ঢাকা    শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রচারণায় বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেজ ছেলে সাঈদ।সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সুহিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।পারিবারিক ও দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবারও সুহিলপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী শোডাউন ও গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। দিনভর প্রচারণা শেষে সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।সেখানে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাঁকেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবেন। পথসভা ও গণসংযোগ শেষে রাতে বাড়ি ফিরে নৈশভোজ সেরে ঘুমিয়ে পড়েন সাইফুল ইসলাম খোকন। পরে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্বজনেরা দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান।সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম খোকনের চেয়ারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। সোমবারও তিনি সারা দিন তাঁদের সঙ্গে পুরো ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। কিন্তু গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনতে হয়েছে। এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। শোডাউনে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ এমন বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, তাঁর মরহুম পিতার সময় থেকেই সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনা উপজেলা বিএনপিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়াচর ব্রিজে সংস্কারকাজের কারণে ঢাকা অভিমুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে কুমিল্লার বুড়িচংয়ের নিমসার এলাকা থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রী, পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও রোগীরা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বিদেশগামী যাত্রীরা। অনেকে নির্ধারিত সময়ের ফ্লাইট ধরতে না পারার আশঙ্কায় গাড়ি থেকে নেমে বিকল্প যানবাহনে ঢাকার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা।চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আষাড়িয়াচর ব্রিজ এলাকায় যানবাহনের গতি প্রায় থেমে গেছে। কোথাও ধীরগতিতে গাড়ি চললেও অধিকাংশ জায়গায় দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি প্রায় স্থির রয়েছে। এর প্রভাব দাউদকান্দি, চান্দিনা ও মেঘনা টোলপ্লাজা ছাড়িয়ে কুমিল্লার দিকে ছড়িয়ে পড়েছে।ফ্লাইট ধরতে দুশ্চিন্তায় বিদেশগামী যাত্রীরাকুমিল্লা থেকে বিদেশগামী এক যাত্রীকে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন মনির হোসেন। তিনি বলেন, ‘চান্দিনা থেকে অটোরিকশা করে গৌরীপুর পর্যন্ত এসেছি। এখন বাজে ১০টা ১২ মিনিট। এয়ারপোর্টে ঢুকতে হবে। এআই ক্যামেরার কারণে উল্টো পথে গাড়ি চলছে না। চার ঘণ্টায় কুমিল্লা থেকে গৌরীপুর এসেছি। সামনে আরও প্রচণ্ড জ্যাম। চান্দিনা থেকে অটোরিকশা ও সিএনজি দিয়ে গৌরীপুর আসতে ১ হাজার ২৫০ টাকা লেগেছে।’অন্যদিকে খন্দকার আরিফ হোসেন জানান, কুমিল্লা থেকে ভোর ৪টায় রওনা দিয়ে চান্দিনা থেকে দাউদকান্দির প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তাঁর চার ঘণ্টা লেগেছে।তিনি বলেন, ‘সকাল ১০টা বাজে। এখনো দাউদকান্দি টোলপ্লাজার ১০০ গজ পূর্বদিকে বসে আছি। সামনের দিকে গাড়ি যাচ্ছে না। ছোট বাচ্চারা তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।’সংস্কারকাজে এক লেন বন্ধসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আষাড়িয়াচর ব্রিজের ঢাকা অভিমুখী লেনের একটি অংশে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে গর্তটি বড় হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ কারণে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে সেখানে সংস্কারকাজ শুরু করে সড়ক বিভাগ।সংস্কারকাজের সময় মহাসড়কের দুই লেনের একটি বন্ধ রেখে অন্য লেন দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। এতে ধীরে ধীরে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। রাতে যানবাহনের চাপ আরও বেড়ে গেলে এক লেন দিয়ে গাড়ি পারাপার করতে গিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে।একপর্যায়ে যানজট দাউদকান্দি থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা ছাড়িয়ে কুমিল্লার চান্দিনা ও বুড়িচংয়ের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।বিকল্প পথে যাওয়ার সুযোগও সীমিতযানজটে আটকে থাকা কয়েকজন চালক জানান, আষাড়িয়াচর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছানোর পর গাড়ির গতি একেবারে কমে যায়। অনেক যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় আটকে রয়েছে।বিদেশগামী যাত্রীরা দ্রুত ঢাকায় পৌঁছাতে গাড়ি থেকে নেমে সিএনজি ও অটোরিকশায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। ১০০ টাকার ভাড়ার জায়গায় কোথাও কোথাও ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।যানজট নিরসনে মাঠে হাইওয়ে পুলিশদাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেম দাস রায় বলেন, দাউদকান্দি থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত যানজটের মূল কারণ আষাড়িয়াচর ব্রিজ এলাকায় সড়ক সংস্কারের কাজ। এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা বিস্তারিত বলতে পারবে।তিনি জানান, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল নিরবচ্ছিন্নভাবে মাঠে কাজ করছে।ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, যানজট চান্দিনা পার হয়ে বুড়িচং উপজেলার নিমসার এলাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। সংস্কারকাজের কারণে মহাসড়কের একটি লেন বন্ধ থাকায় এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা না গেলে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকেরা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট

