়, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একজন সফল মানুষ হতে চায়। তার স্বপ্ন পূরণে শিক্ষক ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা চায় সে।সুমাইয়ার এই ফলাফলে পরিবার ও শিক্ষকেরা খুশি। তাঁদের প্রত্যাশা, আর্থিক সংকট যেন তার উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

অভাব পেরিয়ে সুমাইয়ার জিপিএ-৫

নৈতিক অবক্ষয় রোধে ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব’ তুলে ধরা হলো ঢাবির সেমিনারে

ইসলামী শিক্ষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নৈতিক অবক্ষয় রোধে ইসলামী শিক্ষা: বর্তমান সমাজের সংকট ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।সেমিনারে বক্তারা নৈতিক অবক্ষয়, মূল্যবোধের সংকট ও বিভক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শিক্ষার গুরুত্বের পাশাপাশি জ্ঞান অর্জন, নিয়মিত বই পড়া এবং অর্জিত জ্ঞান দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।অনুষ্ঠানের শুরুতে শিশুশিল্পীদের কণ্ঠে পবিত্র কোরআনের সূরা আলাকের অংশবিশেষ অর্থসহ তিলাওয়াত করা হয়। পরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্নার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেমিনারের উদ্বোধন হয়। এরপর সেমিনার উপলক্ষে প্রকাশিত ক্রোড়পত্র পাঠ ও নাতে রাসূল (সা.) পরিবেশন করা হয়।সেমিনারে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইতিহাসবিদ, গবেষক ও লেখক জিয়াউল হক। তিনি বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান এবং নিয়মিত বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন। অর্জিত জ্ঞান লেখালেখির মাধ্যমে প্রকাশ এবং সমাজের বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।পরে কবি আল মাহমুদের ‘বখতিয়ারের ঘোড়া’ কবিতা আবৃত্তি করা হয়। এরপর একটি কোরাস গান পরিবেশন করা হয়।‘ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব ও ইতিহাস’ বিষয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী। তিনি শহীদ আব্দুল মালেকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশের বিভক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা থেকে উত্তরণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।তিনি বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অর্জন নয়; অর্জিত জ্ঞান মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো এবং নৈতিক ও আদর্শিক মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।সেমিনারের সমাপনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার শিক্ষা বিভাগীয় সম্পাদিকা সানিয়া তারান্নুম অর্নি। তিনি নৈতিক চরিত্র গঠনে সীরাতে রাসূল (সা.) অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।সানিয়া তারান্নুম অর্নি বলেন, নৈতিক চরিত্র গঠন ছাড়া জ্ঞান মানুষের জন্য পূর্ণাঙ্গ কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। তাই শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতা ও আদর্শের সমন্বয় প্রয়োজন। ইসলামী শিক্ষার মাধ্যমে সততা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।অনুষ্ঠানের শেষপর্বে শহীদ আব্দুল মালেকের মায়ের কাছে লেখা একটি চিঠি পাঠ করা হয়। চিঠি পাঠের সময় উপস্থিতদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এর মধ্য দিয়ে ইসলামী শিক্ষা, আদর্শ ও নৈতিকতার জন্য শহীদ আব্দুল মালেকের আত্মত্যাগের স্মৃতি স্মরণ করা হয়।

নৈতিক অবক্ষয় রোধে ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব’ তুলে ধরা হলো ঢাবির সেমিনারে

ডাকসুর আয়োজনে ‘সিনো-বাংলা ডে’, চীনা প্রতিষ্ঠানে ৪৩০ শিক্ষার্থীর চাকরির সুযোগ

চীনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘সিনো-বাংলা ডে ২০২৬’। আগামী সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ আয়োজন হবে। এতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি চীনা প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে মোট ৪৩০টি চাকরির সুযোগ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এবং চীনা দূতাবাসের সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হচ্ছে।গতকাল বৃহস্পতিবার ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার এসব তথ্য জানান।সরাসরি সিভি জমা দেওয়ার সুযোগআয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘সিনো-বাংলা ডে ২০২৬’-এর অন্যতম আকর্ষণ থাকবে চাকরির সুযোগ। চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণকারী চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে সরাসরি নিজেদের সিভি জমা দিতে পারবেন।একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে চাকরির ধরন, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, নিয়োগপ্রক্রিয়া ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে জানার সুযোগ থাকবে।জমা দেওয়া সিভিগুলোর ভিত্তিতে প্রাথমিক বাছাইও করা হবে। ফলে একই আয়োজনে চাকরির আবেদন করার পাশাপাশি সম্ভাব্য নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা।আয়োজকদের মতে, চীনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে আগ্রহী তরুণদের জন্য এ আয়োজন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।অংশ নিতে পারবেন অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাওআগামী সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টিএসসি প্রাঙ্গণে চলবে ‘সিনো-বাংলা ডে ২০২৬’-এর কার্যক্রম।এতে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই নয়, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আগ্রহী শিক্ষার্থীরাও অংশ নিতে পারবেন। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

ডাকসুর আয়োজনে ‘সিনো-বাংলা ডে’, চীনা প্রতিষ্ঠানে ৪৩০ শিক্ষার্থীর চাকরির সুযোগ

নৈতিকতাবিহীন জ্ঞান বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে: সালেহ হাসান নকিব

