ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
সিনেমা হল আধুনিকায়নে ১ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ বিবেচনায়

সিনেমা হল আধুনিকায়নে ১ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ বিবেচনায়

দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়ন, সিনেমা হলের আধুনিকায়ন এবং প্রেক্ষাগৃহে দর্শক ফেরাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এ ক্ষেত্রে সিনেমা হল মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী সমিতিসহ চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। এরই অংশ হিসেবে সিনেমা হল মালিকদের সমস্যা ও দাবিদাওয়া জানতে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে।১ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে আলোচনাসিনেমা হল টিকিয়ে রাখতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এ অর্থ ছাড়ের বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বরাদ্দের অর্থ শুধু সিনেপ্লেক্সের জন্য নয়, প্রচলিত একক পর্দার সিনেমা হলগুলোর আধুনিকায়নেও কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।দর্শক ফেরাতে মানসম্মত চলচ্চিত্রের ওপর গুরুত্বমোবাইল ফোন ও হোম থিয়েটারের প্রসারের কারণে সিনেমা হলের প্রয়োজনীয়তা কমে যাবে—এমন ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, বড় পর্দায় একসঙ্গে চলচ্চিত্র দেখার অভিজ্ঞতা ঘরে বসে সিনেমা দেখার চেয়ে আলাদা।বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সিনেমা হল সফলভাবে চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সিনেমা হলগুলো কেন টিকে থাকতে পারছে না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।প্রেক্ষাগৃহে দর্শক বাড়াতে ভালো মানের চলচ্চিত্র নির্মাণের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি সিনেমা হলের টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে দ্রুত ই-টিকেটিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনকে (বিএফডিসি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনাবিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির ক্ষেত্রে দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেন ইয়াসের খান চৌধুরী। শুধু বিদেশি চলচ্চিত্রের ওপর নির্ভর না করে দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি ও প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানান তিনি।একই সঙ্গে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বিদেশে প্রদর্শন ও রপ্তানির মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের সুযোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।দক্ষ শিল্পী তৈরির লক্ষ্যে বিএফডিসির মাধ্যমে ‘প্রতিভার সন্ধানে’ কর্মসূচি চালুর কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।সভায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শরফুদ্দীন এলাহী চৌধুরীসহ সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সিনেমা হলের সংকট, আধুনিকায়ন, অর্থায়ন, চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি এবং দর্শক বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।প্রতিমন্ত্রী সমিতির নেতাদের দাবিদাওয়াগুলো লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলেন। এসব দাবি পর্যালোচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাসও দেন তিনি।

৭৫ বছরে মারা গেলেন অভিনেতা নানা পাটেকর

ভারতের বর্ষীয়ান অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নানা পাটেকর মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে বাড়িতে বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাঁকে গোয়ার মণিপাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।অভিনয়ে পথচলা ‘গমন’ দিয়েনানা পাটেকরের আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকর। ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের মুরুদ-জঞ্জিরায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করেন নানা পাটেকর। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের কাছে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি।অভিনেতার পাশাপাশি পরিচালক ও লেখকঅভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণ ও লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন নানা পাটেকর। তাঁর দীর্ঘ চলচ্চিত্রজীবনে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলীর পরিচয় দিয়েছেন তিনি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ারে সেরা সহ-অভিনেতার পুরস্কারও পেয়েছেন এই অভিনেতা।ক্রান্তিবীর -এ তুমুল প্রশংসাক্রান্তিবীর সিনেমায় প্রতাপনারায়ণ তিলকের চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পান নানা পাটেকর। চরিত্রটির ক্রোধ, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের তীব্র প্রকাশ তাঁর অভিনয়কে আলাদা মাত্রা দেয়। এই সিনেমার জন্য সেরা অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি।এরপর অগ্নিসাক্ষী সিনেমায় মানসিকভাবে বিপজ্জনক এক স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেও জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পান নানা পাটেকর। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছিলেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। 

