ঢাকা    শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
সিনেমা হল আধুনিকায়নে ১ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ বিবেচনায়

সিনেমা হল আধুনিকায়নে ১ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ বিবেচনায়

দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়ন, সিনেমা হলের আধুনিকায়ন এবং প্রেক্ষাগৃহে দর্শক ফেরাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এ ক্ষেত্রে সিনেমা হল মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী সমিতিসহ চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। এরই অংশ হিসেবে সিনেমা হল মালিকদের সমস্যা ও দাবিদাওয়া জানতে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে।১ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে আলোচনাসিনেমা হল টিকিয়ে রাখতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এ অর্থ ছাড়ের বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বরাদ্দের অর্থ শুধু সিনেপ্লেক্সের জন্য নয়, প্রচলিত একক পর্দার সিনেমা হলগুলোর আধুনিকায়নেও কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।দর্শক ফেরাতে মানসম্মত চলচ্চিত্রের ওপর গুরুত্বমোবাইল ফোন ও হোম থিয়েটারের প্রসারের কারণে সিনেমা হলের প্রয়োজনীয়তা কমে যাবে—এমন ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, বড় পর্দায় একসঙ্গে চলচ্চিত্র দেখার অভিজ্ঞতা ঘরে বসে সিনেমা দেখার চেয়ে আলাদা।বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সিনেমা হল সফলভাবে চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সিনেমা হলগুলো কেন টিকে থাকতে পারছে না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।প্রেক্ষাগৃহে দর্শক বাড়াতে ভালো মানের চলচ্চিত্র নির্মাণের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি সিনেমা হলের টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে দ্রুত ই-টিকেটিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনকে (বিএফডিসি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনাবিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির ক্ষেত্রে দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেন ইয়াসের খান চৌধুরী। শুধু বিদেশি চলচ্চিত্রের ওপর নির্ভর না করে দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি ও প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানান তিনি।একই সঙ্গে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বিদেশে প্রদর্শন ও রপ্তানির মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের সুযোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।দক্ষ শিল্পী তৈরির লক্ষ্যে বিএফডিসির মাধ্যমে ‘প্রতিভার সন্ধানে’ কর্মসূচি চালুর কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।সভায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শরফুদ্দীন এলাহী চৌধুরীসহ সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সিনেমা হলের সংকট, আধুনিকায়ন, অর্থায়ন, চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি এবং দর্শক বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।প্রতিমন্ত্রী সমিতির নেতাদের দাবিদাওয়াগুলো লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলেন। এসব দাবি পর্যালোচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাসও দেন তিনি।

দাপ্তরিক প্রক্রিয়া ও বোর্ড সভা ছাড়াই সিনেমা হলের প্লটে শান্তাকে বাণিজ্যিক অনুমতি

