দেশে হামের প্রকোপ বেড়েই চলছে। প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩২০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪৪। এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ১০০ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৪৪ শিশুর।একসময় হাম নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। অথচ এখন দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮১ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ২৩৯ শিশু।একই সময়ে ১ হাজার ১৪১ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ৭৯ শিশু।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮। এর মধ্যে ২০ হাজার ২৮২ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪২০ রোগী। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন। হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে আবারও হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এরই মধ্যে অধিকাংশ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে এসে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে।
একসময় হাম নির্মূলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই দেশেই এখন ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯ জনে। এ ছাড়া গত এক দিনে নতুন করে ৮৫৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর দেশে হামে কোনো মৃত্যুর রেকর্ড ছিল না। অথচ চলতি বছর মাত্র ছয় মাসের মধ্যে হামে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে।প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। অনেক পরিবার সন্তানকে বাঁচাতে ধারদেনা করে চিকিৎসার খরচ জোগাচ্ছে, কেউ আবার শেষ সম্বলটুকুও ব্যয় করছেন। আবার সন্তান হারানো পরিবারগুলোকে শোকের পাশাপাশি বহন করতে হচ্ছে ঋণের বোঝাও।২৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবার টিকাদানহামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে আবারও টিকাদান কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, টিকাদান কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে এসে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় টিকাদান কার্যক্রমকে সংক্রমণ মোকাবিলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৯১৭ জন।শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গতকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের এই তথ্য পাওয়া গেছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুদের বড় একটি অংশ জীবনের প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে মায়ের বুকের দুধ পায়নি। একই সঙ্গে মারা যাওয়া শিশুদের ৬৫ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল। এর মধ্যে ১২ শতাংশ ছিল তীব্র অপুষ্টিতে এবং ৫৩ শতাংশ মাঝারি অপুষ্টিতে।বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট (বাশিহাই) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) পরিচালিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।বুধবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে শিশুদের হাম নিয়ে করা গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ সভায় গবেষণার তথ্য তুলে ধরা হয়। গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাশিহাইয়ের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান।৩৫৪ শিশুকে নিয়ে গবেষণাগবেষণায় হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৫৪ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে দেখা যায়, আক্রান্ত শিশুদের ৪৩ শতাংশের বয়স ৩ থেকে ৯ মাসের মধ্যে। এসব শিশুর ৩৮ শতাংশ জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে মায়ের বুকের দুধ পায়নি।মারা যাওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৮২ শতাংশে। অর্থাৎ হামে মারা যাওয়া শিশুদের বড় একটি অংশ জীবনের প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে মায়ের বুকের দুধ পায়নি।গবেষণায় আরও দেখা যায়, মারা যাওয়া শিশুদের ৬৫ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল। এর মধ্যে ১২ শতাংশ তীব্র অপুষ্টি এবং ৫৩ শতাংশ মাঝারি অপুষ্টিতে আক্রান্ত ছিল।টিকা নেওয়ার তথ্যেও পার্থক্যগবেষকেরা বয়স ও টিকা নেওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে ৩৪১ শিশুকে চারটি দলে ভাগ করেন।নিয়মিত টিকা পাওয়ার বয়স হয়নি—এমন ৯ মাসের কম বয়সী ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জনের, অর্থাৎ ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়।টিকা নেওয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জনের বা ৯৭ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়েছে। এক ডোজ টিকা নেওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জনের বা ৯২ শতাংশ এবং দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জনের বা ৭৬ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়েছে।তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, দুই ডোজ টিকা নেওয়া শিশুদের ৭৬ শতাংশের হাম শনাক্ত হওয়ার এই তথ্যকে টিকা নেওয়া শিশুদের মধ্যে হাম আক্রান্ত হওয়ার সাধারণ হার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।কারণ, গবেষণায় অংশ নেওয়া সব শিশুই সন্দেহভাজন হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। ফলে দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ১৬ জনের হাম শনাক্ত হওয়ার হিসাব শুধু এই হাসপাতালভিত্তিক গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।আরও গবেষণার প্রয়োজনগবেষকেরা বলেন, দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও ওই শিশুদের হাম শনাক্ত হওয়ার কারণ জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। টিকা নেওয়ার পর পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি না হওয়া, সময়ের সঙ্গে অ্যান্টিবডির সুরক্ষা কমে যাওয়া, অপুষ্টি কিংবা ব্যক্তিভেদে অন্য কোনো কারণ এতে ভূমিকা রাখতে পারে।তবে এসব সম্ভাব্য কারণের কোনটি সংক্রমণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে, তা বর্তমান গবেষণায় নির্ধারণ করা হয়নি।সভায় বাশিহাই পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক কাজী আহমেদ জাকীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট ৮৬৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৭৭৬ শিশু। এর মধ্যে ৯৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আর ৬৭৭ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে।গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় হামে আক্রান্ত হয়ে দুজন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে।উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ৭৬৯স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৯৮ জন।চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩২ জনের। এ সময়ে ১৭ হাজার ৪০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭২।হাসপাতালে ভর্তি ১ লাখ ১৭ হাজারের বেশিস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৪৪ জন।এ সময়ে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ জন।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।