ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, ভাতিজা আটক

দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, ভাতিজা আটক

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পারিবারিক কলহের জেরে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে সুধা রানী মন্ডল (৫৫) নামের এক নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ভাতিজা রমেশ মন্ডলের (৩৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের মা কমলা রানী মন্ডল (৫০) ও চাচাতো ভাই সমীর কুমার মন্ডল (২৮) গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর রমেশ মন্ডলকে আটক করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে শ্যামনগর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাদঘাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।নিহত সুধা রানী মন্ডল ওই গ্রামের মধুসূদন মন্ডলের স্ত্রী। অভিযুক্ত রমেশ মন্ডল একই গ্রামের শ্রীদাম মন্ডলের ছেলে। আহত সমীর কুমার মন্ডল নিহত সুধা রানীর ছেলে এবং রমেশের চাচাতো ভাই।প্রাথমিক তথ্যমতে, পারিবারিক কলহের জেরে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে রমেশ মন্ডল তাঁর মা, চাচি ও চাচাতো ভাইকে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপান। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন।পরে পরিবারের সদস্যরা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুধা রানী মন্ডলকে মৃত ঘোষণা করেন।আহত সমীর কুমার মন্ডলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত কমলা রানী মন্ডল শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত সুধা রানীর মরদেহ ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত রমেশ মন্ডলকে আটক করা হয়েছে।

রংপুরে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের উদ্বেগ

রংপুর নগরীতে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।শনিবার রাতে নগরের মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তাঁদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।একটি পুরো পরিবারকে এভাবে হত্যার ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লোমহর্ষক বলে উল্লেখ করেন জামায়াতের আমির। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সামাজিক অপরাধ, খুন-খারাবি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।ঢাকায় এক চিকিৎসকের কাছে ডলারে চাঁদা দাবি ও তাঁকে হামলার ঘটনা এবং ময়মনসিংহে এক পশুচিকিৎসকের কাছে চাঁদা দাবি করে হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। এসব ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বাহিনীর নির্লিপ্ততা সাধারণ মানুষকে শঙ্কিত করে তুলেছে। রংপুরের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।একই সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। একের পর এক অপরাধের ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগীরা যথাযথ বিচার পাচ্ছেন না- এতে মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।সরকারের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সবাইকে সম্মিলিতভাবে সামাজিক সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশবাসীর নিরাপত্তার জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন।

রংপুরে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের উদ্বেগ

চোর সন্দেহে তরুণকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ২

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে চোর সন্দেহে বাদশা (২৭) নামে এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় মাজেদুল ইসলাম (১৯) নামে আরও এক তরুণ গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।নিহত বাদশা ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের নলপুকুর গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা জামালের ছেলে। আহত মাজেদুল ইসলামও একই এলাকার বাসিন্দা।আটক ব্যক্তিরা হলেন জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আজিমুল হক ও ওই ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী সাইফুল ইসলাম সজীব।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত সাড়ে নয়টার দিকে জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনে চুরি বা অবৈধভাবে প্রবেশের সন্দেহে বাদশা ও মাজেদুলকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের একটি পোল্ট্রি খামারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাতভর তাঁদের মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।নির্যাতনের একপর্যায়ে দুই তরুণ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁদের হাত-পা বেঁধে ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর পদ্মপুকুর এলাকার সড়কের পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ।শনিবার ভোরে কয়েকজন স্থানীয় মাছ শিকারি সড়কের পাশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দুই তরুণকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। এ সময় বাদশাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। গুরুতর আহত মাজেদুলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।আহত মাজেদুল ইসলাম বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হলেও তাঁরা বারবার তা অস্বীকার করেন। এরপরও তাঁদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় এবং চুরির কথা স্বীকার করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে ভোরে জ্ঞান ফিরলে পাশে বাদশার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।ঘটনাটি জানাজানি হলে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফ হোসেন জানান, বাদশা হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আজিমুল হক ও কর্মচারী সাইফুল ইসলাম সজীবকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

চোর সন্দেহে তরুণকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ২

মাদকের টাকার জন্য মাকে হত্যা, ছেলে আটক

ঝিনাইদহের মহেশপুরে মাদকের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে শখের বানু (৫৭) নামের এক নারীকে তাঁর ছেলে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার ভোরে উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত শখের বানু ওই গ্রামের মৃত জিকুর হোসেনের স্ত্রী। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাঁর ছেলে ইখলাসুর রহমানকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।স্থানীয়দের ভাষ্য, ইখলাসুর মাদকাসক্ত। মাদক সেবনের টাকা চাওয়া নিয়ে প্রায়ই মায়ের সঙ্গে তাঁর ঝগড়া হতো। বৃহস্পতিবার রাতেও টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মা-ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।পরে ভোররাতে ইখলাসুর মায়ের ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে জবাই করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ। হত্যার পর তিনি ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে পুলিশে দেন।মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, মাদক সেবনের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সন্তান তাঁর মাকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।ওসি জানান, সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে নিহত নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর গ্রামের পার্শ্ববর্তী একটি স্থান থেকে ইখলাসুর রহমানকে আটক করা হয়েছে।

মাদকের টাকার জন্য মাকে হত্যা, ছেলে আটক