মাদক ও কিশোর গ্যাংকে কোনোভাবেই আশ্রয়-প্রশ্রয় নয়: জনপ্রশাসন সচিব
মাদক
ও কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহতা থেকে সমাজকে রক্ষা
করতে সরকারের পাশাপাশি সর্বস্তরের নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান
চৌধুরী। তিনি বলেছেন, মাদকাসক্ত
ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই সমাজে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।বৃহস্পতিবার
দুপুরে নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল জলিল মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ
শ্রেণির নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা
বলেন।জনপ্রশাসন
সচিব বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনীর অভিযান চালিয়ে মাদক ও কিশোর
অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়।
এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,
সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনসহ
সমাজের সব শ্রেণি-পেশার
মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।তিনি
বলেন, মাদকের বিস্তার ও কিশোর গ্যাংয়ের
দৌরাত্ম্য বর্তমানে সমাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদকাসক্তির ক্ষতি শুধু একজন ব্যক্তির
মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর
প্রভাব পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের
ওপরও পড়ে।অভিভাবকদের আরও
সচেতন
হওয়ার
আহ্বানকিশোর
অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ
করে মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী
বলেন, সন্তান যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে
জড়িয়ে না পড়ে, সে
জন্য অভিভাবকদের তাদের পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে।
একই সঙ্গে সন্তানের চলাফেরা ও বন্ধু নির্বাচনের
বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে।শিক্ষার্থীদের
নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে
গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম
বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন
তিনি।আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দেবেনবীন
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জনপ্রশাসন সচিব বলেন, আজকের
শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ ও
সমাজ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। তাই শুধু পাঠ্যবইয়ের
জ্ঞান অর্জনের মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না।শিক্ষার্থীদের
নৈতিকতা, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের মূল্যবোধে
নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান
জানান তিনি।নোয়াখালী
সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ
শফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার
এন এম নাসিরুদ্দিন, নোয়াখালী
মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম,
কলেজের উপাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন
পর্যায়ের নেতারা।