ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
উন্নয়নকাজে কমিশন বাণিজ্য চলবে না: আইনমন্ত্রী

উন্নয়নকাজে কমিশন বাণিজ্য চলবে না: আইনমন্ত্রী

উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের কমিশন বাণিজ্য বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সরকারি বরাদ্দ জনগণের করের টাকা। তাই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণকেও নজরদারি করতে হবে। কোথাও অনিয়ম দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে হবে।শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩ নম্বর দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।আসাদুজ্জামান বলেন, একটি এলাকার সব সমস্যার সমাধান জনপ্রতিনিধিদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে। জনগণের মতামত, গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করে। ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া না হলে জনপ্রতিনিধিদের ভুল পথে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই উন্নয়নকাজের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমেও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সড়ক বা অবকাঠামো নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের করের অর্থে বাস্তবায়িত প্রতিটি প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। বদলি প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং এ নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা দূর করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।মাদকবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, শৈলকূপায় মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধের ক্ষেত্রে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা করা হবে না; আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদকসহ যেকোনো অপরাধে জড়িত ব্যক্তির পক্ষে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তদবির করা গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রতিহিংসার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং সংঘবদ্ধভাবে মানুষকে হয়রানি করার বিরুদ্ধে সমাজকে রুখে দাঁড়াতে হবে। কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ ও দুর্নীতির পক্ষেও অবস্থান নেওয়া যাবে না। ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি।শৈলকূপার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক উন্নয়নসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ চলছে। দিগনগর ইউনিয়নেও নতুন সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সম্প্রতি শৈলকূপার আরও প্রায় ৩৯৫টি সড়ক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তালিকাভুক্ত হয়েছে। এসব সড়কের উন্নয়নকাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে আগামী পাঁচ বছরে উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।মন্ত্রী আরও বলেন, শৈলকূপার উন্নয়নে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পৃথক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার কৃতী সন্তান ও পেশাজীবীদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।দেশের উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা, দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ ও জবাবদিহির সংস্কৃতি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩ নম্বর দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জেড এ ওয়াহেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সচিব খন্দকার শহিদুল ইসলামসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে শৈলকূপার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক ও সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গবেষণাগার তৈরি হয়নি, নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১৮৬ জন