নানা অভিযোগ ও বিরোধের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বেড়াখলা আব্দুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম সুজন পদত্যাগ করেছেন। গত ১০ আগস্ট ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। আমিনুল ইসলাম সুজন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নি ইসলাম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইশতিয়াক রনি বলেন, গত ১০ আগস্ট বেড়াখলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম একটি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।গত ৩১ মার্চ ‘প্রধান শিক্ষিকাকে লাথি মারা সেই আওয়ামী লীগ নেতা সুজনের বিরুদ্ধে মামলা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল আমার দেশ।পদত্যাগপত্রে যা বলেছেন সুজনপদত্যাগপত্রে আমিনুল ইসলাম সুজন উল্লেখ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে তিনি ওই নোটিশের জবাব দেন।সুজনের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না হওয়ায় ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট তিনি পুনরায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের জন্য বিদ্যালয়ের সভাপতি বরাবর আবেদন করেন।পদত্যাগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভায় তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এরপর তাঁকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে চিঠি দেওয়া হলেও তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি বলে দাবি করেন সুজন।আরও যেসব অভিযোগ রয়েছেআমিনুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জাল সনদে চাকরি নেওয়া, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ক্ষমতার প্রভাবে পাঁচ বছরের ছুটি নেওয়া এবং এমপিওভুক্ত হওয়ার পর দুই কর্মস্থল থেকে বেতন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া ভুয়া রেজল্যুশন তৈরি ও ডিজির স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে চাকরি হারানোর পর আদালতের রায়ের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পুনরায় যোগদান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা এবং জোর করে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখলের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর বিদ্যালয়ে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে আমিনুল ইসলাম সুজন ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ হাসিনা ইসলামের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।এরই মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগে আমিনুল ইসলাম সুজনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় মামলা করেন হাসিনা ইসলাম।হাইকোর্টের নির্দেশের কথাও উল্লেখপদত্যাগপত্রে সুজন দাবি করেন, তাঁর চাকরি ও দায়িত্ব গ্রহণসংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশনও করা হয়েছিল।রিট পিটিশন নম্বর ২০৭৭০/২০২৫-এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাঁর আবেদন আইনানুগভাবে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি।সুজন আরও বলেন, বিষয়টি পুনরায় হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন থাকায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় তিনি স্বেচ্ছায় প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।তবে স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম সুজন তড়িঘড়ি বিদ্যালয়ে যোগদান করেছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মামলা থেকে বাঁচতে তিনি দ্রুত পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে তাঁদের দাবি।বক্তব্য পাওয়া যায়নিএসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আমিনুল ইসলাম সুজনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নি ইসলাম বলেন, আমিনুল ইসলাম সুজন পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে গেছেন। কেন জমা দিয়েছেন, সে বিষয়ে তাঁর সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। পদত্যাগপত্র কার্যকর করার জন্য পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নানা অভিযোগ ও বিরোধের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ

নাঙ্গলকোটে গৃহবধূ হত্যায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবরের যাবজ্জীবন

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে গৃহবধূ মরিয়ম বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার মামলায় তাঁর শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মরিয়মের স্বামী আবদুল মতিনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।রোববার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. শামছুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মরিয়মের শ্বশুর আবদুল মমিন, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম ও দেবর মো. নিজাম উদ্দিন।আদালত সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে নাঙ্গলকোট উপজেলার ছফুয়া গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে মরিয়ম বেগমকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরদিন তাঁর বাবা মো. সোলেমান নাঙ্গলকোট থানায় হত্যা মামলা করেন।মামলায় মরিয়মের স্বামী আবদুল মতিন, শ্বশুর আবদুল মমিন, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম ও দেবর নিজাম উদ্দিনকে আসামি করা হয়।তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেন।দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। পরে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলার নথি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামিদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আবদুল মতিনকে খালাস দেওয়া হয়।রায়ের পর বাদীপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. ইকরাম হোসেন এবং নিহতের স্বজনেরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের ভাষ্য, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর এ রায়ের মাধ্যমে মরিয়ম হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

নাঙ্গলকোটে গৃহবধূ হত্যায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবরের যাবজ্জীবন

