ঢাকা    শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
প্রকল্প পরিচালকদের কেনাকাটায় ক্ষমতা বাড়ল, সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা

প্রকল্প পরিচালকদের কেনাকাটায় ক্ষমতা বাড়ল, সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা

সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো এবং ক্রয়প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমাতে মন্ত্রণালয়, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প পরিচালকদের আর্থিক ক্ষমতা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্তে কিছু ক্ষেত্রে আগের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে অর্থ বিভাগ। নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়গুলোর উন্নয়ন প্রকল্প ও পরিচালন খাতে পূর্তকাজ এবং পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যয়ের সীমা বাড়ানো হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পে পূর্তকাজ এবং পণ্য, যন্ত্রপাতি ও মালামাল কেনার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় অনুমোদন করতে পারবে। আগে এই সীমা ছিল ৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ উন্নয়ন প্রকল্পে এসব খাতে মন্ত্রণালয়ের আর্থিক ক্ষমতা ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। পরিচালন বাজেটের আওতায়ও পূর্তকাজে মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের সীমা ১০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। তবে পরিচালন খাতে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সীমা ৫০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। এ খাতে পণ্য ক্রয়ের ক্ষমতা আগের তুলনায় বাড়ানো হয়নি। পরামর্শক নিয়োগেও বাড়ল সীমা উন্নয়ন বাজেটের কোনো প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের ব্যয়ের ক্ষমতা ১০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ কোটি টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের ভৌত সেবা—যেমন ক্যাটারিং, অ্যাম্বুলেন্স, মেরামত ও পরিবহন—সংক্রান্ত কাজে ব্যয়ের সীমা বাড়িয়ে ১৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, করপোরেশন এবং সরকারি বা যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণ বা স্থাপনা কাজে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত নিজস্ব সিদ্ধান্তে ব্যয় করতে পারবে। পরিচালন খাতেও এই সীমা ৩০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। পণ্য কেনার ক্ষেত্রেও উন্নয়ন ও পরিচালন—দুই খাতেই পরিচালনা পর্ষদের ব্যয়সীমা ৩০ কোটি টাকা করা হয়েছে। পরামর্শক সেবার চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের সীমা ৮ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। নির্বাহী প্রধানদের ক্ষমতা বাড়ল পরিবর্তন এসেছে এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী প্রধান—যেমন মহাপরিচালক, চেয়ারম্যান বা সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের আর্থিক ক্ষমতায়ও। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাহী প্রধান এককভাবে সর্বোচ্চ ২৫ কোটি টাকা পর্যন্ত পূর্তকাজ অনুমোদন করতে পারবেন। আগে এ সীমা ছিল ২০ কোটি টাকা। পণ্য ও যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে নির্বাহী প্রধানের ক্ষমতা ৭ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ কোটি টাকা করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগের চুক্তি অনুমোদনের ক্ষমতা ৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ কোটি টাকা করা হয়েছে। পরিচালন বা অনুন্নয়ন খাতে নির্বাহী প্রধানের আর্থিক ক্ষমতা ২০১৫ সালের ১৫ কোটি টাকা থেকে সামান্য বাড়িয়ে ১৬ কোটি টাকা করা হয়েছে। তবে পরিচালন খাতে পণ্য কেনার সীমা আগের মতোই ৮ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালকদের ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) আর্থিক ক্ষমতা প্রকল্পের আকার অনুযায়ী তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ‘ক’ শ্রেণি: ১০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্প ·        পূর্তকাজ: সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা ·        পণ্য ক্রয়: ১০ কোটি টাকা ·        পরামর্শক সেবা: ৫ কোটি টাকা ‘খ’ শ্রেণি: ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প ·        পূর্তকাজ: সর্বোচ্চ ১৫ কোটি টাকা ·        পণ্য ক্রয়: ৫ কোটি টাকা ·        পরামর্শক সেবা: ৩ কোটি টাকা ‘গ’ শ্রেণি: ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্প ·        পূর্তকাজ: সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা ·        পণ্য ক্রয়: ৩ কোটি টাকা ·        পরামর্শক সেবা: ১ কোটি টাকা নতুন সিদ্ধান্তে প্রকল্প পরিচালকদের ব্যয়ের অনুমোদন ক্ষমতা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ। তবে তাঁর মতে, কেনাকাটার ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়াতে হবে। সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদও সময় বাঁচাতে এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক বলেছেন। তিনি বলেন, বাজেটের আকার বেড়েছে, সেই অনুযায়ী ব্যয়ের ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ভালো। তবে অর্থের অপব্যবহার ও অপচয় ঠেকাতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বিশ্লেষকদের মতে, ক্রয় কমিটির অনুমোদন ব্যবস্থা সরকারি ব্যয়ের ওপর নজরদারির একটি অংশ। ব্যয়ের সীমা বাড়ানোর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসতে পারে। তবে একই সঙ্গে জবাবদিহি ও তদারকি নিশ্চিত না হলে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এর আগে ২০১৫ ও ২০১৬ সালের পরিপত্রের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সরকারি সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি বা যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানির নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির অনুমোদন ছাড়াই ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন পরিপত্রে এসব প্রতিষ্ঠানের স্ব-অর্থায়নপুষ্ট প্রকল্পের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের আর্থিক ক্ষমতায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে।