ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ছয় মাসের যুদ্ধেও নত নয় ইরান, বরং বেড়েছে আত্মবিশ্বাস

ছয় মাসের যুদ্ধেও নত নয় ইরান, বরং বেড়েছে আত্মবিশ্বাস

ছয় মাসের যুদ্ধ ইরানকে দুর্বল করার বদলে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলা করে দীর্ঘ সময় সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।শুক্রবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও তাদের মিত্রদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সক্ষমতা নিয়ে তেহরান এখন আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী। কয়েক মাস ধরে সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে ইরানের।মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে যে ইরানের কট্টরপন্থী সরকার সংঘাত আরও বিস্তৃত করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। এ কারণে যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে হিসাবমার্কিন কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করছেন, আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সংঘাত দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করতে পারে ইরান। তেহরানের হিসাব হতে পারে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক চাপের মুখে ফেলবে।ট্রাম্প বর্তমানে আলোচনার পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা হলে ইরান পাল্টা উত্তেজনা বাড়াতে পারে।ক্ষয়ক্ষতির পরও সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে ইরানছয় মাসের সংঘাতে ইরান ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়লেও দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগতভাবে ব্যবহারের সামর্থ্য তেহরানের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।মার্কিন কংগ্রেসের গোয়েন্দা কমিটির সদস্যদের মতে, ইরান মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ তৈরির মতো সক্ষমতা তাদের হাতে এখনো রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ায় ওয়াশিংটনের বড় ধরনের নতুন হামলা চালানোর সক্ষমতাও সীমিত হতে পারে বলে তেহরান মনে করছে।সাইবার হামলার আশঙ্কাসামরিক সংঘাতের পাশাপাশি সাইবার ফ্রন্টও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরান-সমর্থিত হ্যাকাররা জুলাইয়ের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টির বেশি পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা চালিয়েছিল।এসব হামলায় পানি সরবরাহের নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকিতে না পড়লেও কিছু ক্ষেত্রে কার্যক্রম ব্যাহত হয় বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।ইরানি হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর প্রতিও আগ্রহ দেখিয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমিত মাত্রার হামলাও মার্কিন জনগণের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ বাড়াতে পারে।মার্কিন রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাপ্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে মার্কিন রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারেরও চেষ্টা করছে ইরান।মেটা প্ল্যাটফর্মস সম্প্রতি ইরানভিত্তিক কয়েকটি অ্যাকাউন্টের একটি ছোট নেটওয়ার্ক শনাক্ত করেছে। এসব অ্যাকাউন্ট থেকে মার্কিন রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সূত্র: দ্য ডন

ইসরায়েলি সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা

ইসরায়েলের সামরিক খাতের সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নোভামিল সিস্টেমস লিমিটেডের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে প্রবেশ এবং প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অচল করে দেওয়ার দাবি করেছে ‘সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট’ নামের একটি ইসরায়েলবিরোধী হ্যাকার গোষ্ঠী।এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি বলেছে, সর্বশেষ অভিযানে নোভামিলের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামগুলো কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে তারা।‘সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট’ গত বছর আত্মপ্রকাশ করে। গোষ্ঠীটির ঘোষিত লক্ষ্য ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা।গোষ্ঠীটির দাবি, নোভামিল ইসরায়েলের যন্ত্রাংশ সংযোজন, সংবেদনশীল ও অত্যন্ত নিখুঁত যন্ত্রাংশ তৈরি এবং রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত একটি প্রতিষ্ঠান। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতা রয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।নোভামিল যুদ্ধবিমান ও বিভিন্ন সামরিক ব্যবস্থার জন্য নিখুঁত যন্ত্রাংশ তৈরি করে। পাশাপাশি নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নাইট ভিশন, থার্মাল ক্যামেরা এবং লক্ষ্য নির্ধারণের প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন উন্নত সামরিক ব্যবস্থার বৈদ্যুতিক-যান্ত্রিক ও অপটিক্যাল-যান্ত্রিক যন্ত্রাংশ সংযোজনের কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি।এক টেরাবাইট তথ্য সংগ্রহের দাবিসাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট জানিয়েছে, গত ছয় মাসে তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়া কয়েকটি দলের তৈরি নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে নোভামিলের একটি কারখানার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা হয়।গোষ্ঠীটির ভাষ্য, অভিযানে নোভামিলের প্রায় এক টেরাবাইট সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানার কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত নিখুঁত যন্ত্রপাতি বা সিএনসি এবং নেটওয়ার্কের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া হয়েছে।এতে নোভামিলের উৎপাদন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। তবে তাদের দাবির বিষয়ে নোভামিল বা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্যের কথা এখানে উল্লেখ করা হয়নি।কর্মীদের সতর্কবার্তা‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট নোভামিলের কর্মীদেরও সতর্ক করেছে।বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি বলেছে, নোভামিলের কর্মীদের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য তাদের হাতে রয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে তারা।গোষ্ঠীটির দাবি, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে নোভামিলের সহযোগিতার বিষয়ে তারা যে বিপুল তথ্য সংগ্রহ করেছে, প্রকাশ করা তথ্য তার সামান্য অংশ। তবে এসব তথ্যের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করেনি তারা।আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হামলার দাবিএর আগে ইসরায়েলের সামরিক খাতের ১০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোয় হামলা চালানোর দাবি করেছিল সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিজেডএমটি, ইমকো, মায়া ও কার্সোমেটালসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।এসব হামলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার দাবিও করেছিল গোষ্ঠীটি।প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ‘সাইবার অবরোধ’ চালানোকে নিজেদের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করে আসছে সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট। নোভামিলের বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযানকে সেই কৌশলের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছে গোষ্ঠীটি।

ইসরায়েলি সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা