ঢাকা    রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
তুরাগে সাবেক বিমান কর্মকর্তার মৃত্যু, ১০ দিনেও মেলেনি রহস্য

তুরাগে সাবেক বিমান কর্মকর্তার মৃত্যু, ১০ দিনেও মেলেনি রহস্য

টঙ্গীর তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ১০ দিন পার হলেও তাঁর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্তকারীরা। এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা এখনো স্পষ্ট নয়। সাঁতার জানা একজন তরুণ কীভাবে নদীতে ডুবে মারা গেলেন, মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে নৌপুলিশ।তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ফরেনসিক, ভিসেরা ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি তাহসিফের দুই বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ ও জেরিকা তাসনিম দিশার জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এসব তথ্য মিলিয়ে মৃত্যুর আগের রাতের ঘটনাপ্রবাহ পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।এদিকে দীপের তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষ হয়েছে গতকাল শনিবার। আদালত তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ ঘটনার রাতে তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যাওয়া ও ঘোরাফেরার তথ্য দিয়েছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন তিনি।এর আগে দুই দফায় মোট সাত দিনের রিমান্ড শেষে গত শুক্রবার দিশাকেও কারাগারে পাঠানো হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে দিশা গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়েছেন। সেগুলো দীপের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা হচ্ছে।নৌপুলিশের মিডিয়া শাখার পুলিশ সুপার আসমা আক্তার আমার দেশকে বলেন, এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এখনই সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের অপেক্ষাতদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাহসিফের মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে ময়নাতদন্তের সময় তাঁর পাকস্থলি, কিডনি, রক্ত ও ভিসেরার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্যও নমুনা পাঠানো হয়েছে।এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্তে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের সঙ্গে সেগুলো মিলিয়ে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।তদন্তকারীদের কাছে অন্যতম প্রশ্ন, সাঁতার জানা সত্ত্বেও তাহসিফ কীভাবে তুরাগ নদে ডুবে মারা গেলেন। পানিতে পড়ার আগে তাঁর শরীরে কোনো আঘাত করা হয়েছিল কি না, তিনি অচেতন ছিলেন কি না কিংবা অন্য কোনো পরিস্থিতিতে নদীতে পড়ে গিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মৃত্যুর আগের রাতের ঘটনাপ্রবাহতদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান দীপ। পরে তাঁরা একটি মোটরসাইকেলের গ্যারেজে যান। সেখান থেকে জেরিকা তাসনিম দিশাকে সঙ্গে নিয়ে সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস ও নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে যান তাঁরা।রাতের পরবর্তী সময়ে তাহসিফ ও দীপের টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যাওয়ার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কললিস্ট এবং দুই বন্ধুর দেওয়া বক্তব্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য যাচাই করছেন তদন্তকারীরা। বিশেষ করে মৃত্যুর আগে তাহসিফের সঙ্গে সর্বশেষ কারা ছিলেন, কোথায় কী ঘটেছিল এবং কী পরিস্থিতিতে তিনি নদীতে গেলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে টঙ্গীর তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। এরপর থেকেই তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। তবে ১০ দিনেও রহস্যের জট খোলেনি।