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে পরিচালিত ‘ইমপ্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস প্রজেক্ট’ (আইইউপিএইচপিএসপি)–এ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ এবং জনবল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের শীর্ষ পর্যায়ের অন্তত তিনজন বিশেষজ্ঞের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তের অসংগতি পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের মাসিক বেতন ৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।অভিযোগ অনুযায়ী, অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুযায়ী নির্ধারিত নিয়োগের শর্ত পরিবর্তন করে সংশোধিত টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) তৈরি করা হয়। নিয়োগ পাওয়া বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অন্তত তিনজন ওই টিওআর প্রণয়ন, মূল্যায়ন কমিটি গঠন এবং বাছাইপ্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পাওয়ার আগেই তাঁদের প্রকল্প কার্যালয়ে কাজ করার তথ্যও সামনে এসেছে।শুধু বিশেষজ্ঞ নিয়োগ নয়, ২৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার আউটসোর্সিং চুক্তির মাধ্যমে ২৪০ জন কর্মী নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এর মধ্যে ১৮৬ জনকে একটি প্রস্তাবিত ডেঙ্গু গবেষণাগারের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার নির্মাণকাজের কার্যাদেশ এখনো দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া তিনটি সিটি করপোরেশন ও দুটি পৌরসভার জন্য ৫৪ জন মশা ও বাহক নিয়ন্ত্রণকর্মী নিয়োগ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা এ ধরনের জনবল চাননি।বিশেষজ্ঞ নিয়োগে যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নপ্রকল্পের শীর্ষ পর্যায়ের চারটি পদে রয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব আমিনুল ইসলাম, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. বিল্লাল হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. মহঃ শের আলী এবং হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করা এনামুল হক। তাঁদের পদ যথাক্রমে মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন স্পেশালিস্ট, এনভায়রনমেন্ট স্পেশালিস্ট, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট ও বিহেভিয়ার চেঞ্জ কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট।প্রকল্পের ডিপিপি, সংশোধিত টিওআর, শিক্ষাগত সনদ, অভিজ্ঞতার সনদ এবং অন্যান্য নথি পর্যালোচনার ভিত্তিতে অন্তত তিনজনের নির্ধারিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, তাঁরা যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নিয়োগ পেয়েছেন।টিওআর অনুযায়ী, মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন স্পেশালিস্ট পদে সমাজবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, অর্থনীতি, গণিত, ব্যবসায় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন ১৫ বছরের সাধারণ অভিজ্ঞতা এবং উন্নয়ন সহযোগী বা সরকার-অর্থায়িত সরকারি খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে সাত বছরের কাজের অভিজ্ঞতা।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে এমকম ডিগ্রিধারী আমিনুল ইসলামের জমা দেওয়া নথিতে মনিটরিং ও ইভালুয়েশন বিষয়ে কাজের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি এর আগে পাবলিক ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট, সিনিয়র পাবলিক ফিন্যান্সিয়াল স্পেশালিস্ট এবং সিনিয়র লোকাল গভর্নমেন্ট স্পেশালিস্ট হিসেবে কাজ করার কথা উল্লেখ করেছেন।প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট পদের জন্য ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতি, ব্যবসায় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পাশাপাশি প্রশাসন, সমন্বয়, পরিবীক্ষণ ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার খাতে তিন বছরের অভিজ্ঞতা এবং নগর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বাস্তব অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ পদে নিয়োগ পাওয়া শের আলী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ করেছেন।পরিবেশ ও আচরণ পরিবর্তনবিষয়ক পদেও অসংগতিএনভায়রনমেন্ট স্পেশালিস্ট পদে নিয়োগের শর্ত পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনুমোদিত ডিপিপিতে চাহিদাভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিবেশগত দিক নিয়ে অন্তত পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতার কথা ছিল। এর মধ্যে পরিবেশগত কর্মপরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়ন এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর পরিবেশদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমানোর কাজে অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল।কিন্তু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির টিওআরে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ১৫ বছরের সাধারণ অভিজ্ঞতা এবং উন্নয়ন সহযোগী বা সরকার-সহায়তাপুষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পে ছয় বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. বিল্লাল হোসেন।