ঢাকা    শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, হলে ভাঙচুরের অভিযোগ

আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, হলে ভাঙচুরের অভিযোগ

রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া এলাকায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের পর সন্ধ্যায় শিবিরের নেতা-কর্মীরা এলাকা ছেড়ে গেলে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা মাদ্রাসার একমাত্র আবাসিক হল আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলে প্রবেশ করেন। এ সময় হলের কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর এবং ফটকে তালা লাগানোর অভিযোগ ওঠে।মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হককে মারধরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল থেকে মাদ্রাসার সামনে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং সাত থেকে আটটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে।অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিবিরের নেতা-কর্মীরা সরে যাওয়ার পর যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা হলে প্রবেশ করেন। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে শিবিরের নিয়ন্ত্রণে থাকা কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়। হলের শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।ফাজিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা মো. ইব্রাহীম বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে হলটি সাময়িকভাবে তালাবদ্ধ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তা খুলে দেওয়া হবে।অন্যদিকে আলিয়া মাদ্রাসা শাখা ছাত্রশিবিরের নেতা আবদুল আলিম অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হলে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছেন, কক্ষ ভাঙচুর করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বাইরে ফেলে দিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে এবং হলসংলগ্ন এলাকায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন।এর আগে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি সেমিনারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার জেরে বেলা ৩টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে প্রথম দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।শিবিরের দাবি, দুপুরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হলে ঢুকে তাদের সদস্যদের মারধর ও কয়েকটি কক্ষে তালা দেন। পরে শিবিরের নেতা-কর্মীরা তাদের বের করে দিলে আবারও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।অন্যদিকে ছাত্রদলের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে শিবিরের নেতা-কর্মীরা হলের কয়েকটি কক্ষ দখলে রেখেছেন। মঙ্গলবার ছাত্রদলের একটি কক্ষে তালা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষ শুরু হলে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। পুলিশ প্রথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেলেও পরে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে।সংঘর্ষে শিবিরের প্রায় ২৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির ঢাকা মহানগর পূর্বের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক দাউদ খান। তার দাবি, আহত ফুয়াদ নামে এক কর্মীর মাথায় ১২টি সেলাই লেগেছে এবং তার অবস্থা গুরুতর।অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতা সাদ চৌধুরী দাবি করেন, তাদের ৩০ জনের বেশি নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছাত্রদল ও যুবদলের দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে তিনি জানান।

জবিতে ছাত্রদলের হামলা, জকসু ভিপিসহ শিবির-ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মী আহত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর প্রতিনিধিরা।মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।জকসুর প্রতিনিধিদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরাণীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং মেডিকেল সেন্টারের সেবার উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরতে তারা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের বাধা দেওয়া হয়। পরে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।এ ঘটনায় জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা, আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারুক, জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, জকসুর প্রতিনিধিরা মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল তাদের বাধা দেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসানকে ধাক্কা দেওয়ার দৃশ্যও ভিডিওতে দেখা যায়।জকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও তাদের অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি তুলে ধরতে গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তিনি ঘটনার বিচার এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অডিটোরিয়ামের সামনে ছেঁড়া প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করছিলেন জকসুর প্রতিনিধিরা।এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

জবিতে ছাত্রদলের হামলা, জকসু ভিপিসহ শিবির-ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মী আহত