বকুল ফুল নাটকে পাগলি চরিত্রে সামিরা খান মাহী
নতুন প্রজন্মের
অভিনেত্রীদের মধ্যে সামিরা খান মাহীকে নিয়ে
আগ্রহ তৈরি হয়েছে দর্শকদের।
সাবলীল অভিনয় এবং বৈচিত্র্যময় চরিত্রে
নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা
তাঁর কাজগুলোতে স্পষ্ট। ইমরাউল রাফাত পরিচালিত ‘বকুল ফুল’ নাটকে
পাগলি চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন
তিনি। পাশাপাশি ‘বিয়ে করতে গিয়ে’,
‘সকাল বিকাল রাত্রি’, ‘গার্লস স্কোয়াড’সহ বেশ কিছু
নাটক ও ওয়েব সিরিজে
অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী।মাহী মনে
করেন, একই ধরনের চরিত্রে
আটকে না থেকে অভিনয়ে
বৈচিত্র্য আনা জরুরি। দর্শকের
পছন্দের বিষয়টি মাথায় রেখেও নিজের অভিনয়ের পরিধি বাড়াতে চান তিনি। নিজের
অভিনয়জীবন, জনপ্রিয়তা, বৈচিত্র্যময় চরিত্র ও সিনেমায় কাজের
ইচ্ছা নিয়ে কথা বলেছেন
তিনি।যেভাবে অভিনয়ে এলেন২০১৪ সালে
‘র্যাং আরটিভি ২০ ২০ কালারস
মডেল সার্চ প্রতিযোগিতা’র মাধ্যমে ক্যারিয়ার
শুরু করেন সামিরা খান
মাহী। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়ে মডেলিংয়ে পা
রাখেন তিনি। এরপর বাংলালিংক, প্রাইড
গার্লস, সেলরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেন।অভিনয়ে তাঁর
যাত্রা শুরু হয় ধারাবাহিক
নাটক ‘তরুণ তুর্কী’র
মাধ্যমে। এরপর ‘পারিবারিক গোলযোগ’, ‘নীড় খোঁজে গাঙচিল’,
‘লাইফ ইন এ মেট্রো’,
‘শুভ্রার ওয়ারড্রব’, ‘আকাশ বাড়িয়ে দাও’,
‘ম্যাচিং ব্রাদার’, ‘এক পা দু-পা’সহ বিভিন্ন
নাটক ও ওয়েব সিরিজে
অভিনয় করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের
মধ্যে রয়েছে টেলিফিল্ম ‘মায়াবী ফারিহা’ এবং ওয়েব সিরিজ
‘গার্লস স্কোয়াড’।‘গার্লস স্কোয়াড’, ‘হাঙর’ ও ‘বকুল ফুল’ যে পরিবর্তন আনলনিজের ক্যারিয়ারের
মোড় ঘোরার সময় হিসেবে ‘গার্লস
স্কোয়াড’, ‘হাঙর’ ও ‘বকুল ফুল’-এ অভিনয়ের সময়টিকে
উল্লেখ করেছেন মাহী। তাঁর ভাষ্য, ওই
সময় আরও কয়েকটি নাটকে
ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন। এরপর থেকেই দর্শক
তাঁকে আরও গুরুত্ব দিয়ে
নিতে শুরু করেন।মাহী বলেন,
একসময় দর্শকের নাটক দেখার প্রধান
মাধ্যম ছিল টেলিভিশন। এখন
ইউটিউবেও নাটক দেখার সুযোগ
তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন শিল্পীদের
আসাটাও স্বাভাবিক। তাঁদের মধ্য থেকে দর্শক
পছন্দের শিল্পীকে গ্রহণ করে নেবেন।তাঁর মতে,
জনপ্রিয়তা পাওয়া আগের তুলনায় কিছুটা
সহজ হলেও সেটি ধরে
রাখা কঠিন। মাহী বলেন, তিনি
যে সময়ে অভিনয় শুরু
করেন, তখন তাঁর সঙ্গে
আরও প্রায় ২০ জন শিল্পী
এসেছিলেন। সবাই একইভাবে দর্শকের
কাছে জায়গা করে নিতে পারেননি।
তাঁর ভাষায়, দর্শকের গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া সহজ নয়, বিশেষ
করে ভালোবাসা পাওয়া খুব কঠিন। অল্প