বিহেভিয়ার চেঞ্জ কমিউনিকেশন (বিসিসি) স্পেশালিস্ট পদেও শর্ত পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে। মূল ডিপিপিতে নৃবিজ্ঞান বা সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, জনসংযোগ বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যোগ্যতা এবং জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সংস্থায় বিসিসি ব্যবস্থাপনায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা অথবা সংশ্লিষ্ট গবেষণায় ১০ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। নগর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বাস্তব অভিজ্ঞতার শর্তও ছিল।অন্যদিকে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির টিওআরে সমাজবিজ্ঞান, জনসংযোগ, মনোবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান অথবা অন্য যেকোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সুযোগ রাখা হয়।এ পদে নিয়োগ পাওয়া এনামুল হক ঢাকা সিটি কলেজ থেকে দ্বিতীয় বিভাগে বিকম এবং জগন্নাথ কলেজ থেকে এমকম পাস করেছেন। তাঁর জীবনবৃত্তান্তে হিসাবরক্ষক, অর্থ ও প্রশাসন সমন্বয়কারী, ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং স্পেশালিস্ট, ফিন্যান্স ম্যানেজার, আঞ্চলিক অর্থ সমন্বয়কারী এবং ফিন্যান্স অ্যাসোসিয়েট (অডিট) হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতার উল্লেখ রয়েছে। তবে বিসিসি ব্যবস্থাপনা বা সংশ্লিষ্ট গবেষণায় ১০ বছরের অভিজ্ঞতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গত ২৯ জুন তাঁকে প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞের দায়িত্বও দেওয়া হয়।নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার অভিযোগপ্রকল্পটি ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়। ১২ জন বিশেষজ্ঞ নিয়োগের জন্য ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তাঁরা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পে যোগ দেন।অভিযোগ রয়েছে, আমিনুল ইসলাম, এনামুল হক ও শের আলী টিওআরের খসড়া তৈরি, মূল্যায়ন কমিটি গঠন এবং বিশেষজ্ঞ বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। আনুষ্ঠানিক নিয়োগের আগেই তাঁরা প্রকল্প কার্যালয়ে বসে কাজ করতেন এবং নিয়োগসংক্রান্ত নথি তৈরিতে সহায়তা করেন।প্রকল্পের শুরুর দিকের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে এনামুল হক আমার দেশ-কে বলেন, শের আলী অতিরিক্ত সচিব থাকার সময় তাঁকে একটি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকা জনস্বাস্থ্য প্রকল্পের কথা জানান। পরে পরিকল্পনা বিভাগ থেকে প্রকল্পের ফাইল এনে কাজ করতে বলেন। এনামুলের ভাষ্য, তাঁরা দুজন মিলে টিওআর তৈরি, কমিটি গঠনসহ পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।শের আলীও প্রকল্পটি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আমার দেশ-কে তিনি বলেন, প্রকল্পের ঋণ নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচক দলের সদস্য ছিলেন তিনি। তবে বড় কোনো প্রকল্প পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাঁর নেই বলেও জানান। স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব থাকাকালে তিনি প্রকল্পটির দেখভাল করেছেন এবং বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়েছেন। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় তাঁর সম্পৃক্ততা স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে কি না, জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দেননি।প্রত্যেকের বেতন ৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকাপ্রকল্পের চার বিশেষজ্ঞ আমিনুল ইসলাম, বিল্লাল হোসেন, শের আলী ও এনামুল হকের প্রত্যেকের মাসিক বেতন ৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। প্রকল্পে তাঁদের জন্য নির্ধারিত প্রাক্কলিত মাসিক ব্যয় ছিল সাড়ে চার লাখ টাকা।শীর্ষ ১২ কর্মকর্তার মধ্যে আরও দুজন একই বেতন পান। তাঁরা হলেন ফিন্যান্সিয়াল স্পেশালিস্ট এস এম আব্দুল মোত্তালিব এবং পাবলিক হেলথ স্পেশালিস্ট ড. শারমিন মিজান।অভিযোগের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম, বিল্লাল হোসেন ও শের আলী আমার দেশ-এর কাছে দাবি করেন, তাঁদের নিয়োগে কোনো সমস্যা নেই। নিজ নিজ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন। এনামুল হকও একই ধরনের দাবি করেন।নিয়োগের সময় দায়িত্বে থাকা প্রকল্প পরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের প্রয়োজন বিবেচনায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে পরামর্শ করে এবং তাদের অনুমোদন নিয়ে টিওআর পরিবর্তন করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে তৈরি করা টিওআর প্রকল্পের প্রত্যাশিত চাহিদা পূরণ করতে পারছিল না।বিশ্বব্যাংকের পর্যালোচনা এখনো অসম্পূর্ণপ্রকল্পের প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক জীবনবৃত্তান্ত পরীক্ষা করে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করেছে। তবে বাকি ১১ জন বিশেষজ্ঞের নিয়োগ নিরীক্ষার কথা প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ইমেইলে জানানো হলেও সেই নিরীক্ষা এখনো সম্পন্ন হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পের চুক্তি ও কেনাকাটার বিষয়েও পরবর্তী পর্যালোচনা করা হয়নি।