৭৫ বছরে মারা গেলেন অভিনেতা নানা পাটেকর

স্বামী-সন্তানকে নিয়ে ঢাকাতেই পপির জন্মদিন

জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পপির জন্মদিন আজ। বিশেষ এই দিনটি স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে দেশের বাইরে উদ্‌যাপনের ইচ্ছা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ঢাকাতেই কাটছে তাঁর জন্মদিন। বড় কোনো আয়োজন না থাকলেও পরিবারের সদস্যদের নিয়েই দিনটি কাটাবেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী।চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয়ের সময় জন্মদিন বেশ আড়ম্বরের সঙ্গে উদ্‌যাপন করতেন পপি। নানা ব্যস্ততা এবং বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নিতেই দিন কেটে যেত। তবে এখন অভিনয় থেকে দূরে থাকায় তাঁর ব্যস্ততা ও ভাবনার বড় অংশজুড়ে রয়েছে সংসার।জন্মদিন উপলক্ষে পপি বলেন, ‘আমার স্বামী আদনান আমার ভীষণ খেয়াল রাখে, আজকের দিনটিও সে আনন্দে ভরিয়ে তুলবে। আমাদের একমাত্র সন্তান আয়াতও এই ছোট্ট বয়সে আমাকে বেশ বোঝে। দুজনকে নিয়ে আশা করছি দিনটি সুন্দরভাবে কেটে যাবে। সবার কাছে দোয়া চাই যেন আল্লাহ আমাকে সুস্থ ও ভালো রাখেন।’পপি তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘ডাইরেক্ট অ্যাটাক’।হঠাৎ চলচ্চিত্র থেকে আড়ালে চলে যাওয়ার কারণে তাঁর অভিনীত কয়েকটি সিনেমার কাজ স্থগিত হয়ে যায়। আপাতত অভিনয়ে ফেরার সম্ভাবনা না থাকলেও ভবিষ্যতে প্রযোজক হিসেবে চলচ্চিত্রে ফেরার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন পপি। এ ছাড়া নিজের বায়োপিকে অভিনয়েরও ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। এ জন্য ধীরে ধীরে নিজেকে প্রস্তুত করছেন বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

স্বামী-সন্তানকে নিয়ে ঢাকাতেই পপির জন্মদিন

তমা মির্জার নতুন অধ্যায়, ব্যাংকের ব্র্যান্ড কমিউনিকেশনে চাকরি

অভিনয়ের পাশাপাশি এবার করপোরেট জগতে যুক্ত হলেন চিত্রনায়িকা তমা মির্জা। একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগে যোগ দিয়েছেন তিনি। নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার খবর প্রকাশের পর তাঁর অভিনয় ছাড়ার গুঞ্জন উঠলেও, বিষয়টি নাকচ করেছেন এই অভিনেত্রী।বুধবার (১৯ আগস্ট) নিজের নতুন কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন তমা। তিনি জানান, অভিনয় তাঁর কাছে এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিনয় করে যেতে চান।তমা বলেন, ‘অভিনয় আমার প্রথম ভালোবাসা এবং ভালো লাগার জায়গা। সেখানেই আমি আছি এবং কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি এই নতুন পেশাতেও সময় দেব।’নতুন চাকরিকে জীবনের একটি নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন তমা। তাঁর ভাষায়, অভিনয়জীবনের বাইরে সম্প্রতি তাঁর জীবনে আরেকটি নতুন অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়েছে। নতুন পেশায় কাজ করাকে তিনি দারুণ একটি অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখছেন।তমা বলেন, ‘অভিনয় জীবনের বাইরে একটি নতুন অভিজ্ঞতা সম্প্রতি যোগ হয়েছে আমার জীবনে। এটি আমার জন্য এক দারুণ অভিজ্ঞতা। অভিনয়ের পাশাপাশি এখন থেকে এই পেশাতেও সময় দেব। আমার জন্য দোয়া করবেন, নিজের এই নতুন কাজেও যেন সফল হতে পারি।’নতুন কর্মপরিচয়ের কথা জানিয়ে ব্যাংকের গুলশান প্রধান কার্যালয়ে তোলা একটি ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন তমা। ছবিটি প্রকাশের পর তাঁর সহকর্মী ও বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।অভিনয়ে তমাকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘দাগি’ সিনেমায়। এরই মধ্যে নির্মাতা ভিকি জাহেদের নতুন একটি প্রজেক্টে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। ফলে করপোরেট পেশায় যুক্ত হলেও অভিনয় থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন না তমা মির্জা। নতুন চাকরির পাশাপাশি বড় পর্দায়ও নিয়মিত দেখা যাবে তাঁকে।

