ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
সীমান্তপথে ভারত থেকে আসছে মাদক-অস্ত্র

সীমান্তপথে ভারত থেকে আসছে মাদক-অস্ত্র

ভারত সীমান্তঘেঁষা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লায় মাদক চোরাচালান কমেনি। বরং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো কারবারিদের জায়গায় নতুন পৃষ্ঠপোষক ও নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।সীমান্তের বিভিন্ন দুর্গম পথ, নদীপথ ও কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ও মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক দেশে ঢুকছে। এসব চালান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। নারী ও শিশুদেরও বাহক হিসেবে ব্যবহার করার তথ্য পাওয়া গেছে। কুড়িগ্রামে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে ১২১ কেজি গাঁজা, ৬ হাজার ৮১১টি ইয়াবা, ১ হাজার ৬টি ফেনসিডিল, ২২০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ১৪ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৭৮টি মামলা হয়েছে এবং ১৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তেও মাদক চোরাচালান অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সরাইল ব্যাটালিয়নের অভিযানে ছয় কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি মূল্যের মাদক জব্দ করা হয়েছে। কুমিল্লায় গত তিন বছরে বিজিবি প্রায় ২০ হাজার ২০০টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দ করেছে। এসব অভিযানে ৫২৬ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, মাদক কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে সিসি ক্যামেরা, নদীপথ, যানবাহনের গোপন কুঠুরি এবং বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে। কোথাও কোথাও উল্টো পুলিশের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে সিসি ক্যামেরা বসানোর তথ্যও পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের যোগসাজশ এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও রয়েছে। ফলে ছোট কারবারিরা গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

চিলমারী-রাজিবপুরসহ জেলার ভাঙনকবলিত এলাকায় পরিদর্শনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

কুড়িগ্রামের চিলমারী ও রাজিবপুরসহ পুরো জেলার নদীভাঙন রোধে সরকারের নেওয়া প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।শনিবার বেলা ১১টার দিকে চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, নদীভাঙনে মানুষের বাড়িঘর, অবকাঠামো, মসজিদ-মাদরাসা, মন্দির-শ্মশানঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাটবাজার যেন আর বিলীন না হয়, সে জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কুড়িগ্রামের প্রায় ১০০টি ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু হয়েছে। অনেক কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পরিদর্শনের সময় নতুন কোনো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পাওয়া গেলে সেখানেও জরুরি ভিত্তিতে কাজের নির্দেশনা দেওয়া হবে।তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করা হচ্ছে। নদীতে বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে কে বিএনপি, জামায়াত বা এনসিপি করেন, তা বিবেচনা করা হবে না। এসব উদ্যোগে সবাই উপকৃত হবেন।তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, এ বিষয়ে টেকনিক্যাল কমিটি কাজ করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। মহাপরিকল্পনাটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।পরে প্রতিমন্ত্রী নৌপথে চিলমারীর কাঁচকোল বাঁধ, উলিপুর উপজেলার নামাজের চর, রৌমারী উপজেলার সুখেরববাঁতি এবং রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি এলাকার নদীভাঙন পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি গাইবান্ধার উদ্দেশে রওনা হন।পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের এমপি মাহবুবুল আলম সালেহী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান, সংরক্ষিত আসনের এমপি সুরাইয়া জেরিন রনি, জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমানসহ স্থানীয় নেতারা।

চিলমারী-রাজিবপুরসহ জেলার ভাঙনকবলিত এলাকায় পরিদর্শনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী