নরসিংদী জেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ১০০। অথচ সেখানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। ধারণক্ষমতার তিন গুণের বেশি রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ডেঙ্গু ও হামের রোগীর পাশাপাশি শিশু ও বয়স্ক রোগীদেরও মিলছে না শয্যা। বাধ্য হয়ে অনেককে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বারান্দার মেঝেতে। কোথাও আবার একটি শয্যায় থাকছেন দুজন রোগী।
সীমিত জনবল,
চিকিৎসা সরঞ্জাম ও
শয্যা
নিয়ে
অতিরিক্ত রোগীর
সেবা
দিতে
গিয়ে
চাপে
পড়েছেন
চিকিৎসক ও
স্বাস্থ্যকর্মীরা। এ
পরিস্থিতিতে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা, জনবল
ও
চিকিৎসা সরঞ্জাম বাড়াতে
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
করেছেন
রোগী
ও
তাঁদের
স্বজনেরা।
নরসিংদী জেলা
হাসপাতাল জেলার
সাধারণ
মানুষের চিকিৎসার অন্যতম
ভরসাস্থল। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে
হওয়ায়
এখানে
সড়ক
দুর্ঘটনায় আহত
রোগীরাও আসেন।
পাশাপাশি জেলার
বৃহত্তর রায়পুরা উপজেলার একটি
বড়
অংশের
মানুষ
এ
হাসপাতাল থেকে
সেবা
নেন।
উন্নত
যোগাযোগব্যবস্থা ও
সেবার
মানের
কারণে
কিশোরগঞ্জের ভৈরব
থেকে
কাঁচপুর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার
রোগীরাও এখানে
চিকিৎসা নিতে
আসেন।
ফলে
হাসপাতালটিতে রোগীর
চাপ
ক্রমেই
বাড়ছে।
দুই সপ্তাহ ধরে
রোগী
তিন
শতাধিক
হাসপাতাল সূত্রে
জানা
গেছে,
১০০
শয্যার
এ
হাসপাতালে অধিকাংশ সময়ই
দুই
শতাধিক
রোগী
ভর্তি
থাকেন।
তবে
গত
দুই
সপ্তাহ
ধরে
রোগীর
সংখ্যা
তিন
শতাধিক। সর্বশেষ গত
সোমবার
হাসপাতালে ভর্তি
ছিলেন
৩৩৫
জন
রোগী।
তাঁদের মধ্যে
পুরুষ
১০৫
জন,
নারী
১৩২
জন
এবং
শিশু
৯৮
জন।
ভর্তি
রোগীদের মধ্যে
ডেঙ্গু
আক্রান্ত ছিলেন
৩০
জন।
এর
আগের
দিন
হাসপাতালে ভর্তি
রোগীর
সংখ্যা
ছিল
৩১৩।
জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এক
জরিপ
অনুযায়ী, নরসিংদী শহর
ও
আশপাশের এলাকায়
ডেঙ্গুর প্রকোপ
বেশি।
ডেঙ্গু
ও
হামের
রোগীদের পাশাপাশি অন্যান্য রোগে
আক্রান্ত শিশু
ও
বয়স্ক
ব্যক্তিরাও শয্যা
না
পেয়ে
দুর্ভোগে পড়ছেন।
অনেককে
হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে
রেখে
চিকিৎসা দেওয়া
হচ্ছে।
কোথাও
একটি
নির্ধারিত শয্যায়
দুজন
রোগীকেও থাকতে
দেখা
গেছে।
শিশুকে নিয়ে দুই
দিন
ধরে
বারান্দায় আমেনা
রায়পুরা থেকে
ছয়
মাস
বয়সী
শিশুকে
নিয়ে
দুই
দিন
ধরে
হাসপাতালে রয়েছেন
আমেনা
বেগম।
কিন্তু
শয্যা
না
পাওয়ায়
শিশুকে
নিয়ে
থাকতে
হচ্ছে
বারান্দার মেঝেতে।
আমেনা বেগম
বলেন,
‘আমরা
অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। ঢাকায়
নিয়ে
চিকিৎসা করানোর
মতো
লোকও
নেই।
এই
হাসপাতালের সেবার
মান
ভালো।
তাই
সিট
না
পেলেও
বারান্দার মেঝেতে
রেখে
চিকিৎসা নিচ্ছি। তাতেই
আগের
তুলনায়
একটু
ভালো।’
শিবপুরের বাসিন্দা ও
গণমাধ্যমকর্মী মোমেন
খান
ডেঙ্গু
আক্রান্ত হয়ে
এ
হাসপাতালে ভর্তি
হয়েছেন। শয্যা
না
পেয়ে
অন্য
এক
রোগী
বাইরে
যাওয়ার
সুযোগে
তাঁর
বিছানায় শুয়ে
শরীরে
স্যালাইন নিচ্ছেন তিনি।
অপেক্ষা করছেন,
কখন
একটি
শয্যা
খালি
হবে।
মোমেন খান
বলেন,
‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরই বা
কী
করার
আছে?
এক
শয্যার
হাসপাতালে রোগী
প্রায়
সাড়ে
তিন
শ।’
পরীক্ষার চাপও বেড়েছে
রোগীর সংখ্যা
বাড়ায়
চাপ
বেড়েছে
হাসপাতালের পরীক্ষাগারেও। হাসপাতালের ল্যাব
টেকনিশিয়ান শাহ
আলম
বলেন,
আগে
ভর্তি
রোগী
ও
বাইরে
থেকে
আসা
রোগীদের মিলিয়ে
দৈনিক
৭০
থেকে
৮০টি
পরীক্ষা করা
হতো।
এখন
প্রতিদিন দেড়
শতাধিক
পরীক্ষা করতে
হচ্ছে।
লোকবল
কম
থাকায়
কাজ
সামলাতে কিছুটা
কষ্ট
হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক
মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও)
ডা.
মাজহারুল আলম
বলেন,
১০০
জন
রোগীর
চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও
সীমিত
জনবল
ও
লজিস্টিক সুবিধা
দিয়ে
তিন
গুণের
বেশি
রোগীকে
সেবা
দিতে
হচ্ছে।
এতে
অনেক
কষ্ট
হচ্ছে।
তারপরও
রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া
হচ্ছে।
শয্যা ও জনবল
বাড়ানোর দাবি
নরসিংদী ১০০
শয্যাবিশিষ্ট জেলা
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.
এ
এন
এম
মিজানুর রহমান
বলেন,
হাসপাতালটি ১০০
শয্যার
হলেও
অধিকাংশ সময়
দুই
শতাধিক
রোগী
ভর্তি
থাকেন।
বর্তমানে প্রতিদিনই তিন
শতাধিক
রোগী
ভর্তি
থাকছেন। এরপরও
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও
অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করা
হচ্ছে।
তিনি ডেঙ্গুর লক্ষণ
দেখা
দিলে
দ্রুত
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার
আহ্বান
জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হবে। এতে নরসিংদীসহ আশপাশের এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়া সহজ হবে এবং রোগীদের বারান্দার মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নেওয়ার দুর্ভোগ কমবে।