তমা মির্জার নতুন অধ্যায়, ব্যাংকের ব্র্যান্ড কমিউনিকেশনে চাকরি

প্রথমবার টিকিটের বিনিময়ে সিনেমা দেখাবে শিল্পকলা একাডেমি

প্রথমবারের মতো দর্শনীর বিনিময়ে সিনেমা প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। এর অংশ হিসেবে আজ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালা মিলনায়তনে তিনটি সিনেমা প্রদর্শিত হবে। প্রতিটি সিনেমার টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা।আজকের প্রদর্শনীতে বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে আকাশ হকের ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’, সন্ধ্যা ৬টায় মোহাম্মদ নূরুজ্জামানের ‘মাস্তুল’ এবং রাত ৮টায় মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’ দেখানো হবে।শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দর্শকদের চলচ্চিত্র দেখার আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিতভাবে দর্শনীর বিনিময়ে সিনেমা প্রদর্শনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।এর আগে ৯ থেকে ১১ আগস্ট রাজধানীর জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ‘একাল-সেকাল’ নামে তিন দিনের চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে ছয়টি সিনেমা প্রদর্শিত হয় এবং উন্মুক্ত এই আয়োজনে দর্শকদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়।সেই সাড়া বিবেচনায় নিয়ে এবার টিকিটের বিনিময়ে সিনেমা প্রদর্শনের কার্যক্রম শুরু করছে শিল্পকলা একাডেমি। দীপক কুমার গোস্বামী জানান, এটি আপাতত পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সপ্তাহে অন্তত এক দিন সিনেমা প্রদর্শনের আয়োজন করা হবে। পর্যায়ক্রমে ঢাকার বাইরের শিল্পকলাগুলোতেও এ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।তিনি বলেন, নিয়মিত সিনেমা প্রদর্শনের মাধ্যমে শিল্পকলা একাডেমিতে দর্শকদের জন্য চলচ্চিত্র দেখার একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চায় কর্তৃপক্ষ।জানা গেছে, আজকের প্রদর্শনী থেকে টিকিট বিক্রির পুরো অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে নীতিমালা চূড়ান্ত হলে টিকিট বিক্রির ৭০ শতাংশ অর্থ পাবেন প্রযোজকেরা। বাকি ৩০ শতাংশ যাবে শিল্পকলা একাডেমির তহবিলে।

প্রথমবার টিকিটের বিনিময়ে সিনেমা দেখাবে শিল্পকলা একাডেমি

ডনের গ্রেপ্তারে সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য ফের সামনে