এ বিষয়ে প্রকল্পটির বিশ্বব্যাংক টাস্ক টিম লিডার ইফফাত মাহমুদ ইমেইলে জানান, প্রকল্পের জনবল নিয়োগের দায়িত্ব বাস্তবায়নকারী সংস্থার। নিয়োগ অবশ্যই সরকারি বিধিবিধান এবং প্রকল্পের সম্মত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুসরণ করে করতে হবে।তিনি আরও জানান, বড় অঙ্কের চুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের তদারকির আওতায় পূর্বানুমোদনভিত্তিক পর্যালোচনা এবং নমুনাভিত্তিক পরবর্তী পর্যালোচনার ব্যবস্থা রয়েছে। জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগ বিশ্বব্যাংক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। প্রকল্পে সম্ভাব্য অনিয়ম বা অসদাচরণ সম্পর্কে তথ্য থাকলে তা বিশ্বব্যাংকের ইন্টেগ্রিটি ভাইস প্রেসিডেন্সিতে জানানো যায়। সংস্থাটি স্বাধীনভাবে ও গোপনীয়তার সঙ্গে এসব অভিযোগ তদন্ত করে।গবেষণাগার নির্মাণের আগেই ১৮৬ জন নিয়োগপ্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য ডেঙ্গুর বাহক মশা নিয়ে গবেষণা করা। এ জন্য ২৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার আউটসোর্সিং চুক্তির মাধ্যমে ২৪০ জন কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গ্রেড ৬ থেকে ২০ পর্যন্ত এসব কর্মী সরবরাহের জন্য গত বছরের ২২ জুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল।প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, নিয়োগের জন্য নির্ধারিত ২৪০টি পদের মধ্যে ১৮৬টি প্রস্তাবিত ‘ইন্টিগ্রেটেড ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট রিসার্চ ল্যাবরেটরি’র জন্য। বাকি ৫৪ জনের ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং সাভার ও নারায়ণগঞ্জের তারাবো পৌরসভায় মশা ও বাহক নিয়ন্ত্রণের কাজে নিয়োজিত থাকার কথা।এর মধ্যে ১৫৮ জন গত জুলাইয়ে যোগ দিয়েছেন এবং বাকি ৮২ জনের শিগগিরই যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষায়িত কয়েকটি পদে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের অনেকের মশা নিয়ন্ত্রণ বা বাহক ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা নেই বলেও অভিযোগ উঠেছে।গবেষণাগার নির্মাণের জন্য ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট দরপত্র প্রকাশ করা হয় এবং ২৭ সেপ্টেম্বর তা খোলা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। গবেষণাগারের যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র কেনার জন্যও কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়নি।অথচ নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের দুই বছরের জন্য প্রকল্পের প্রধান কার্যালয়, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় বণ্টন করা হয়েছে। গবেষণাগার চালু হওয়ার আগেই তাঁদের চাকরির মেয়াদের বড় অংশ, এমনকি কারও কারও পুরো মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের জুনে।চাহিদা ছাড়াই ৫৪ জন নিয়োগ?মশা ও বাহক নিয়ন্ত্রণের কাজে ৫৪ জন নিয়োগের বিষয়ে একাধিক সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই জনবল তাঁদের প্রয়োজন ছিল না। তাঁদের ভাষ্য, অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে অভিজ্ঞতার অভাবও কর্মীদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।২৪০ জন কর্মী নিয়োগের দরপত্র আহ্বান ও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান। বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, টিএমসিও ভবনের উল্লম্ব সম্প্রসারণের জন্য সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (আরডিপিপি) তৈরি এবং নতুন করে ব্যয় প্রাক্কলন করতে সময় লেগেছে। ভবনের কাঠামোগত নথি সংগ্রহ, বিশ্বব্যাংকের আপত্তির পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রকল্পের শতাধিক ইকোনমিক কোডে ভুল থাকায় পুরো ডিপিপি সংশোধনের প্রয়োজন হয়েছিল।হাফিজুল্লাহ খানের দাবি, গবেষণাগারের কর্মীরা বর্তমানে আইসিটি দলের সঙ্গে যন্ত্রপাতি প্রস্তুতের কাজ করছেন। ভবন নির্মাণের দরপত্র খোলার কাজ শেষ হয়েছে; মূল নির্মাণকাজ শুরু হলে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, ২৪০ জন কর্মীকে সবাইকে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়নি; তাঁদের একটি অংশকে তিনটি সিটি করপোরেশন ও দুটি পৌরসভায় পদায়ন করা হয়েছে। শতাধিক কর্মীর একটি অংশকে প্রশিক্ষণ শেষে কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে।বিশেষজ্ঞ নিয়োগের যোগ্যতা, টিওআর পরিবর্তন, বাছাইপ্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং গবেষণাগার চালুর আগেই বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ—সব মিলিয়ে প্রকল্পটির পরিকল্পনা, ব্যয় ও বাস্তবায়ন নিয়ে জবাবদিহির প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট নথির স্বচ্ছ পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকল্পটির নিয়োগ ও ব্যয় ব্যবস্থাপনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