সীমান্তপথে ভারত থেকে আসছে মাদক-অস্ত্র

ভারত সীমান্তঘেঁষা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লায় মাদক চোরাচালান কমেনি। বরং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো কারবারিদের জায়গায় নতুন পৃষ্ঠপোষক ও নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।সীমান্তের বিভিন্ন দুর্গম পথ, নদীপথ ও কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ও মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক দেশে ঢুকছে। এসব চালান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। নারী ও শিশুদেরও বাহক হিসেবে ব্যবহার করার তথ্য পাওয়া গেছে। কুড়িগ্রামে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে ১২১ কেজি গাঁজা, ৬ হাজার ৮১১টি ইয়াবা, ১ হাজার ৬টি ফেনসিডিল, ২২০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ১৪ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৭৮টি মামলা হয়েছে এবং ১৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তেও মাদক চোরাচালান অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সরাইল ব্যাটালিয়নের অভিযানে ছয় কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি মূল্যের মাদক জব্দ করা হয়েছে। কুমিল্লায় গত তিন বছরে বিজিবি প্রায় ২০ হাজার ২০০টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দ করেছে। এসব অভিযানে ৫২৬ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, মাদক কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে সিসি ক্যামেরা, নদীপথ, যানবাহনের গোপন কুঠুরি এবং বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে। কোথাও কোথাও উল্টো পুলিশের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে সিসি ক্যামেরা বসানোর তথ্যও পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের যোগসাজশ এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও রয়েছে। ফলে ছোট কারবারিরা গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

সীমান্তপথে ভারত থেকে আসছে মাদক-অস্ত্র

স্ত্রীকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে স্ত্রী তানিয়া বেগমকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী মোহাম্মদ আজাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৫ম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় দেন।রায় ঘোষণার সময় আসামি মোহাম্মদ আজাদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মো. কবির হোসেনের ছেলে।যেভাবে হত্যার ঘটনামামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আজাদ ও তাঁর স্ত্রী তানিয়া বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।এরই জেরে ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই দিবাগত রাতে আজাদ তাঁর স্ত্রী তানিয়ার হাত-পায়ে বৈদ্যুতিক তার পেঁচিয়ে শক দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তানিয়ার মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় নিহত তানিয়ার মা মায়া বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদ আজাদকে প্রধান আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যা মামলা করেন।পরে পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, বিভিন্ন আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং মামলার বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত মঙ্গলবার মোহাম্মদ আজাদকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।দীর্ঘদিন পর ন্যায়বিচার পেয়েছিরায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. এনামুল হক সরকার বলেন, দীর্ঘদিন পর তাঁরা আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেয়েছেন। একই সঙ্গে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান তিনি।রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে বাদীপক্ষের স্বজনদের সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

স্ত্রীকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে তরুণীর অনশন

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে অনশন করছেন এক তরুণী। বিয়ের দাবিতে উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামে অনশন করছেন ওই তরুণী। তবে ওই তরুণীকে পাত্তা দিচ্ছে না প্রেমিকের পরিবার। এতে অনেকটা মানবতার জীবনযাপন করছেন ওই তরুণী। বৃহস্পতিবার উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামে গিয়ে ওই তরুণীকে অনশনে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই ওই বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা। ওই তরুণীর দাবি, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশ্চিম শিদলাই গ্রামের ওহাব আলী খনকার বাড়ির মো. আবু কালামের ছেলে আবু সাইদ ওরফে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত দুই বছর ধরে ঢাকায় নিয়মিত দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। তার দাবি, প্রায় ১২ দিন আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আবু সাইদ তাকে দেবিদ্বার উপজেলার চরবাকর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দুই দিন অবস্থানের পর তিনি বিয়ের বিষয়টি তুললে আবু সাইদ তাকে রেখে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। পরে প্রেমিকের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে ব্রাহ্মণপাড়ার পশ্চিম শিদলাই গ্রামে গেলে আবু সাইদ তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। পরে চেয়ারম্যান উভয়পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ডেকে সমাধানের উদ্যোগ নেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, বৈঠক চলাকালেই আবু সাইদ সেখান থেকে চলে যান। এরপর থেকেই ওই তরুণী প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন। ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, সে আমার জীবনের অনেক ক্ষতি করেছে। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন সে আমাকে বিয়ে করবে, না হলে আমি এই বাড়ি থেকে ফিরব না। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত ১২ দিন ধরে তরুণীটি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এ সময় অভিযুক্ত যুবক আত্মগোপনে চলে যান। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও যুবকের পরিবার সহযোগিতা করেনি। পরে পরিবারের সদস্যরাও বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে দাবি করেন তারা। শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম আকবর আলাউল বলেন, উভয়পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করেছি; কিন্তু ছেলেটি বৈঠক থেকে চলে যায় এবং তার পরিবারও বিয়েতে রাজি নয়। পরে ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লুৎফা ইয়াসমিন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছি। তবে অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বিষয়টি সমাধানের জন্য বলা হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত আবু সাইদ ও তার পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে তরুণীর অনশন