ঢাকা    শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
কলকাতার হোটেলপাড়ায় আগুন: বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক

কলকাতার হোটেলপাড়ায় আগুন: বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক

নিউমার্কেটসংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জন নিহত হওয়ার পর কলকাতার ‘হোটেলপাড়া’য় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর অনেক বাংলাদেশি পর্যটক হোটেল ছেড়ে দ্রুত দেশে ফিরছেন বলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকেরা জানিয়েছেন। এতে হোটেল ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার সদর স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট, লিন্ডসে স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিটজুড়ে গড়ে উঠেছে পরিচিত ‘হোটেলপাড়া’। বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে এলাকাটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পর্যটকদের অনেকেই তুলনামূলক কম খরচে থাকার সুবিধার কারণে এসব হোটেল বেছে নেন। আশপাশে মানি এক্সচেঞ্জ, দূরপাল্লার বাস কাউন্টার ও খাবারের দোকান থাকায় এলাকাটি তাঁদের জন্য সুবিধাজনক।তবে অগ্নিকাণ্ডের পর এসব হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় অনুমোদনহীন হোটেল ও গেস্টহাউসের সংখ্যা অনেক। আবাসিক ভবনের বিভিন্ন অংশে পার্টিশন দিয়ে ছোট ছোট কক্ষ তৈরি করে হোটেল ব্যবসা চালানোর অভিযোগও রয়েছে।অনেক হোটেলে বৈধ লাইসেন্স, জরুরি নির্গমন পথ কিংবা অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলেও অভিযোগ করেছেন পর্যটকেরা। কোথাও কোথাও সরু প্রবেশপথ ও লোহার সিঁড়ি ব্যবহার করে ওপরের তলায় যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদ্যুতের তারের অনিয়মিত সংযোগ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।বাংলাদেশি পর্যটক মো. উজ্জ্বল খান বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে তিনি হোটেলের বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করেন। তাঁর অভিযোগ, অনেক হোটেলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বের হওয়ার মতো নিরাপদ পথ নেই।যাত্রাবাড়ী থেকে কলকাতায় যাওয়া এক পর্যটক বলেন, এত বড় শহরে হোটেলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা এত দুর্বল হওয়া মেনে নেওয়া কঠিন। তাঁর অভিযোগ, অনেক হোটেলে ভাড়া নেওয়া হলেও সেবার মান ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সন্তোষজনক নয়। তিনি প্রতিটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে কাগজপত্র ও অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাইয়ের দাবি জানান।মির্জা গালিব স্ট্রিটের ব্যবসায়ী সমীর দাসও স্বীকার করেন, অগ্নিকাণ্ডের পর বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। সোহেল নামের এক পর্যটক জানান, ঘটনার পর তাঁদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে ভয় তৈরি হয়েছে এবং অনেকেই হোটেল ছেড়ে দেশে ফিরে যাচ্ছেন।এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে কলকাতায় চিকিৎসা ও পর্যটনের জন্য আসা বাংলাদেশিদের মধ্যেও। বিশেষ করে নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার এক সাংবাদিক ও তাঁর পরিবারের চার সদস্য থাকায় বাংলাদেশে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। পর্যটকেরা ভিসা জটিলতা, দালালের দৌরাত্ম্য ও বেনাপোল সীমান্তে দীর্ঘ অপেক্ষার মতো ভোগান্তির কথাও তুলে ধরছেন।এসব কারণে কেউ কেউ চিকিৎসার জন্য কলকাতার পরিবর্তে চেন্নাই, ভেলোর, চীন কিংবা নেপালের মতো বিকল্প গন্তব্য বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে।অগ্নিকাণ্ডের পর অবশ্য নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনাকবলিত হোটেলের সামনে ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। একই সঙ্গে পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগ তৎপর হয়েছে। গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোর বৈধতা এবং অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।প্রশাসনের এই তৎপরতায় অননুমোদিতভাবে পরিচালিত হোটেলগুলোর মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন স্থানীয়দের প্রশ্ন- নিহতের মতো মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটাতে এই তদারকি কতটা নিয়মিত ও কার্যকর থাকে।