গবেষণাগার তৈরি হয়নি, নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১৮৬ জন

তিন মেট্রোরেল প্রকল্পে অনুমোদন, ব্যয় প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা

রাজধানীতে মেট্রোরেল সম্প্রসারণে তিনটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বুধবার দুপুরে অনুষ্ঠিত একনেকের বৈঠকে প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো হলো মেট্রোরেল লাইন-৫ সাউদার্ন রুট, মেট্রোরেল লাইন-১ এবং মেট্রোরেল লাইন-৫ নর্দান রুট। তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।প্রকল্পগুলোর মধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) অর্থায়িত এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর) এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দান (হেমায়েতপুর-ভাটারা) প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে নতুন এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্পও অনুমোদন দিয়েছে একনেক। তিন প্রকল্পের অনুমোদনের ফলে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মধ্যে মেট্রোরেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে গেল।

তিন মেট্রোরেল প্রকল্পে অনুমোদন, ব্যয় প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা

পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। গত ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।শুক্রবার রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ।সাইট পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় প্রকল্পের প্রয়োজন ছিল। এটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন। তাঁর ভাষ্য, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রকল্পটির নির্মাণে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হবে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট থেকে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপার্ক পর্যন্ত হবে এর অবস্থান।প্রকল্পটির জন্য একনেকের সভায় ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি নদীশাসন, অ্যাপ্রোচ সড়ক, পাকা সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার হিসনা নদী এবং চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা ও গড়াই নদীশাসনের কাজও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পরিচালক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ব্যারেজ নির্মাণের দুই পাড়ের স্থান ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের সাইট পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (ডিজি), প্রধান প্রকৌশলী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।হাসান মাহমুদ আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ১৯ জেলার মানুষ এর সুফল পাবেন। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগের জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পের সুফল পাওয়ার সম্ভাব্য ১৯ জেলার মধ্যে রয়েছে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা এবং দক্ষিণাঞ্চলের রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া।

পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘদিন দুর্নীতি ও দুঃশাসনের চর্চা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছে।মঙ্গলবার দুপুরে ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর দুর্নীতি ও দুঃশাসনের ট্রেন্ড ছিল। এখন জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছে, আমরাও দায়িত্ব নিয়ে দেশ পরিচালনা করছি। এ মুহূর্তে জিরো টলারেন্সে চলে যাব বলব না। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে।’প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই চ্যালেঞ্জ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালীর সন্তান হিসেবে দেশের সব উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করা তাঁরও দায়িত্ব।মন্ত্রী বলেন, কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি যেন প্রকল্পের কাজে প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন, দুর্নীতি বা অন্য কোনো কারণে প্রকল্পের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকবে সরকার। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি নিজেও সতর্ক রয়েছেন বলে জানান।মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহণের কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁকে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই। দ্বিতীয় পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ দিয়েই তা করা হবে।পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বাঁধ ভাঙন ও বন্যার কারণে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমবে। বৃহত্তর এই অঞ্চলের মানুষ প্রকল্পটির সুফল পাবেন।তিনি আরও জানান, আগামী মাসের যেকোনো সময় অথবা মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনীতে এসে প্রকল্পটির কাজ উদ্বোধন করবেন। এ সময় তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন।২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।পরিদর্শনের সময় ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এমএ খালেক, জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেনী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলালসহ সরকারি কর্মকর্তা ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।গত ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ এখনো শুরু হয়নি।প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

প্রকল্প পরিচালকদের কেনাকাটায় ক্ষমতা বাড়ল, সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা

সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো এবং ক্রয়প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমাতে মন্ত্রণালয়, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প পরিচালকদের আর্থিক ক্ষমতা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্তে কিছু ক্ষেত্রে আগের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে অর্থ বিভাগ। নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়গুলোর উন্নয়ন প্রকল্প ও পরিচালন খাতে পূর্তকাজ এবং পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যয়ের সীমা বাড়ানো হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পে পূর্তকাজ এবং পণ্য, যন্ত্রপাতি ও মালামাল কেনার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় অনুমোদন করতে পারবে। আগে এই সীমা ছিল ৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ উন্নয়ন প্রকল্পে এসব খাতে মন্ত্রণালয়ের আর্থিক ক্ষমতা ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। পরিচালন বাজেটের আওতায়ও পূর্তকাজে মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের সীমা ১০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। তবে পরিচালন খাতে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সীমা ৫০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। এ খাতে পণ্য ক্রয়ের ক্ষমতা আগের তুলনায় বাড়ানো হয়নি। পরামর্শক নিয়োগেও বাড়ল সীমা উন্নয়ন বাজেটের কোনো প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের ব্যয়ের ক্ষমতা ১০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ কোটি টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের ভৌত সেবা—যেমন ক্যাটারিং, অ্যাম্বুলেন্স, মেরামত ও পরিবহন—সংক্রান্ত কাজে ব্যয়ের সীমা বাড়িয়ে ১৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, করপোরেশন এবং সরকারি বা যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণ বা স্থাপনা কাজে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত নিজস্ব সিদ্ধান্তে ব্যয় করতে পারবে। পরিচালন খাতেও এই সীমা ৩০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। পণ্য কেনার ক্ষেত্রেও উন্নয়ন ও পরিচালন—দুই খাতেই পরিচালনা পর্ষদের ব্যয়সীমা ৩০ কোটি টাকা করা হয়েছে। পরামর্শক সেবার চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের সীমা ৮ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। নির্বাহী প্রধানদের ক্ষমতা বাড়ল পরিবর্তন এসেছে এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী প্রধান—যেমন মহাপরিচালক, চেয়ারম্যান বা সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের আর্থিক ক্ষমতায়ও। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাহী প্রধান এককভাবে সর্বোচ্চ ২৫ কোটি টাকা পর্যন্ত পূর্তকাজ অনুমোদন করতে পারবেন। আগে এ সীমা ছিল ২০ কোটি টাকা। পণ্য ও যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে নির্বাহী প্রধানের ক্ষমতা ৭ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ কোটি টাকা করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগের চুক্তি অনুমোদনের ক্ষমতা ৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ কোটি টাকা করা হয়েছে। পরিচালন বা অনুন্নয়ন খাতে নির্বাহী প্রধানের আর্থিক ক্ষমতা ২০১৫ সালের ১৫ কোটি টাকা থেকে সামান্য বাড়িয়ে ১৬ কোটি টাকা করা হয়েছে। তবে পরিচালন খাতে পণ্য কেনার সীমা আগের মতোই ৮ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালকদের ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) আর্থিক ক্ষমতা প্রকল্পের আকার অনুযায়ী তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ‘ক’ শ্রেণি: ১০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্প ·        পূর্তকাজ: সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা ·        পণ্য ক্রয়: ১০ কোটি টাকা ·        পরামর্শক সেবা: ৫ কোটি টাকা ‘খ’ শ্রেণি: ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প ·        পূর্তকাজ: সর্বোচ্চ ১৫ কোটি টাকা ·        পণ্য ক্রয়: ৫ কোটি টাকা ·        পরামর্শক সেবা: ৩ কোটি টাকা ‘গ’ শ্রেণি: ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্প ·        পূর্তকাজ: সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা ·        পণ্য ক্রয়: ৩ কোটি টাকা ·        পরামর্শক সেবা: ১ কোটি টাকা নতুন সিদ্ধান্তে প্রকল্প পরিচালকদের ব্যয়ের অনুমোদন ক্ষমতা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ। তবে তাঁর মতে, কেনাকাটার ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়াতে হবে। সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদও সময় বাঁচাতে এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক বলেছেন। তিনি বলেন, বাজেটের আকার বেড়েছে, সেই অনুযায়ী ব্যয়ের ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ভালো। তবে অর্থের অপব্যবহার ও অপচয় ঠেকাতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বিশ্লেষকদের মতে, ক্রয় কমিটির অনুমোদন ব্যবস্থা সরকারি ব্যয়ের ওপর নজরদারির একটি অংশ। ব্যয়ের সীমা বাড়ানোর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসতে পারে। তবে একই সঙ্গে জবাবদিহি ও তদারকি নিশ্চিত না হলে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এর আগে ২০১৫ ও ২০১৬ সালের পরিপত্রের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সরকারি সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি বা যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানির নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির অনুমোদন ছাড়াই ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন পরিপত্রে এসব প্রতিষ্ঠানের স্ব-অর্থায়নপুষ্ট প্রকল্পের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের আর্থিক ক্ষমতায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালকদের কেনাকাটায় ক্ষমতা বাড়ল, সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা