ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
মানুষের বিকল্প নয়, এআইকে মানুষের হাতিয়ার হিসেবেই রাখতে হবে

মানুষের বিকল্প নয়, এআইকে মানুষের হাতিয়ার হিসেবেই রাখতে হবে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে নয়, মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। এআইয়ের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই এর বিকাশ বন্ধ করে দেওয়া যেমন সমাধান নয়, তেমনি কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ব্যবহার বাড়ানোও ঝুঁকিপূর্ণ।মানুষ ও যন্ত্রের মধ্যে কে জিতবে—মূল প্রশ্ন সেটি নয়। বরং মানুষের তৈরি সমাজে যন্ত্রের সক্ষমতা কীভাবে কাজে লাগানো হবে এবং এআইয়ের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে বজায় থাকবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।বিশ্বে এআই নিয়ে দুটি বিপরীত ধারণা রয়েছে। এক পক্ষ মনে করে, এ প্রযুক্তি মানবজাতির প্রায় সব সমস্যার সমাধান করতে পারে। অন্য পক্ষের আশঙ্কা, এআই মানবসভ্যতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তবে এই দুই চরম অবস্থানের বাইরে গিয়ে এর সুফল ও ঝুঁকি—দুটিই বিবেচনা করা প্রয়োজন।প্রযুক্তি নিজে ভালো বা খারাপ নয়; এর প্রভাব নির্ভর করে মানুষ কীভাবে সেটি তৈরি, ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ করছে তার ওপর। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রযুক্তি মানুষের জীবন বদলালেও সব পরিবর্তন ইতিবাচক হয়নি।এআইয়ের প্রভাব কর্মক্ষেত্রেও পড়ছে। নথি যাচাই, ই-মেইল লেখা কিংবা পরিকল্পনা তৈরির মতো কাজ এআই করতে পারলে প্রাথমিক পর্যায়ের অনেক চাকরির চাহিদা কমতে পারে। এতে বেকারত্বের পাশাপাশি মানুষের আয়, আত্মমর্যাদা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।তবে এআইয়ের সুফলও রয়েছে। চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ে এটি চিকিৎসকদের সহায়তা করতে পারে। মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজ যন্ত্রের মাধ্যমে করানো গেলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে মানুষের ভুলও কমানো যেতে পারে।তবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পুরোপুরি যন্ত্রের ওপর ছেড়ে দিলে নতুন প্রশ্ন তৈরি হবে—ভুল সিদ্ধান্তের দায় নেবে কে? এআই মানুষের ভুল কমাতে পারে, আবার মানুষের বিচারবোধকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।ভুল তথ্য ছড়ানো, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নজরদারির ক্ষেত্রেও এআই নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। এর মাধ্যমে কম খরচে ও দ্রুত বিপুল পরিমাণ ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। ফলে সত্য ও কৃত্রিমভাবে তৈরি তথ্যের পার্থক্য করাও কঠিন হয়ে উঠবে।সবচেয়ে বড় উদ্বেগের একটি সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কোনো যন্ত্রের নেওয়া সিদ্ধান্তের দায় কার—প্রোগ্রামার, সামরিক কমান্ডার, অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতৃত্ব নাকি রাষ্ট্র—তা নির্ধারণ করা কঠিন হতে পারে।এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলার অর্থ গবেষণা বন্ধ করা নয়। বরং কোথায় এআই ব্যবহার করা হবে, কোথায় হবে না এবং কী গতিতে এর ব্যবহার বাড়বে—সে বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা, মানবিক জবাবদিহি ও মানুষের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি মানুষ বনাম যন্ত্রের লড়াই নয়। প্রশ্ন হলো, মানুষ যন্ত্রের শক্তিকে নিজের কল্যাণে ব্যবহার করতে পারবে কি না। এআইকে মানুষের হাতে থাকা শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবেই রাখা ভবিষ্যতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।লেখক: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও চ্যাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো

চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের একই প্ল্যাটফর্মে আনতে ডিসেম্বরে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ

দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে আগামী ডিসেম্বরে ঢাকায় ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। পর্যায়ক্রমে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। এর মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা ও যোগ্যতার তথ্যের সঙ্গে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জনবলের চাহিদার সমন্বয় করা হবে।রোববার দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।মাহ্দী আমিন বলেন, তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং শ্রমবাজারের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের বিপুল জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তরুণদের মেধার বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, দেশের অগ্রগতির জন্য তারুণ্যের ক্ষমতায়ন অপরিহার্য। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং তরুণদের সুপ্ত মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মাধ্যমেই এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের তথ্য থাকবে এক জায়গায়মাহ্দী আমিন জানান, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের আওতায় একটি সমন্বিত জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে। সেখানে কর্মক্ষম তরুণদের দক্ষতা ও যোগ্যতার তথ্যভান্ডার থাকবে। পাশাপাশি স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জনবলের চাহিদার তথ্যও সংরক্ষণ করা হবে।এই দুই পক্ষের তথ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ তৈরি করা হবে। মূলধারার শিক্ষার বাইরে থাকা তরুণ-তরুণী এবং নতুন স্নাতকদের চাকরির বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করাও এ উদ্যোগের অংশ।সিভি লেখা থেকে সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতিচাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মসংস্থান সহায়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, এর আওতায় সিভি লেখা, ব্যক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চাকরির সাক্ষাৎকার মোকাবিলার মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।দক্ষ জনবল তৈরি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী নিয়মিত ক্যারিয়ার ফেয়ার আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। জেলা পর্যায়ে এসব মেলার মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।বিদেশে যেতে আগ্রহী তরুণ-তরুণীদেরও এ প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হবে। নিবন্ধনের পর তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।মাহ্দী আমিন বলেন, চাকরিদাতা ও চাকরিপ্রার্থী—উভয় পক্ষই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নিবন্ধন করতে পারবেন। সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে কোনো তরুণ নিজের ক্যারিয়ার লক্ষ্য জানালে তাঁকে প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষ ও সেবার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।ছয় মাস ধরে চলছে পরামর্শএ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গত ছয় মাস ধরে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও, সরকারি সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা হয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ডিসেম্বরে কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কতজনের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ও কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সবার স্বার্থ রক্ষায় উদ্যোগটির কৌশল ও পদ্ধতি নিয়ে কাজ চলছে।কারখানা বন্ধ হলেও নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কলকারখানা বন্ধ হওয়া ও কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মাহ্দী আমিন বলেন, ওই সময়ের পর কিছু কারখানা বন্ধ হয়েছে। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের তুলনায় প্রকৃত সংখ্যা অনেক কম।তিনি বলেন, কিছু কারখানা বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থান কমলেও নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে, নতুন কারখানা চালু হচ্ছে এবং বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।বেকার ভাতা চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের প্রাথমিক অগ্রাধিকার তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা। তবে ভবিষ্যতে বেকার ভাতার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। সংবাদ ব্রিফিংয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের একই প্ল্যাটফর্মে আনতে ডিসেম্বরে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ

ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ কর্মী নিতে আগ্রহী মালয়েশিয়া

বাংলাদেশ থেকে আগামী ছয় মাসে প্রায় দুই লাখ কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার কর্মীকে বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছে দেশটি।রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমানের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে আলোচনাবৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি এবং দেশটিতে থাকা অনিবন্ধিত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিবন্ধনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।এ ছাড়া বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের জন্য মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি নিয়েও আলোচনা হয়। আগামী ছয় মাসে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়ার আগ্রহের কথা বৈঠকে তুলে ধরা হয়।এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কোনো ধরনের খরচ ছাড়াই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।বাড়বে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতাবৈঠকে জনশক্তি রপ্তানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে হাসপাতাল নির্মাণ, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।এ ছাড়া খেলাধুলার সামগ্রী উৎপাদন, ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি, নির্মাণ খাত এবং হালাল ফুড খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি বৈঠকে উঠে আসে।প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে সন্তোষবৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের প্রসঙ্গ তোলেন দেশটির হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান। সফরটি সফল হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।পরে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগ্রহী।বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ কর্মী নিতে আগ্রহী মালয়েশিয়া