নৈতিকতা ছাড়া জ্ঞান বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকিব। তিনি বলেন, সততা ও নিষ্ঠাবিহীন বুদ্ধিমত্তা সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন জরুরি।গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ২০২৬ সালের শরৎকালীন সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া নবীন ছাত্রীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।অধ্যাপক সালেহ হাসান নকিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শিক্ষার্থীদের সামনে অনেক সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে এ সময়ে বিভ্রান্তি ও মনোযোগ বিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই নবীন শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক বিকাশ, উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিনয়, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শৃঙ্খলা এবং প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে নৈতিক দায়িত্ববোধের সমন্বয় করা জরুরি। আধুনিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করা নয়; শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগের পাশাপাশি নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ তৈরি করাও জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।শৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরে অধ্যাপক সালেহ হাসান নকিব বলেন, একজন মানুষ জীবনে কতটা সফল হবেন, তা শুধু তাঁর মেধার ওপর নির্ভর করে না। বরং তিনি কতটা শৃঙ্খলা মেনে চলতে পারেন, তার ওপরও সাফল্য অনেকাংশে নির্ভরশীল।বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা মানসিকতা ও মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা এখন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে নানা মত ও ধারণার কারণে সমাজে বিভাজন তৈরি হচ্ছে। এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বৈশ্বিক বাস্তবতা। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বায়োটেকনোলজি ও ডেটা সায়েন্স সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রকে দ্রুত পরিবর্তন করছে।অধ্যাপক সালেহ হাসান নকিব বলেন, প্রযুক্তির পরিবর্তন দ্রুত হলেও মানবতাকে পথ দেখানোর মৌলিক মূল্যবোধগুলো চিরন্তন। এসব মৌলিক মূল্যবোধে বড় ধরনের পরিবর্তন সমাজে নানা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আগামী দুই দশকে অনেক পেশা বিলুপ্ত বা পরিবর্তিত হতে পারে, আবার এমন অনেক নতুন পেশার সৃষ্টি হবে, যেগুলোর বিষয়ে এখনো ধারণা করা যাচ্ছে না।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইআইইউসির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, শুধু সনদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় দিতে চায় না কর্তৃপক্ষ। তাঁদের গবেষক, উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও নিজ নিজ ক্ষেত্রে নেতা হিসেবে দেখতে চায় বিশ্ববিদ্যালয়।তিনি শিক্ষার্থীদের আধুনিকতা ও ইসলামের যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে মূল্যবোধসম্পন্ন, ভদ্র, পরোপকারী ও দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আইআইইউসির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী বলেন, বিজ্ঞান মানুষকে আল্লাহর সৃষ্টি কীভাবে কাজ করে তা শেখায়, আর ঈমান শেখায় কেন তা সৃষ্টি হয়েছে। জ্ঞান ছাড়া সভ্যতার সূচনা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্ব সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও প্রযুক্তি ও কৌশলের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্বে যারা প্রযুক্তি ও কৌশলে এগিয়ে, তারাই নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও কৌশল অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।অনুষ্ঠানে আইআইইউসির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হাসমত আলী, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, রেজিস্ট্রার কর্নেল মো. কাসেম, পিএসসি (অব.), কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কাওসার আহমেদ, ফিমেল একাডেমিক জোনের প্রধান মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর সুলতানা আক্তার বক্তব্য দেন।অনুষ্ঠানে নবীন ছাত্রীদের শপথ পাঠ করান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী। পরে বিভাগীয় ব্রিফিং সেশনে বিভিন্ন বিভাগ ও অফিসের কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতে আইআইইউসির ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ভর্তি পরীক্ষায় নিজ নিজ অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া নবীন ছাত্রীদের ফুল দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। দিন শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন নবীন ছাত্রীরা।

নৈতিকতাবিহীন জ্ঞান বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে: সালেহ হাসান নকিব

পা দিয়ে লিখে স্বপ্ন পূরণ করতে চান কলি রানী

পরীক্ষার কক্ষে সবাই বেঞ্চে বসে লিখে যাচ্ছেন খাতায়। তাঁদের পাশে বসে লিখছেন আরেক শিক্ষার্থী কলি রানী। তাঁকে দেওয়া হয়েছে ছোট বেঞ্চ। আর সেখানে বসেই মনোযোগসহকারে পা দিয়ে উত্তর লিখে যাচ্ছেন তিনি। দূর থেকে একনজরে দেখলে কলি রানীকে স্বাভাবিক মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। দুই পায়ে হাঁটাচলা করতে পারলেও বাহু থেকে দুই হাতের কবজি নেই। কিন্তু প্রতিবন্ধিতা তাঁকে দমাতে পারেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় কলি রানী রংপুরের কাউনিয়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রে মানবিক বিভাগের পরীক্ষায় অংশ নেন। তিনি ওই উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নে গদাই গ্রামের রুপালী রানীর মেয়ে। কলি রানীর জন্ম থেকে দুই হাতের কবজি নাই। কিন্তু পড়ালেখার প্রতি প্রবল আগ্রহ আর মনের জোরে কারও সহযোগিতা ছাড়াই পা দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি। মৃত মনোরঞ্জন রায়ের ৬ ছেলেমেয়ের মধ্যে কলি রানী সবার ছোট। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে ডিঙিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন স্বপ্ন পূরণের আশায়। কলি রানী লেখাপড়ার পাশাপাশি ইতিমধ্যে গান গেয়ে একাধিক সম্মাননা স্মারক অর্জন করেছেন। এ ছাড়া পা দিয়ে চালাতে পারেন কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন। কলি রানী জানান, তাঁর ইচ্ছা পড়ালেখা শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হয়ে মানুষের সেবা করা। কাউনিয়া মহিলা কলেজের কেন্দ্রসচিব রফিকুল ইসলাম জানান, কলি রানী শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় নিয়ম মেনে তাঁকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট দেওয়া হয়েছে। ইউএনও পাপিয়া সুলতানা জানান, কলি রানীকে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আটকাতে পারেনি। তার অদম্য অগ্রযাত্রা যেন থেমে না যায়।

পা দিয়ে লিখে স্বপ্ন পূরণ করতে চান কলি রানী