সময়ে দর্শকের ভালোবাসা পাওয়াকে নিজের সৌভাগ্য মনে করেন তিনি।‘ভার্সেটাইল অভিনেত্রী হতে চাই’নিজেকে একটি
নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রের মধ্যে আটকে রাখতে চান
না সামিরা খান মাহী। তাঁর
ইচ্ছা, সব ধরনের চরিত্রে
অভিনয় করা।তবে তাঁর
মতে, দর্শক কোনো শিল্পীকে একটি
নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রে বেশি পছন্দ করলে
সেখান থেকে বেরিয়ে আসা
কঠিন হয়ে পড়ে। ভিউয়ের
বিষয়টিও তখন সামনে আসে।
যদিও ভালো কাজের ক্ষেত্রে
সব সময় ভিউকে গুরুত্ব
দিতে চান না তিনি।মাহী মনে
করেন, শিল্পীরা যদি নিয়মিত নতুন
কিছু দর্শকদের উপহার দেন, তাহলে ধীরে
ধীরে তাঁদের গ্রহণযোগ্যতার জায়গাটিও তৈরি হবে। একই
ধরনের কাজ বারবার করতে
থাকলে নতুন কিছু করার
সুযোগ কমে যায়। এ
কারণে কখনো কখনো তাঁর
মন খারাপ হয় বলেও জানান
তিনি।‘সবার নিজস্বতা থাকা দরকার’অভিনয়ের ক্ষেত্রে
প্রত্যেক শিল্পীর নিজস্বতা থাকা প্রয়োজন বলে
মনে করেন মাহী। নিজের
বিশেষ দক্ষতা হিসেবে সিলেটি ভাষায় কথা বলার বিষয়টি
উল্লেখ করে তিনি বলেন,
দর্শকও এটি পছন্দ করেন।তাঁকে কেউ
বড়লোকের চরিত্রে ভালো মানানসই মনে
করেন, আবার গ্রামের চরিত্রেও
ভালো করার কথা বলেন।
তবে অন্য কোনো অভিনেত্রীকে
নিজের প্রতিযোগী মনে করেন না
মাহী।তাঁর মতে,
কাউকে প্রতিযোগী ভাবলে হিংসার বিষয়টি চলে আসতে পারে।
বরং সবার সঙ্গে মিলেমিশে
কাজ করতে চান তিনি।‘আমি একদম পানির মতো’নিজের অভিনয়ের
ধরন বোঝাতে মাহী বলেন, তিনি
অনেকটা পানির মতো। যে পাত্রে
রাখা হয়, সেই পাত্রের
আকার ধারণ করেন।মাহীর ভাষায়,
তিনি মনে করেন না
যে কেউ তাঁকে প্রতিযোগী
হিসেবে দেখেন। সহকর্মীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায়
রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। কারও
সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করাও তাঁর পছন্দ
নয়।‘হাওয়া’ দেখে সিনেমার আগ্রহ‘হাওয়া’ সিনেমাটি
দেখার পর বড় পর্দায়
অভিনয়ের আগ্রহ তৈরি হয়েছে সামিরা
খান মাহীর। তবে শুধু গ্ল্যামারনির্ভর
চরিত্র নয়, গল্প ও
চরিত্রের গুরুত্বকেই বেশি প্রাধান্য দিতে
চান তিনি।‘হাওয়া’ সিনেমার
উদাহরণ দিয়ে মাহী বলেন,
সিনেমাটিতে তুষিকে খুব বেশি গ্ল্যামারাসভাবে
উপস্থাপন করা হয়নি, কিন্তু
তাঁর চরিত্রটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এ
ধরনের চরিত্রেই কাজ করতে চান
তিনি।কম
কাজ
হলেও
বেছে
কাজ
করতে
চানগতানুগতিক অভিনেত্রী
হতে চান না মাহী।
তাই যেকোনো গল্প বা চরিত্রে
অভিনয় করার পক্ষপাতী নন
তিনি। কাজের ক্ষেত্রে বরাবরই বৈচিত্র্য রাখতে চান।
গল্প
ও চরিত্র বাছাইয়ের কারণে অন্যদের তুলনায় তাঁর কাজের সংখ্যা
কিছুটা কম হলেও এতে
আপত্তি নেই তাঁর। বরং
ভালো কাজের সংখ্যা কম হলেও তা
দীর্ঘদিন দর্শকের মনে জায়গা করে
রাখতে পারে—এমনটাই বিশ্বাস
সামিরা খান মাহীর।