ঢাকা    রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
মির্জা ফখরুল এখনো বিএনপির মহাসচিব

মির্জা ফখরুল এখনো বিএনপির মহাসচিব

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখনো দলের মহাসচিবের দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পরও মির্জা ফখরুল দলীয় মহাসচিব বা স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেননি।শুক্রবার রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীকে প্রথমে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন যাচাই-বাছাই করে প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত পদত্যাগের কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই।তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখনো মহাসচিব। তিনি এখনো মন্ত্রী, এখনো স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।’‘২০ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন’মির্জা ফখরুলের পদত্যাগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবর ও গুঞ্জন প্রসঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান ডা. জাহিদ।তিনি বলেন, ‘অহেতুক গুঞ্জন না ছড়িয়ে একটু ধৈর্য ধরুন। যেমন আপনারা ধৈর্য ধরেছিলেন কে বিএনপির প্রার্থী হবেন। আলহামদুলিল্লাহ, গতকাল প্রধানমন্ত্রী আমাদের সবাইকে নিয়ে ঘোষণা করেছেন আমাদের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিএনপি এবং আমাদের সংসদীয় গ্রুপ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।’তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ২০ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। ভোট হোক, শপথের আগে পদত্যাগ আসবে। শপথের আগ পর্যন্ত পদত্যাগ করার কোনো সাংবিধানিক এবং নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতা নেই।’মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন প্রসঙ্গে যা বললেনমির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য পদত্যাগের পর মন্ত্রিসভা বা দলের দায়িত্বে পরিবর্তন আসবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে দায়িত্বে পরিবর্তন আনতে পারেন। জনগণের জন্য আরও ভালোভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করতে প্রধানমন্ত্রী যখন যাকে প্রয়োজন মনে করবেন, তখন পরিবর্তন আনতে পারেন। সংবিধান ও সংসদ প্রধানমন্ত্রীকে এ ক্ষমতা ও দায়িত্ব দিয়েছে।আগের বক্তব্যে ভিন্ন তথ্যমির্জা ফখরুলের পদত্যাগের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এর আগে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছিল।গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।এর একদিন পর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সেই পদত্যাগের খবরকে ‘গুঞ্জন’ হিসেবে উল্লেখ করলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট ও শপথের আগে মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই।

যেকোনো সময় ছাত্রদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় ঢাবির একাধিক নেতা

