ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাতিল পরীক্ষা ১৬ অক্টোবর

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাতিল পরীক্ষা ১৬ অক্টোবর

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাতিল হওয়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডি এম আতিকুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।এর আগে ২৪২টি পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী এ নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন। নির্ধারিত দিনে পরীক্ষা দিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসে শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা শুনে ভোগান্তিতে পড়েন তাঁরা। যাতায়াত, থাকা ও খাওয়ার পেছনে অর্থ ব্যয় করেও পরীক্ষা দিতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীদের অনেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্ধারিত দিনে ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের হাতে ওএমআর শিট দেওয়ার দুই মিনিটের মধ্যে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা আসে। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে মতিঝিল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ধানমন্ডি ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীদের একাংশ। কোথাও কোথাও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে।পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা বাতিলের আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ও প্রশ্নের নমুনা ছড়িয়ে পড়েছিল। আগেই বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে দূরদূরান্ত থেকে আসা প্রার্থীদের এমন দুর্ভোগে পড়তে হতো না বলে মনে করেন তাঁরা।প্রশ্নপত্র কীভাবে বাইরে গেল, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের জবাবও চান পরীক্ষার্থীরা।এর আগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডি এম আতিকুর রহমান জানিয়েছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে প্রকৃত প্রশ্নপত্রের আংশিক মিল পাওয়ায় পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদটি ১১তম গ্রেডের। মাত্র ২৪২টি পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ আবেদন জমা পড়ায় প্রতিটি পদের জন্য গড়ে প্রায় ১ হাজার ২৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে অনেক প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন।নতুন তারিখ ঘোষণার ফলে প্রার্থীরা আবারও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে আগের দিনের আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তি নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ এখনো কাটেনি।ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজনের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে যাতায়াত ও আবাসন বাবদ তাঁদের যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও করতে হবে।

নবম পে স্কেলে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত মূল বেতন বাড়ানোর সুপারিশ

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে স্কেলে গ্রেডভেদে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্যই নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।নতুন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে।নবম পে স্কেলের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সচিব কমিটির সব সদস্য ইতিমধ্যে স্বাক্ষর করেছেন। এর ফলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে।সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে নবম পে স্কেল নিয়ে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে নতুন বেতন কাঠামোকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।ই-বুকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটি মিলিয়ে এ খাতে মোট বরাদ্দ ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।কমিশনের সুপারিশে বেতন বৃদ্ধির হার বেশি ছিলঅষ্টম বেতন কমিশন গঠনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে চেয়ারম্যান করে গঠিত কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।পরে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ তৈরির জন্য ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, প্রতিরক্ষা সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।এর আগে ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোয় বেতন-ভাতা পাওয়ায় মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।নবম পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে পারে সরকারি চাকরিজীবীদের। তবে বেতন বৃদ্ধির চূড়ান্ত হার, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং বিভিন্ন ভাতার কাঠামো সম্পর্কে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

নবম পে স্কেলে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত মূল বেতন বাড়ানোর সুপারিশ