জিপিএ-৫-এর কৃত্রিম বন্যা বন্ধ করে শিক্ষায় আসছে বড় সংস্কার

শিক্ষাব্যবস্থায় মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটাতে ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।তিনি বলেন, জিপিএ-৫-এর কৃত্রিম বন্যা দেখিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে ভুল বার্তা দেওয়ার পথ বন্ধ করা হয়েছে। এখন দক্ষতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা খাতকে পুনর্গঠনের কাজ চলছে।সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সরকারের শিক্ষা কাঠামো, নতুন শিক্ষাক্রম, শিক্ষক মূল্যায়ন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসন, কারিগরি শিক্ষা, শিল্প-শিক্ষা সমন্বয় এবং কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র নিয়ে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন।২০২৮ সাল থেকে শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তনমাহদী আমিন বলেন, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের শিক্ষাক্রম নতুন করে সাজানো হবে। পুরো কারিকুলামে ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কার আনা হবে। এর মাধ্যমে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি টেকসই শিক্ষাক্রম তৈরি করা হবে।তবে এর আগে অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে চারটি নতুন বই ও বিষয় যুক্ত করার কথা জানান মাহদী আমিন। চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষাভিত্তিক স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘টেকনিক্যাল এডুকেশন’ পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে।এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রোবটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।এবার কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নিসাম্প্রতিক এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, আগের সময়ে পরিসংখ্যান ভালো দেখানোর জন্য কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ বাড়ানোর প্রবণতা ছিল। এমনকি পরীক্ষা না দিয়েও পাস করিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।তাঁর ভাষায়, ‘আমরা সেই আত্মঘাতী পথ বন্ধ করেছি। এবার কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা শতভাগ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়নে তাদের জিপিএ ও জেনুইন ফলাফল পেয়েছে।’ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের কারিগরি প্রশিক্ষণএসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য কিংবা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্র বোঝা হিসেবে দেখবে না বলে জানান মাহদী আমিন।তিনি বলেন, এসব তরুণকে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল কোর্সে যুক্ত করা হবে। তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। প্রয়োজনে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।বিভাগ ও জেলায় এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জবেকারত্ব কমাতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চালুর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।মাহদী আমিন বলেন, এসব কেন্দ্রে কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীরা নিজেদের দক্ষতার তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। এর মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী ও চাকরিদাতা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে।প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে এবং পরে দেশের প্রতিটি জেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাবশিক্ষকতা পেশাকে আরও আকর্ষণীয় করা এবং শিক্ষকদের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির কথা জানান মাহদী আমিন।তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব স্তরের শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল ট্যাবলেট দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সম্মানজনক অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় গুরুত্ববিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মাহদী আমিন।স্থানীয় শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশে থাকা বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ব্রেন ড্রেন’কে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।পাশাপাশি গবেষণায় সরকারি বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।গ্রাম-শহরের শিক্ষাবৈষম্য কমানোর উদ্যোগগ্রামীণ ও শহরের বিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্য কমাতে দেশব্যাপী বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা।এর মধ্যে রয়েছে প্রাইমারি স্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং ইনোভেশন ও স্টার্টআপ কম্পিটিশন। এসব আয়োজনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের প্রতিভা জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি। মাহদী আমিন বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয় দক্ষতা, কর্মসংস্থান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে এ ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জিপিএ-৫-এর কৃত্রিম বন্যা বন্ধ করে শিক্ষায় আসছে বড় সংস্কার

কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ বাড়ানোর প্রত্যাশা

দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছে বাংলাদেশ। কৃষি ও প্রাণিসম্পদসহ আরও কিছু খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগের সুযোগ তৈরিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পরিচালক হান উনসুকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক উপস্থিত ছিলেন।প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা, শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীরা কোরিয়ার বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বাংলাদেশি কর্মীদের এ সুযোগ দেওয়ার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাকে বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। দুই দেশের শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ইপিএস) গুরুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে কল্যাণকর কাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।তিনি জানান, ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৮ হাজার ৫৯ জন বাংলাদেশি কর্মী দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। ইপিএসের অন্যতম প্রধান কর্মী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে এবং নির্ধারিত কোটা সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ আগ্রহী।কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতসহ আরও কয়েকটি খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টি দক্ষিণ কোরিয়া সরকার বিবেচনা করবে বলেও প্রত্যাশা জানান তিনি।দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পরিচালক হান উনসুক বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই দক্ষিণ কোরিয়া মূলত ইপিএসের মাধ্যমে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে। বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে তারা যেমন আগ্রহী, তেমনি কর্মী বাছাই প্রক্রিয়াটি শতভাগ স্বচ্ছ রাখার বিষয়েও তারা গুরুত্ব দেয়।ইপিএসের কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথা জানান হান উনসুক।সাক্ষাতে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ বাড়ানোর প্রত্যাশা