ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
দাপ্তরিক প্রক্রিয়া ও বোর্ড সভা ছাড়াই সিনেমা হলের প্লটে শান্তাকে বাণিজ্যিক অনুমতি

দাপ্তরিক প্রক্রিয়া ও বোর্ড সভা ছাড়াই সিনেমা হলের প্লটে শান্তাকে বাণিজ্যিক অনুমতি

রাজধানীর গুলশান-১–এর সিনেমা হলের জন্য বরাদ্দ করা চারটি প্লট একীভূত করে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন পেয়েছে বেসরকারি আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান শান্তা হোল্ডিংস। অভিযোগ উঠেছে, এ অনুমোদন দিতে রাজউকের প্রচলিত দাপ্তরিক প্রক্রিয়া ও বোর্ড সভার নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আপত্তি থাকলেও রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের নির্দেশে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে রাজউকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।রাজধানীর গুলশান (দক্ষিণ) বাণিজ্যিক এলাকার ১৪, ৩৭, ৪১ ও ৪৩ নম্বর প্লট ১৯৭৫ সালে ৯৯ বছরের জন্য ‘বাণীচিত্র’ ও ‘চলচ্চিত্র’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বরাদ্দের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল, সেখানে সিনেমা হল নির্মাণ করতে হবে। অন্য কোনো কাজে জমিগুলো ব্যবহার করা যাবে না।তবে প্রায় পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও ওই প্লটগুলোতে সিনেমা হল নির্মাণ হয়নি। পরে আম-মোক্তারনামার মাধ্যমে প্লটগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় শান্তা হোল্ডিংস। ২০২৩ সালের ১৬ জুলাই প্রতিষ্ঠানটি ১৪ নম্বর প্লটসহ চারটি প্লট একীভূত করার আবেদন করে। বড় আকারের একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণই ছিল এর লক্ষ্য।আপত্তি ছিল রাজউকের কর্মকর্তাদেরচারটি প্লট একীভূত করার আবেদনটি রাজউকের বিভিন্ন শাখায় দীর্ঘদিন ঘুরেছে। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আম-মোক্তারনামা নিয়ে বিরোধ, আদালতের নির্দেশ এবং প্লটের ব্যবহার পরিবর্তনের বিষয়সহ বিভিন্ন আইনি জটিলতা নিয়ে কর্মকর্তাদের আপত্তি ছিল।রাজউকের একাধিক সূত্রের দাবি, শুরু থেকেই ফাইলটি নিয়ে চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের বিশেষ আগ্রহ ছিল। কর্মকর্তাদের আপত্তি সত্ত্বেও ফাইলটি এগিয়ে নিতে ওপরের মহল থেকে তৎপরতা ছিল বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ফাইলটি পাস করিয়ে নিতে শান্তা হোল্ডিংস রাজউক ভবনে অন্তত অর্ধশত কোটি টাকা খরচ করেছে। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।নথি অনুযায়ী, ২১ জুলাই চারটি প্লট একীভূত করার অনুমোদনপত্র জারি এবং প্রয়োজনীয় ফি গ্রহণে আইনগত বাধা আছে কি না, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইমাম হাছানের মতামত চায় রাজউক। জবাবে তিনি জানান, এতে আইনগত বাধা নেই।এর পরদিন, ২২ জুলাই, রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম অনুমতিপত্র জারির নির্দেশ দেন। একই দিনে চারটি প্লট একীভূত করার ফি জমা দেওয়ার অনুমোদনপত্র জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন রাজউকের উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-১) মো. নজরুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মো. আশরাফ আলী।চারটি প্লটের মোট আয়তন প্রায় ২২ বিঘা ১৮ কাঠা। এ জমির বিপরীতে একীভূতকরণ ফি রাজউক কোষাগারে জমা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে শান্তা হোল্ডিংস।আইন শাখা ও বোর্ড সভা নিয়ে প্রশ্নরাজউকের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, আইনগত বিষয়ে মতামতের জন্য সংস্থাটির নিজস্ব আইন শাখা রয়েছে। কোনো আবেদনে আইনি জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে তা আইন শাখায় পাঠিয়ে মতামত নেওয়ার পর প্রশাসনিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এরপর বিষয়টি বোর্ড সভায় উপস্থাপনেরও বিধান রয়েছে।কিন্তু শান্তা হোল্ডিংসের ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট এস্টেট ও ভূমি-১ শাখার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মাসুম আলী বেগ লিখিতভাবে আপত্তি জানানোর পরও বিষয়টি বোর্ড সভায় তোলা হয়নি। বরং একজন বেসরকারি আইনজীবীর মতামতের ভিত্তিতে অনুমোদনপত্র জারি করা হয়েছে।চারটি প্লট একীভূত হওয়ায় সেখানে বড় আকারের বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গুলশানের বাসিন্দাদের জন্য নির্ধারিত বিনোদন সুবিধা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।শান্তা হোল্ডিংসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ভবনটির উচ্চতা ৩৫ থেকে ৪০ তলার বেশি হতে পারে। প্রতি তলায় প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার বর্গফুট জায়গা থাকবে। শুরুতে প্রতি বর্গফুটের দাম ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা ধরা হলে প্রকল্পটির সম্ভাব্য মোট বাণিজ্যিক মূল্য দাঁড়াতে পারে হাজার কোটি টাকার বেশি।রাজউকের পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-১) ডা. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, অনুমোদনপত্র জারি করার জন্য কে কী করেছে, তা ফাইলেই লেখা আছে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বাইরে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারবো না।অভিযোগের বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এখানে কোনো কিছু ব্যক্তিগত না। আইনগত উপায়ে সবকিছু করা হয়েছে।

গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ডিএমপি জানায়, এর আগে গুলশানে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে সরাসরি ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর ৪০ জন এবং ১৩ সেপ্টেম্বর ৩২ জনসহ মোট ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি।এর আগে গত শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতা-কর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেন। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ছে।মামলায় ১১৮ জনের নামঘটনার পর গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসাইন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ জনকে।মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মিছিলে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।এই মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শনিবার ২৪ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

গুলশানের দুই স্পা সেন্টারে অভিযান, ৫৩ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে অভিযান চালিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা-পুলিশ।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত গুলশান থানা-পুলিশ পৃথকভাবে দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়।অভিযান চালানো প্রতিষ্ঠান দুটি হলো গুলশান থানার ২৪ নম্বর সড়কের ‘গুলশান ওয়ান সেলুন’ এবং ৯৯ নম্বর সড়কের ‘হট স্টোন স্পা’।পুলিশ জানায়, অভিযানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৪ জন পুরুষ ও ২৯ জন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।গুলশান থানা সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।পুলিশ জানিয়েছে, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গুলশানের দুই স্পা সেন্টারে অভিযান, ৫৩ জন গ্রেপ্তার