ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
হামের টিকাদানে চার বছরের বিলম্বে প্রাণহানি, দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

হামের টিকাদানে চার বছরের বিলম্বে প্রাণহানি, দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

হামের টিকাদান কর্মসূচিতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দীর্ঘ চার বছর গাফিলতি ও বিলম্বের কারণে বহু শিশুর প্রাণহানি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে দেশজুড়ে বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।শনিবার বনানীর কড়াইল টিএনটি খেলার মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় ধাপে হামের টিকা ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।তিনি জানান, দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৩৩ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় সরকারকে সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বরের পর প্রতি চার বছরে একবার ব্যাপক পরিসরে এসব রোগের বিরুদ্ধে টিকাদান কর্মসূচি চালুর দায়িত্ব সরকারের ছিল। কিন্তু ২০২০ সালের পর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এ কর্মসূচি বন্ধ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।টিকা সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর ভাষ্য, ইউনিসেফের ডেলিগেটেড ওয়েতে সরাসরি টিকা কেনার পরিবর্তে আগের সরকার ওপেন টেন্ডার পদ্ধতিতে যেতে চেয়েছিল। বিদেশি সংস্থাগুলো একাধিকবার অনুরোধ করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। এতে টিকা সংগ্রহে সময়ক্ষেপণ হয় এবং চার বছরের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, দায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমান সরকারকে তার খেসারত দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ পরিস্থিতিতে দেশের অনেক মাকে কষ্ট পেতে হয়েছে, অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে। ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৩৩ জন রোগীর মধ্যে প্রায় এক হাজার শিশু মারা গেছে বলেও তিনি জানান। তাঁর মতে, একটি শিশুর মৃত্যুও অত্যন্ত দুঃখজনক এবং একটি মায়ের সন্তান হারানোর কষ্ট অত্যন্ত গভীর।তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৫ এপ্রিল থেকে তিন পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ইউনিসেফ নির্ধারিত তিনটি ধাপে ১৮টি জেলায় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরবর্তী সময়ে ঢাকা ও আরও দুটি বড় সিটি করপোরেশনকে কর্মসূচির আওতায় আনা হয়। এরপর ৪ মে থেকে কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও তা এগিয়ে এনে ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়।স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, এরই মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পেইনে বাদ পড়া আরও ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য চলমান এ ক্যাম্পেইন আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। জরুরি প্রয়োজনের জন্য ১০ লাখ টিকা সংরক্ষিত রয়েছে এবং স্বাভাবিক টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গেও এসব টিকা দেওয়া অব্যাহত থাকবে। হামের পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের পুষ্টির ঘাটতির বিষয়টিও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চিকিৎসকদের মতে, হাম আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া ও অপুষ্টি। অনেক শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি না থাকায় হাম হলে দ্রুত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। গুরুতর অবস্থায় তাদের ফুসফুসে অক্সিজেন প্রবেশেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

হাম-রুবেলা টিকায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল, টিকা পেয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ শিশু

চলমান হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত সারাদেশে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার ৭২০ জন শিশু টিকা নিয়েছে। সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ১০৯ দশমিক ৮ শতাংশ শিশু টিকার আওতায় এসেছে।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের মার্চের শেষ দিকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর সরকার দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। এর প্রথম ধাপে ৫ এপ্রিল দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।এরপর দ্বিতীয় ধাপে ১২ এপ্রিল ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ—এই চার সিটি করপোরেশনে টিকাদান শুরু করা হয়। সর্বশেষ ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়, যা এখনো চলমান।তবে দেশে এখনো হামের প্রাদুর্ভাব থাকায় আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে হাম প্রতিরোধে সরকার নতুন করে ব্যাপক টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছে।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুরুতে সারাদেশে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে টিকাদানের হার।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন শিশুকে টিকা দেওয়া। কিন্তু ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টিকা নিয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার ৭২০ জন শিশু।বিভাগভিত্তিক টিকাদানস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-রুবেলা টিকার সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে ১১ লাখ ১০ হাজার ৬৯৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৮ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪ জন, ঢাকা বিভাগে ৪৯ লাখ ১৯ হাজার ৯১৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৬ লাখ ৯৫ হাজার ৭৭৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৯১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ২২ লাখ ১৩ হাজার ১৯৭ জন, রংপুর বিভাগে ২০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৮৮ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৫ জন শিশু হাম-রুবেলার টিকা পেয়েছে।সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে বরিশালে ৪৪ হাজার ১১৯ জন, চট্টগ্রামে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৭০ জন, কুমিল্লায় ৪৮ হাজার ৬৪৩ জন, ঢাকা উত্তরে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮৮ জন, ঢাকা দক্ষিণে ৪ লাখ ১৮ হাজার ৯৭২ জন, গাজীপুরে ২ লাখ ৬ হাজার ৯২৭ জন, নারায়ণগঞ্জে ৮৩ হাজার ৬৯৭ জন, খুলনায় ৯৬ হাজার ৭৯২ জন, ময়মনসিংহে ৬২ হাজার ৩০৫ জন, রাজশাহীতে ৬৩ হাজার ৫৯ জন, রংপুরে ৮২ হাজার ২৫৩ জন এবং সিলেটে ৭২ হাজার ৩৪৯ জন শিশু টিকা নিয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেন, শিশুদের টিকাদান একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে ব্যাপকভাবে শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেটি সরকারের বাড়তি তৎপরতার অংশ।তিনি বলেন, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য, যাতে কোনো শিশু টিকা গ্রহণ থেকে বাদ না পড়ে।

হাম-রুবেলা টিকায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল, টিকা পেয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ শিশু