রাজধানীর গুলশান-১–এর সিনেমা হলের জন্য বরাদ্দ করা চারটি প্লট একীভূত করে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন পেয়েছে বেসরকারি আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান শান্তা হোল্ডিংস। অভিযোগ উঠেছে, এ অনুমোদন দিতে রাজউকের প্রচলিত দাপ্তরিক প্রক্রিয়া ও বোর্ড সভার নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আপত্তি থাকলেও রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের নির্দেশে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে রাজউকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।রাজধানীর গুলশান (দক্ষিণ) বাণিজ্যিক এলাকার ১৪, ৩৭, ৪১ ও ৪৩ নম্বর প্লট ১৯৭৫ সালে ৯৯ বছরের জন্য ‘বাণীচিত্র’ ও ‘চলচ্চিত্র’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বরাদ্দের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল, সেখানে সিনেমা হল নির্মাণ করতে হবে। অন্য কোনো কাজে জমিগুলো ব্যবহার করা যাবে না।তবে প্রায় পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও ওই প্লটগুলোতে সিনেমা হল নির্মাণ হয়নি। পরে আম-মোক্তারনামার মাধ্যমে প্লটগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় শান্তা হোল্ডিংস। ২০২৩ সালের ১৬ জুলাই প্রতিষ্ঠানটি ১৪ নম্বর প্লটসহ চারটি প্লট একীভূত করার আবেদন করে। বড় আকারের একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণই ছিল এর লক্ষ্য।আপত্তি ছিল রাজউকের কর্মকর্তাদেরচারটি প্লট একীভূত করার আবেদনটি রাজউকের বিভিন্ন শাখায় দীর্ঘদিন ঘুরেছে। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আম-মোক্তারনামা নিয়ে বিরোধ, আদালতের নির্দেশ এবং প্লটের ব্যবহার পরিবর্তনের বিষয়সহ বিভিন্ন আইনি জটিলতা নিয়ে কর্মকর্তাদের আপত্তি ছিল।রাজউকের একাধিক সূত্রের দাবি, শুরু থেকেই ফাইলটি নিয়ে চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের বিশেষ আগ্রহ ছিল। কর্মকর্তাদের আপত্তি সত্ত্বেও ফাইলটি এগিয়ে নিতে ওপরের মহল থেকে তৎপরতা ছিল বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ফাইলটি পাস করিয়ে নিতে শান্তা হোল্ডিংস রাজউক ভবনে অন্তত অর্ধশত কোটি টাকা খরচ করেছে। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।নথি অনুযায়ী, ২১ জুলাই চারটি প্লট একীভূত করার অনুমোদনপত্র জারি এবং প্রয়োজনীয় ফি গ্রহণে আইনগত বাধা আছে কি না, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইমাম হাছানের মতামত চায় রাজউক। জবাবে তিনি জানান, এতে আইনগত বাধা নেই।এর পরদিন, ২২ জুলাই, রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম অনুমতিপত্র জারির নির্দেশ দেন। একই দিনে চারটি প্লট একীভূত করার ফি জমা দেওয়ার অনুমোদনপত্র জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন রাজউকের উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-১) মো. নজরুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মো. আশরাফ আলী।চারটি প্লটের মোট আয়তন প্রায় ২২ বিঘা ১৮ কাঠা। এ জমির বিপরীতে একীভূতকরণ ফি রাজউক কোষাগারে জমা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে শান্তা হোল্ডিংস।আইন শাখা ও বোর্ড সভা নিয়ে প্রশ্নরাজউকের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, আইনগত বিষয়ে মতামতের জন্য সংস্থাটির নিজস্ব আইন শাখা রয়েছে। কোনো আবেদনে আইনি জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে তা আইন শাখায় পাঠিয়ে মতামত নেওয়ার পর প্রশাসনিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এরপর বিষয়টি বোর্ড সভায় উপস্থাপনেরও বিধান রয়েছে।কিন্তু শান্তা হোল্ডিংসের ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট এস্টেট ও ভূমি-১ শাখার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মাসুম আলী বেগ লিখিতভাবে আপত্তি জানানোর পরও বিষয়টি বোর্ড সভায় তোলা হয়নি। বরং একজন বেসরকারি আইনজীবীর মতামতের ভিত্তিতে অনুমোদনপত্র জারি করা হয়েছে।চারটি প্লট একীভূত হওয়ায় সেখানে বড় আকারের বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গুলশানের বাসিন্দাদের জন্য নির্ধারিত বিনোদন সুবিধা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।শান্তা হোল্ডিংসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ভবনটির উচ্চতা ৩৫ থেকে ৪০ তলার বেশি হতে পারে। প্রতি তলায় প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার বর্গফুট জায়গা থাকবে। শুরুতে প্রতি বর্গফুটের দাম ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা ধরা হলে প্রকল্পটির সম্ভাব্য মোট বাণিজ্যিক মূল্য দাঁড়াতে পারে হাজার কোটি টাকার বেশি।রাজউকের পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-১) ডা. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, অনুমোদনপত্র জারি করার জন্য কে কী করেছে, তা ফাইলেই লেখা আছে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বাইরে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারবো না।অভিযোগের বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এখানে কোনো কিছু ব্যক্তিগত না। আইনগত উপায়ে সবকিছু করা হয়েছে।

দাপ্তরিক প্রক্রিয়া ও বোর্ড সভা ছাড়াই সিনেমা হলের প্লটে শান্তাকে বাণিজ্যিক অনুমতি