প্রায় তিন দশক ধরে রহস্যের জট খোলেনি চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ইস্কাটনের বাসায় তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে আত্মহত্যা ও হত্যার- দুই ধরনের দাবি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এর মধ্যে একসময়ের চলচ্চিত্র খলনায়ক আশরাফুল হক ওরফে ডনের গ্রেপ্তারের পর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।গত রোববার সৌদি আরবে যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সালমান শাহ হত্যা মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাঁকে বিমানবন্দর থেকে যেতে দেওয়া হয়নি। পরে সিআইডি তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।সিআইডি সূত্র বলছে, ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ইস্কাটনের বাসায় কী ঘটেছিল, কারা সেখানে ছিলেন এবং কী কারণে মৃত্যুটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানো হয়েছিল- এসব বিষয়ও নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।১২ লাখ টাকার চুক্তির দাবিডনের গ্রেপ্তারের পর মামলার পুরোনো নথি ও জবানবন্দির বিষয়গুলোও সামনে এসেছে। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজসাক্ষী রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ ১৯৯৭ সালে গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা, কয়েকজনের সম্পৃক্ততা এবং অর্থ লেনদেনের কথা বলেছিলেন।রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ওই জবানবন্দিতে সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক ও ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সম্পর্কের জেরে হত্যার পরিকল্পনা এবং ডনের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তির কথা উঠে আসে।তবে রিজভী আহমেদ সাম্প্রতিক বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন। সালমান ও শাবনূরকে ঘিরে তাঁর কিছু বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শাবনূর তাঁর বক্তব্যের কয়েকটি অংশকে পরস্পরবিরোধী বলে দাবি করেছেন।পুরোনো ১৬৪ ধারার জবানবন্দি ও সাম্প্রতিক বক্তব্যের মধ্যে এই পার্থক্য কেন, কোন পরিস্থিতিতে ওই জবানবন্দি দেওয়া হয়েছিল এবং অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণের সঙ্গে এর কতটা মিল রয়েছে- এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।পুরোনো তদন্তে আত্মহত্যার কথাসালমান শাহর মৃত্যুর পর তাঁর বাবা কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ করা হয়।১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি তদন্ত শেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। সেখানে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হয়। পরিবার ওই প্রতিবেদনে আপত্তি জানায়। পরে বিচার বিভাগীয় তদন্তও হয়। ২০১৪ সালের ওই তদন্ত প্রতিবেদনেও হত্যার অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।এরপর ২০১৬ সালে পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংস্থাটি ৬০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দিয়ে জানায়, সালমান শাহকে হত্যা করা হয়নি; তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পরিবার ওই প্রতিবেদনেও নারাজি দেয়।২০২৫ সালে মামলায় নতুন মোড়দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যুর মামলা বাতিল করে ঘটনাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়ার নির্দেশ দেন।এর পরদিন রমনা থানায় ১১ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়। আসামিরা হলেন সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, তাঁর মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, অভিনেতা ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রিজভী আহমেদ।দেহাবশেষ উত্তোলন নিয়েও জটিলতাসালমান শাহর মৃত্যুর তদন্তে দেহাবশেষ উত্তোলন ও পুনরায় ময়নাতদন্তের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা ২০ মে দেহাবশেষ উত্তোলন করে সুরতহাল ও পুনরায় ময়নাতদন্তের আবেদন করেন। ২৪ মে আদালত তা অনুমোদন করেন।পরে ২৩ জুন বাদীপক্ষের আবেদনের পর আগের আদেশ বাতিলের বিষয়ে আদালতে প্রক্রিয়া শুরু হয়। একাধিক প্রতিবেদনে ওই আবেদন মঞ্জুর করে আগের আদেশ বাতিলের কথা জানানো হয়েছে।বাদীপক্ষের যুক্তি ছিল, প্রায় তিন দশক পর দেহাবশেষ থেকে কার্যকর আলামত পাওয়ার সম্ভাবনা কম। পাশাপাশি ধর্মীয় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়।ডনকে ঘিরে সিআইডির প্রশ্নসিআইডি সূত্র জানিয়েছে, ডনের গ্রেপ্তার তদন্তে নতুন তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। তদন্তকারীরা তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে ১৯৯৭ সালের নথি, রিজভীর ১৬৪ ধারার জবানবন্দি, পুরোনো তদন্ত প্রতিবেদন, পরিবারের বক্তব্য এবং নতুন মামলার এজাহার মিলিয়ে দেখবেন।ডনের কাছে ১৯৯৬ সালের ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর অবস্থান, সালমান শাহর সঙ্গে শেষ যোগাযোগ, সামিরা ও অন্য আসামিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং ১২ লাখ টাকার কথিত চুক্তির বিষয়ে জানতে চাওয়া হতে পারে।ঘটনার দিন ইস্কাটনের বাসায় যাঁরা গিয়েছিলেন, সালমানকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় যাঁরা সঙ্গে ছিলেন এবং পরে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থার কাছে যাঁরা বক্তব্য দিয়েছেন, তাঁদের বক্তব্যও নতুন তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হতে পারে।মায়ের দাবি, তদন্তে গতি আনতে হবেসালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ডনের গ্রেপ্তারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি মনে করেন, একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করলেই তদন্ত শেষ হওয়ার সুযোগ নেই।তিনি ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের তথ্য বের করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মামলার অন্য আসামিদের, বিশেষ করে সামিরা হক, লতিফা হক লুসি ও আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।৩০ আগস্ট প্রতিবেদন জমার দিনসিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, এজাহারভুক্ত চার নম্বর আসামি ডনকে গ্রেপ্তার করা তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ও রহস্য উদ্ঘাটনে আইনানুগ সব পথ অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ডনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা এরই মধ্যে আটবার পেছানো হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই আদালত আগামী ৩০ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য করেন।ডনের গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভক্তদের অনেকে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। রিজভী আহমেদের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং শাবনূরের প্রতিক্রিয়াও আলোচনায় এসেছে।তবে প্রায় তিন দশক পর নতুন করে সামনে আসা পুরোনো নথি, জবানবন্দি ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কোনটি কতটা সত্য- তার উত্তর এখন নির্ভর করছে সিআইডির চলমান তদন্তের ওপর।

ডনের গ্রেপ্তারে সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য ফের সামনে