ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চাপে জনজীবন, বাড়ছে পরিবহন ও পণ্যের খরচ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চাপে জনজীবন, বাড়ছে পরিবহন ও পণ্যের খরচ

জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানোর প্রভাব পড়েছে দেশের পরিবহন, বাজার ও শিল্প খাতে। বেড়েছে বাস, ট্রাক ও লরির ভাড়া। পরিবহন ব্যয় বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী। এতে চাপে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যাত্রী ও শিল্পোদ্যোক্তারা।গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গণপরিবহনের চালক-হেলপার, ক্রেতা-বিক্রেতা ও নিম্ন আয়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে ক্ষোভ ও হতাশার চিত্র পাওয়া গেছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পর ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহনশ্রমিকদের বাগ্‌বিতণ্ডাও বাড়ছে।বাসভাড়া বেড়েছে, পথে পথে বিতর্কজ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বড় বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা এবং মিনিবাসের ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫৯ পয়সা হয়েছে।দূরপাল্লার ৫২ আসনের বাসে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, রাজধানীর বিভিন্ন রুটে যাত্রীপ্রতি ৫ থেকে ২০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে দূরত্ব ও বাসভেদে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।ফার্মগেট থেকে মালিবাগ পর্যন্ত আগে ১০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও এখন ১৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ফার্মগেট থেকে সাইনবোর্ড রুটেও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।কাঁচাবাজারে বাড়তি খরচজ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারেও। ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। ৬০–৭০ টাকার সবজি এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০–৮০ টাকায়। আলু ও পেঁপের দামও কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে। কিছু সবজির দাম ছাড়িয়েছে ১০০ টাকা।পাইকারি বিক্রেতাদের দাবি, বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি সংগ্রহে পরিবহন খরচ দূরত্ব ও ট্রাকভেদে ২ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চাল, ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলের বাড়তি দামের মধ্যে নতুন করে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ক্রেতাদের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে।কারওয়ান বাজারের টং দোকানি বাবলু শেখ বলেন, ‘তেলের দাম বাইড়া যাওয়ায় গত দুইদিন ধইরা বিক্রি অনেক কোইমা গ্যাছে। মানুষ মনে হয় চা খাওয়াও ছাইড়া দিছে!’ট্রাকভাড়া বেড়েছে, পণ্য পরিবহনে সংকটজ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে ট্রাকভাড়াও বেড়েছে। দূরত্ব, পণ্য ও ট্রাকের আকারভেদে প্রতি ট্রিপে ২ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।বেনাপোল থেকে ঢাকায় আগে ট্রাকভাড়া ছিল ২০–২১ হাজার টাকা। গতকাল তা বেড়ে ২৫–২৬ হাজার টাকা হয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধি ও ট্রাকসংকটের কারণে বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে আমদানি করা পণ্য খালাসে সমস্যায় পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের ভাষ্য, প্রতিদিন ৪০০–৬০০ ট্রাক পণ্য লোড-আনলোড হলেও এখন তা প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।রাইড শেয়ারকারীদের আয় কমছেপেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং করা কর্মীরা। তাঁদের দাবি, জ্বালানির খরচ বাড়লেও যাত্রী পরিবহনের ভাড়া সে অনুযায়ী বাড়েনি। যাত্রীসংখ্যা কম থাকায় অনেক সময় একটি ট্রিপের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।রাইড শেয়ারার আলাউদ্দিন বলেন, সব খরচ বাদ দিয়ে দিনে ৮০০–৯০০ টাকা আয় করাও এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।শিল্পোৎপাদন ও কর্মসংস্থানে শঙ্কাগার্মেন্টস, টেক্সটাইল, সিমেন্ট, স্টিল ও সিরামিকসহ বিভিন্ন শিল্পে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। শিল্পোদ্যোক্তাদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ বাড়বে। এতে পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি শিল্পোৎপাদন ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভর্তুকি কমাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চাপ থাকায় ভবিষ্যতে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবিজ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে গবেষণা ও নীতি সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আদিল খান এক বিবৃতিতে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতা ও রাজস্ব চাপের অজুহাতে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। তিনি অবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, এমনিতেই নিম্ন আয়ের মানুষ তীব্র অর্থনৈতিক চাপে রয়েছেন। নতুন করে জ্বালানির দাম বাড়ায় তাঁদের পরিবারের ব্যয় আরও বাড়বে। এতে মূল্যস্ফীতি, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস ও বৈষম্য বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাঁর মতে, দারিদ্র্য ও জনদুর্ভোগ কমাতে সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

