ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

সিনেমা হল আধুনিকায়নে ১ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ বিবেচনায়


ফরিদুল আলম ফরিদ
ফরিদুল আলম ফরিদ স্টাফ রিপোর্টার

সিনেমা হল আধুনিকায়নে ১ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ বিবেচনায়
ছবি: সংগ্রহ

দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়ন, সিনেমা হলের আধুনিকায়ন এবং প্রেক্ষাগৃহে দর্শক ফেরাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এ ক্ষেত্রে সিনেমা হল মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী সমিতিসহ চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। এরই অংশ হিসেবে সিনেমা হল মালিকদের সমস্যা ও দাবিদাওয়া জানতে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে।

১ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা

সিনেমা হল টিকিয়ে রাখতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এ অর্থ ছাড়ের বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বরাদ্দের অর্থ শুধু সিনেপ্লেক্সের জন্য নয়, প্রচলিত একক পর্দার সিনেমা হলগুলোর আধুনিকায়নেও কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

দর্শক ফেরাতে মানসম্মত চলচ্চিত্রের ওপর গুরুত্ব

মোবাইল ফোন ও হোম থিয়েটারের প্রসারের কারণে সিনেমা হলের প্রয়োজনীয়তা কমে যাবে—এমন ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, বড় পর্দায় একসঙ্গে চলচ্চিত্র দেখার অভিজ্ঞতা ঘরে বসে সিনেমা দেখার চেয়ে আলাদা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সিনেমা হল সফলভাবে চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সিনেমা হলগুলো কেন টিকে থাকতে পারছে না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

প্রেক্ষাগৃহে দর্শক বাড়াতে ভালো মানের চলচ্চিত্র নির্মাণের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি সিনেমা হলের টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে দ্রুত ই-টিকেটিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনকে (বিএফডিসি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা

বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির ক্ষেত্রে দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেন ইয়াসের খান চৌধুরী। শুধু বিদেশি চলচ্চিত্রের ওপর নির্ভর না করে দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি ও প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানান তিনি।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বিদেশে প্রদর্শন ও রপ্তানির মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের সুযোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।

দক্ষ শিল্পী তৈরির লক্ষ্যে বিএফডিসির মাধ্যমে ‘প্রতিভার সন্ধানে’ কর্মসূচি চালুর কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।

সভায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শরফুদ্দীন এলাহী চৌধুরীসহ সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সিনেমা হলের সংকট, আধুনিকায়ন, অর্থায়ন, চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি এবং দর্শক বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী সমিতির নেতাদের দাবিদাওয়াগুলো লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলেন। এসব দাবি পর্যালোচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাসও দেন তিনি।

বিষয় : চলচ্চিত্র সিনেমা হল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ই-টিকেটিং

দৈনিক নবকাল

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


সিনেমা হল আধুনিকায়নে ১ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ বিবেচনায়

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়ন, সিনেমা হলের আধুনিকায়ন এবং প্রেক্ষাগৃহে দর্শক ফেরাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এ ক্ষেত্রে সিনেমা হল মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী সমিতিসহ চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। এরই অংশ হিসেবে সিনেমা হল মালিকদের সমস্যা ও দাবিদাওয়া জানতে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে।

১ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা

সিনেমা হল টিকিয়ে রাখতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এ অর্থ ছাড়ের বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বরাদ্দের অর্থ শুধু সিনেপ্লেক্সের জন্য নয়, প্রচলিত একক পর্দার সিনেমা হলগুলোর আধুনিকায়নেও কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

দর্শক ফেরাতে মানসম্মত চলচ্চিত্রের ওপর গুরুত্ব

মোবাইল ফোন ও হোম থিয়েটারের প্রসারের কারণে সিনেমা হলের প্রয়োজনীয়তা কমে যাবে—এমন ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, বড় পর্দায় একসঙ্গে চলচ্চিত্র দেখার অভিজ্ঞতা ঘরে বসে সিনেমা দেখার চেয়ে আলাদা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সিনেমা হল সফলভাবে চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সিনেমা হলগুলো কেন টিকে থাকতে পারছে না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

প্রেক্ষাগৃহে দর্শক বাড়াতে ভালো মানের চলচ্চিত্র নির্মাণের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি সিনেমা হলের টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে দ্রুত ই-টিকেটিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনকে (বিএফডিসি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা

বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির ক্ষেত্রে দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেন ইয়াসের খান চৌধুরী। শুধু বিদেশি চলচ্চিত্রের ওপর নির্ভর না করে দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি ও প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানান তিনি।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বিদেশে প্রদর্শন ও রপ্তানির মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের সুযোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।

দক্ষ শিল্পী তৈরির লক্ষ্যে বিএফডিসির মাধ্যমে ‘প্রতিভার সন্ধানে’ কর্মসূচি চালুর কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।

সভায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শরফুদ্দীন এলাহী চৌধুরীসহ সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সিনেমা হলের সংকট, আধুনিকায়ন, অর্থায়ন, চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি এবং দর্শক বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী সমিতির নেতাদের দাবিদাওয়াগুলো লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলেন। এসব দাবি পর্যালোচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাসও দেন তিনি।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
সিনেমা হল আধুনিকায়নে ১ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ বিবেচনায়
0:00 0:00
1.0x