কলকাতার হোটেলে আগুন, নিহত ৯ বাংলাদেশি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয় বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলের চতুর্থ তলায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে কলকাতা পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে হোটেলের একটি অংশ পুড়ে যায় এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আগুনের ধোঁয়ায় কয়েকজন অচেতন হয়ে পড়লে তাঁদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এসি থেকে আগুনের সূত্রপাতের ধারণা পুলিশ ও দমকল বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, হোটেলের একটি এসি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাতে হোটেলের অধিকাংশ অতিথি যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন আগুন লাগে। অনেকে হোটেলের ভেতরে আটকা পড়েন। ভবনটির প্রবেশপথ ও বের হওয়ার পথ একই এবং সেটি বেশ সংকীর্ণ বলে জানিয়েছেন আবাসিকেরা। তাঁদের অভিযোগ, হোটেলে কোনো জরুরি বহির্গমন পথ ছিল না। আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে কেউ কেউ বাথরুমে ঢুকে জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। পরে দমকল বাহিনী ভবনে থাকা আবাসিকদের উদ্ধার করে। ‘দরজা খুলতেই ঘরে ধোঁয়া ঢুকে যায়’ হোটেলে থাকার জন্য মঙ্গলবার রাতে রামপুরহাট থেকে দুই বন্ধু কলকাতায় এসেছিলেন। তাঁদের একজন ইজাজ আহমেদ জানান, তাঁরা ভবনটির চতুর্থ তলায় একটি গেস্টহাউসে ছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে খাওয়াদাওয়া শেষে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টা ১৫ মিনিটের দিকে দুই নারীর চিৎকারে তাঁদের ঘুম ভাঙে। দরজা খুলতেই ঘরের ভেতর ধোঁয়া ঢুকে পড়ে বলে জানান তিনি। ইজাজ আহমেদ বলেন, ‘ঘর থেকে বেরিয়ে যে বারান্দা, তা খুব সরু। ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল ঘর।’ অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ নিউ মার্কেটের ওই ভবনের সর্বোচ্চ তলায় একটি পরিবার বসবাস করত। দমকলকর্মীরা তাঁদেরও উদ্ধার করেন। পরিবারটির এক নারী অভিযোগ করেন, হোটেল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁর দাবি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের পরিচয় ও আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলছে।

কলকাতার হোটেলে আগুন, নিহত ৯ বাংলাদেশি

কলকাতায় মসজিদের মাইকে আজান বন্ধ

কলকাতার বিভিন্ন মসজিদে জুমার আজান মাইকে দেওয়া বন্ধ এবং বিপুলসংখ্যক মসজিদের মাইক খুলে নেওয়ার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির (ভারপ্রাপ্ত) আল্লামা আব্দুল কাইয়ুয সুবহানী ও মহাসচিব মাওলানা মূসা বিন ইযহার।শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, মসজিদ থেকে মাইক অপসারণ এবং আজানের স্বাভাবিক প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।নেতারা বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলে তা সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে প্রশাসনিক চাপ, ভয়ভীতি বা বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ওপর আঘাত।বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, আজান মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নিদর্শন। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে আজানের অধিকার সংকুচিত করার কোনো উদ্যোগ মেনে নেওয়া যায় না। একই আইনের ক্ষেত্রে এক ধর্মের উপাসনালয়ে কঠোরতা এবং অন্য ধর্মের ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখানো হলে তা উদ্বেগজনক।তারা সতর্ক করে বলেন, ধর্মীয় অধিকার হরণ, বৈষম্যমূলক আইন প্রয়োগ ও প্রশাসনিক দমন-পীড়নের মাধ্যমে কোনো সমাজে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না। ন্যায়বিচার ও সমঅধিকার নিশ্চিত করাই টেকসই সম্প্রীতির পথ।

কলকাতায় মসজিদের মাইকে আজান বন্ধ