ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
১৫ আগস্ট ঘিরে দেশজুড়ে র‌্যাবের বাড়তি নজরদারি

১৫ আগস্ট ঘিরে দেশজুড়ে র‌্যাবের বাড়তি নজরদারি

১৫ আগস্ট ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সভা-সেমিনার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন থাকবে।র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে সাইবার নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।র‌্যাবের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, মাঠপর্যায়ে নজরদারি, রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে নিরাপত্তা এবং অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।কোনো স্থানে বিস্ফোরক বা বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।প্রতিটি ব্যাটালিয়নে আলাদা পরিকল্পনার‌্যাব সূত্র জানায়, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পৃথক পরিকল্পনা করেছে। এর ভিত্তিতে সংবেদনশীল এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে কোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা তৎপরতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগকারী ব্যক্তি ও তথ্যদাতাদের মাধ্যমে আগাম তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানস্থলে যাতায়াতের রুটগুলোতেও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা কাজ করবেন। তাঁরা সন্দেহজনক ব্যক্তি, যানবাহন ও গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত বা কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়েও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।র‌্যাবের পরিকল্পনায় আরও গুরুত্ব পেয়েছে—নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন যাতে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে বা গোপনে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ না পায়।কর্মসূচির আশপাশে নজরদারিরাজনৈতিক কর্মসূচির অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় র‌্যাব সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো দুষ্কৃতকারী, উগ্রবাদী গোষ্ঠী বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য যাতে কর্মসূচিতে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এ নজরদারির অন্যতম উদ্দেশ্য।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজর১৫ আগস্টের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে কেউ যাতে জনমনে আতঙ্ক কিংবা মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি করতে না পারে, সে জন্য সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে।র‌্যাবের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, মন্তব্য, ছবি বা অন্য কোনো কনটেন্টের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ১৫ আগস্ট ঘিরে অনলাইন প্রচার ও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরির নজির রয়েছে। গত বছরও ধানমন্ডির ৩২ নম্বর এলাকায় ১৫ আগস্ট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা জোরদার করেছিল এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের জমায়েত ঠেকাতে তৎপরতা চালিয়েছিল।প্রস্তুত বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটনিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোথাও বিস্ফোরক বা বিস্ফোরকসদৃশ কোনো বস্তু পাওয়া গেলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে ইউনিটটি।অতীতের বিভিন্ন কর্মসূচির অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখে ১৫ আগস্ট ঘিরে বিস্ফোরক ব্যবহারের আশঙ্কার বিষয়টিও নিরাপত্তা পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান১৫ আগস্ট উপলক্ষে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে র‌্যাব। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে নিজেরা পরিস্থিতি মোকাবিলা না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।