পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। গত ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।
শুক্রবার রাজবাড়ীর
পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান অর্থ ও
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল
মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী
এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ
খৈয়ম এবং রাজবাড়ী-২
আসনের সংসদ সদস্য মো.
হারুন অর রশিদ।
সাইট পরিদর্শন
শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী
এ্যানি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির
জন্য পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় প্রকল্পের
প্রয়োজন ছিল। এটি দেশের
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান,
আগামী ছয় মাসের মধ্যে
প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন। তাঁর ভাষ্য, পদ্মা
ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রকল্পটির নির্মাণে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ব্যয়
করা হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা
জানান, পদ্মা নদীর ওপর ২
দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ
ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। রাজবাড়ীর
পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট থেকে পাবনার সুজানগর
উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপার্ক পর্যন্ত হবে এর অবস্থান।
প্রকল্পটির জন্য
একনেকের সভায় ৩৪ হাজার
৩৪৭ কোটি ৭৫ লাখ
টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি নদীশাসন, অ্যাপ্রোচ সড়ক, পাকা সড়কসহ
বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার
হিসনা নদী এবং চুয়াডাঙ্গার
মাথাভাঙ্গা ও গড়াই নদীশাসনের
কাজও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।
পদ্মা ব্যারেজ
প্রকল্পের পরিচালক ও পানি উন্নয়ন
বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ব্যারেজ নির্মাণের দুই পাড়ের স্থান
ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের
সাইট পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের
মহাপরিচালক (ডিজি), প্রধান প্রকৌশলী ও স্থানীয় সংসদ
সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।
হাসান মাহমুদ
আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে উত্তর ও
দক্ষিণাঞ্চলের ১৯ জেলার মানুষ
এর সুফল পাবেন। একই
সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক ও রেল
যোগাযোগের জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার সুযোগ
তৈরি হবে।
প্রকল্পের
সুফল পাওয়ার সম্ভাব্য ১৯ জেলার মধ্যে
রয়েছে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা এবং
দক্ষিণাঞ্চলের রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া।