সিলেটের জৈন্তাপুরে মিনাটিলা সীমান্ত ফাঁড়ি (বিওপি) থেকে এক বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে বিওপির একটি টাওয়ার থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত বিজিবি সদস্যের নাম জামিল আহমেদ শিষ (২০)। তিনি সিলেট ব্যাটালিয়ন-৪৮ বিজিবির অধীন মিনাটিলা বিওপিতে কর্মরত ছিলেন।বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৩০ মিনিট থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে কোনো একসময় বিওপির টাওয়ারে গলায় ফাঁস দিয়ে জামিল আহমেদ আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।ওসি বলেন, গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় বিজিবি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলিতে সোহাগ মিয়া (২০) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি ওই এলাকার শফিক মিয়ার ছেলে।সোমবার সকালে সীমান্ত এলাকায় গরু আনতে গেলে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।নিহত সোহাগের চাচা আব্দুল কাদির বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে সীমান্ত এলাকায় গরু আনতে গিয়েছিলেন সোহাগ। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালান।গুলির পর সোহাগকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরিবারের সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সীমান্ত এলাকায় পড়ে থাকা অবস্থায় তাঁকে দেখতে পান তাঁর চাচা আব্দুল কাদিরসহ কয়েকজন। তাঁরা সোহাগকে উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সিরাজাম মুনিরা পরীক্ষা করে সোহাগকে মৃত ঘোষণা করেন।পুলিশ নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।
ভারত সীমান্তঘেঁষা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লায় মাদক চোরাচালান কমেনি। বরং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো কারবারিদের জায়গায় নতুন পৃষ্ঠপোষক ও নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।সীমান্তের বিভিন্ন দুর্গম পথ, নদীপথ ও কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ও মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক দেশে ঢুকছে। এসব চালান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। নারী ও শিশুদেরও বাহক হিসেবে ব্যবহার করার তথ্য পাওয়া গেছে। কুড়িগ্রামে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে ১২১ কেজি গাঁজা, ৬ হাজার ৮১১টি ইয়াবা, ১ হাজার ৬টি ফেনসিডিল, ২২০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ১৪ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৭৮টি মামলা হয়েছে এবং ১৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তেও মাদক চোরাচালান অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সরাইল ব্যাটালিয়নের অভিযানে ছয় কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি মূল্যের মাদক জব্দ করা হয়েছে। কুমিল্লায় গত তিন বছরে বিজিবি প্রায় ২০ হাজার ২০০টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দ করেছে। এসব অভিযানে ৫২৬ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, মাদক কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে সিসি ক্যামেরা, নদীপথ, যানবাহনের গোপন কুঠুরি এবং বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে। কোথাও কোথাও উল্টো পুলিশের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে সিসি ক্যামেরা বসানোর তথ্যও পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের যোগসাজশ এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও রয়েছে। ফলে ছোট কারবারিরা গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের চিংড়িঘের সংলগ্ন এলাকায় থেমে থেমে সারারাত গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) রাত থেকে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত টেকনাফের হ্নীলা সীমান্তের ওপারে নাকপুরা ও খড়ের দ্বীপ এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।তবে গোলাগুলি কোন পক্ষের মধ্যে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওই এলাকায় রোহিঙ্গাদের কয়েকটি সশস্ত্র সংগঠনের পাশাপাশি মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির উপস্থিতি রয়েছে।হ্নীলা মৌলভীবাজার এলাকার বাসিন্দা বাদশাহ মিয়া বলেন, সোমবার রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ভোররাত পর্যন্ত থেমে থেমে গোলাগুলির বিকট শব্দ শোনা গেছে। মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্তের মাছের ঘের এলাকা থেকে এসব শব্দ হ্নীলার এপারে আসছিল। এতে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।বাদশাহ মিয়া বলেন, পরে খোঁজ নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, গোলাগুলির ঘটনা মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে ঘটেছে।তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় বসবাস করায় সবসময় এক ধরনের উদ্বেগ কাজ করে। মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে আরাকান আর্মির পাশাপাশি রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও সক্রিয় রয়েছে। অনেক সময় মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলি হয়। এতে সীমান্তের এপারে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে দুটি গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা সম্পর্কে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এটি ডাকাত দলের মধ্যে সংঘর্ষ হতে পারে। আবার আরাকান আর্মির সঙ্গে ডাকাত দলের গোলাগুলিও হতে পারে। বিষয়টি তাঁরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না।তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের সীমান্তের খড়ের দ্বীপ এলাকা থেকে একটি নৌকায় করে কয়েকজন লোক প্রাণভয়ে এপারে আসার চেষ্টা করছিলেন। পরে বিজিবির পক্ষ থেকে ফায়ার করা হলে তাঁরা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেননি।সীমান্তে বিজিবির পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।