গ্যাসের সংকটে চুলা জ্বলছে না, বাড়ছে লোডশেডিং

গ্যাসের সংকটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সারা দেশে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। একই সময়ে বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় কোথাও চুলা জ্বলছে না, কোথাও আবার মাটির চুলা বা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে।গ্যাসের সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানা ও সার উৎপাদনেও। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় অনেক কারখানায় উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও কারখানা বন্ধ রেখে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হলেও তা চাহিদার তুলনায় ৬০ শতাংশ কম। গ্যাসের অভাবে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অর্ধেকের বেশি বর্তমানে উৎপাদনে নেই। সার কারখানাগুলোতে চাহিদার মাত্র ৩৮ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতিদেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ করেও এসব কেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এর আগে এসব কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছিল।জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, লোডশেডিং কমাতে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। এরপরও বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ করা যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে।তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের দাবিতে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে।উৎপাদন কমেছে শিল্পকারখানায়গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদনেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, নিটিং, ডাইং ও ওয়াশিং খাতের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ১৫ দিন ধরে অনেক কারখানায় তীব্র গ্যাস সংকট চলছে।গাজীপুরের একটি নিট কারখানায় আগে দিনে ২৬ টন কাপড় উৎপাদিত হলেও গ্যাসের সংকটে তা কমে ১১ থেকে ১২ টনে নেমে এসেছে।বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সংগঠনের সদস্যভুক্ত প্রায় ৭০ শতাংশ কারখানা থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আগে মূলত গ্যাস সংকটের কথা জানানো হলেও গত কয়েক দিনে বিদ্যুৎ সংকটের অভিযোগও বেড়েছে।সার কারখানায়ও সংকটগ্যাসের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড (এএফসিসিএল)।উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংকঋণের সুদ ও যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খরচ চালিয়ে যেতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। এতে প্রতি মাসে ১০০ কোটি টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।দেশের অন্যান্য সার কারখানাতেও চাহিদার তুলনায় মাত্র ৩৮ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস নেই, মাটির চুলায় রান্নাগ্যাস উৎপাদনে দেশের অন্যতম প্রধান জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও আবাসিক গ্রাহকেরা গ্যাস সংকটে ভুগছেন। গত দুদিন ধরে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও একেবারেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।বৃহস্পতিবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গ্যাসের চুলা না জ্বলায় বাসাবাড়িতে মাটির চুলায় রান্না করছেন অনেকে। কেউ কেউ সিলিন্ডার গ্যাস কিনে ব্যবহার করছেন।টেংকের পাড় এলাকার বাসিন্দা রুনা দাস বলেন, বেলা ১১টার পর গ্যাসের চুলা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর গ্যাস আসেনি। বাধ্য হয়ে মাটির চুলায় রান্না করতে হয়েছে।কাজীপাড়ার বাসিন্দা ইয়াদে রিবা পাপিয়া বলেন, এমনিতেই তাঁদের এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকে। গত দুদিন ধরে একেবারেই গ্যাস নেই। তাই সিলিন্ডার গ্যাস কিনে রান্না করতে হচ্ছে।যানবাহনচালকেরাও গ্যাস সংকটের কথা জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, প্রায় এক মাস ধরে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় গাড়িতে ঠিকমতো গ্যাস নিতে পারছেন না।কুমিল্লায় ৩১ ঘণ্টা ধরে গ্যাস নেইটানা দুদিন ধরে গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকার জনজীবন। কোথাও গ্যাস একেবারেই নেই, কোথাও আবার মিলছে খুব কম চাপে। ফলে রান্নাবান্না ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে বিকল্প জ্বালানির খরচ।বাগিচাগাঁও এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন জানান, তাঁদের বাসায় ৩১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার আনতে হচ্ছে। তবে গ্যাস সংকটের কারণে অনেক হোটেলেও পর্যাপ্ত খাবার পাওয়া যাচ্ছে না।রেসকোর্স এলাকার গৃহবধূ খালেদা আক্তার বলেন, বুধবার ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করেছিলেন। বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎও না থাকায় বাড়ির পাশে অস্থায়ী চুলা তৈরি করে রান্না করতে হয়েছে।কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল)।সুনামগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ নেইগ্যাসের পাশাপাশি তীব্র বিদ্যুৎ সংকটেও ভুগছে সুনামগঞ্জের মানুষ। শহরে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও জেলার বিভিন্ন গ্রামে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।এতে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ছাতকের জাউয়াবাজার এলাকায় বিদ্যুতের দাবিতে এলাকাবাসী মিছিলও করেছেন।তাহিরপুরের বাসিন্দা মশিউর রহমান বলেন, রাতে ১২টার পর বিদ্যুৎ আসে, আবার ৩টার দিকে চলে যায়। সকালে থাকে না। দুপুরে আধা ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না বললেই চলে।অবৈধ অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জকে দায়ী মন্ত্রীদেশের বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের জন্য পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের লুটপাট এবং ব্যাটারিচালিত অবৈধ অটোরিকশার বিস্তারকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।মন্ত্রী বলেন, অবৈধ অটোরিকশার ব্যাটারি রাতে চার্জ দেওয়ার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ঠিক না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা ও অপেক্ষা করা ছাড়া আপাতত উপায় নেই। দেশে গ্যাস উত্তোলন বাড়ানো এবং আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ- দুই ক্ষেত্রেই এখন সমস্যা রয়েছে।তিনি জানান, এলএনজি সরবরাহ বাড়াতে আরও তিনটি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি টার্মিনালের জন্য ১০ থেকে ১২ দিন আগে অর্ডার দেওয়া হয়েছে। মোংলা-হিরণ পয়েন্ট এলাকাতেও আরেকটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালগুলো মেরামতের কাজও চলছে।মন্ত্রীর আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান হবে। ততদিন দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গ্যাসের সংকটে চুলা জ্বলছে না, বাড়ছে লোডশেডিং