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ফেব্রুয়ারিতে। এরপর থেকেই নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সংগঠনের ভেতরে আলোচনা চলছে। ছাত্রদলের প্রায় সব সাংগঠনিক ইউনিটের কাজ শেষ করে নতুন নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বর্তমান নেতারা। এখন নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের অপেক্ষা।ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে তৎপরতাও বেড়েছে। নিজ নিজ বলয়ে যোগাযোগের পাশাপাশি বিএনপির হাইকমান্ডের মনোযোগ পাওয়ার চেষ্টা করছেন অনেকে। তবে নতুন কমিটি গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।২০২৪ সালের ১ মার্চ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছির। সংগঠনের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সংসদের মেয়াদ দুই বছর প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই হিসাবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, তাঁদের কাজ প্রায় শেষ। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যখন প্রয়োজন মনে করবেন, তখন নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।নেতৃত্বে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছেবিএনপি ও ছাত্রদলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং দলের প্রতি আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অতীতের মতো কোনো সিন্ডিকেটের প্রভাব বা ‘পকেট কমিটি’র বদলে পরীক্ষিত ও দক্ষ নেতৃত্ব বাছাইয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দীর্ঘদিন সময়মতো কমিটি না হওয়ায় ছাত্রদলে নেতৃত্বের একটি জট তৈরি হয়েছে। তাই নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যাচের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এ কারণে ২০০৮-০৯ থেকে পরবর্তী কয়েকটি শিক্ষাবর্ষের নেতাদের মধ্য থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।ঢাবি থেকে যাঁদের নাম আলোচনায়নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের নেতাদের মধ্যে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল আলোচনায় রয়েছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি তিনি হামলা, মামলা, কারাবরণ ও পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি ছাড়াও কেন্দ্রীয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও হল শাখার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।একই ব্যাচের মনজুরুল আলম রিয়াদ, এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েল ও সাফি ইসলামও আলোচনায় রয়েছেন। রিয়াদ বর্তমান কমিটির সহসভাপতি এবং এর আগে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও অমর একুশে হলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। রুয়েল আন্দোলন-সংগ্রামের সময় একাধিক মামলার আসামি হয়ে কারাবরণ করেছেন।২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, ২ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান ও মোস্তাফিজুর রহমানের নাম রয়েছে।জিসান দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনে সাংগঠনিক ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর দাবি, দল ও নেতাকর্মীদের প্রয়োজনে তিনি নিজের সাধ্যের মধ্যে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। তবে দলের সিদ্ধান্তই তাঁর কাছে চূড়ান্ত।ফারুক হোসেনকে ক্লিন ইমেজের নেতা ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে বর্ণনা করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। আমানউল্লাহ আমান ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্দোলনের সময় হামলায় আহত হওয়ার পাশাপাশি তিনি মামলায় গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মোস্তাফিজুর রহমান ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী ছিলেন।আরও যাঁদের নিয়ে আলোচনা২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারিক, ঢাবি শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র সাহস, সিনিয়র সহসভাপতি মাসুম বিল্লাহ মাসুম ও সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিকের নামও আলোচনায় রয়েছে।তারিক আন্দোলন-সংগ্রামে একাধিকবার হামলা, গুলিবিদ্ধ ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দেওয়া দায়িত্ব পালন এবং রাজপথের সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাঁকে সাধারণ সম্পাদক পদে বিবেচনার আলোচনা রয়েছে।অনিক ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের মনোনীত জিএস প্রার্থী ছিলেন। আন্দোলনের সময় তিনি গুম ও কারাবরণের শিকার হন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের নেতাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহামেদ, গাজী মো. সাদ্দাম হোসেন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স এবং ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের নাম আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন সমীকরণে রাজু আহামেদ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পদের আলোচনায় এগিয়ে আছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।রাজু আহামেদ বলেন, নতুন নেতৃত্ব ও নবোদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সারা দেশের ছাত্রদল অপেক্ষা করছে। তাঁদের আশা, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অচিরেই নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন।এ ছাড়া ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের নূর আলম ভূঁইয়া ইমনের নামও আলোচনায় রয়েছে। সিনিয়রদের মধ্যে ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাছির ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুমের নাম সভাপতি পদে আলোচনায় এসেছে। তবে নাছির জানিয়েছেন, তিনি নতুন কমিটিতে থাকতে চান না।ঢাবির বাইরেও কয়েকজন আলোচনায়ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে সম্ভাব্য নেতৃত্ব হিসেবে ছাত্রদলের বর্তমান সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আবু হোরায়রা ও সাধারণ সম্পাদক এম রাজীবুল ইসলাম তালুকদার বিন্দুর নাম রয়েছে।ডা. আউয়াল আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবায় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি রাজপথের কর্মসূচিতেও সক্রিয় ছিলেন। কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত আন্দোলনের সময় মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।রেকর্ডসংখ্যক সাংগঠনিক কমিটিবর্তমান রাকিব-নাছির কমিটির অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে প্রায় সব সাংগঠনিক ইউনিটে কমিটি গঠনের বিষয়টি তুলে ধরছেন নেতারা।ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছিরের ভাষ্য, তাঁদের মেয়াদে প্রায় ২ হাজার ১০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি করা হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও মহানগরের প্রায় সব কমিটিও দেওয়া হয়েছে। পাঁচ থেকে সাতটি কমিটি এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।তিনি বলেন, দেশের এক হাজারের বেশি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের কমিটি দিয়ে একটি সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে। বাকি কমিটিগুলোর কাজও শেষ হয়েছে; দল চাইলে সেগুলো জমা দেওয়া যাবে।নাছির আরও বলেন, কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার কাজের সঙ্গে নতুন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি চলমান সাংগঠনিক প্রক্রিয়া, পরবর্তী নেতৃত্ব এসে তা সম্পন্ন করবে।নতুন কমিটি কবে ঘোষণা হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নতুন কমিটি এখন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বিবেচনায় রয়েছে এবং যেকোনো সময় ঘোষণা আসতে পারে।

যেকোনো সময় ছাত্রদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় ঢাবির একাধিক নেতা

জবিতে ছাত্রদলের হামলা, জকসু ভিপিসহ শিবির-ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মী আহত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর প্রতিনিধিরা।মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।জকসুর প্রতিনিধিদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরাণীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং মেডিকেল সেন্টারের সেবার উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরতে তারা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের বাধা দেওয়া হয়। পরে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।এ ঘটনায় জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা, আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারুক, জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, জকসুর প্রতিনিধিরা মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল তাদের বাধা দেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসানকে ধাক্কা দেওয়ার দৃশ্যও ভিডিওতে দেখা যায়।জকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও তাদের অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি তুলে ধরতে গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তিনি ঘটনার বিচার এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অডিটোরিয়ামের সামনে ছেঁড়া প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করছিলেন জকসুর প্রতিনিধিরা।এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

জবিতে ছাত্রদলের হামলা, জকসু ভিপিসহ শিবির-ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মী আহত