ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচারে ভূমিকা, নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাই

যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচারে ভূমিকা, নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাই

দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী ও বিচারক নাভি পিল্লাই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে নরওয়ের নোবেল কমিটির ঘোষণার বরাতে।নাভি পিল্লাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় পরিচিত একটি নাম। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে আইনি লড়াইনাভি পিল্লাই ১৯৪১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। নাটাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ল স্কুল থেকে এলএলএম ও ডক্টর অব জুরিডিক্যাল সায়েন্স (এসজেডি) ডিগ্রি অর্জন করেন। হার্ভার্ড থেকে আইন বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনকারী প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান নারী হিসেবে তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়।কর্মজীবনের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা রাজনৈতিক বন্দি ও অধিকারকর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াই করেন তিনি। বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির পক্ষে আইনি সহায়তা দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর আইনজীবীজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়।আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাদক্ষিণ আফ্রিকায় বিচারকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায়ও যুক্ত ছিলেন নাভি পিল্লাই। তিনি রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।২০০৮ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই পদে থেকে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সুরক্ষা ও লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো মোকাবিলায় কাজ করেন।যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নাভি পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবন মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত।নোবেল শান্তি পুরস্কারের পটভূমিসুইডিশ শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের ১৮৯৫ সালের উইল অনুযায়ী নোবেল পুরস্কারের সূচনা হয়। তাঁর নির্দেশনায় শান্তি পুরস্কার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে, যারা জাতিগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি, স্থায়ী সেনাবাহিনী বিলুপ্ত বা হ্রাস এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাই

দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা বিশ্বজুড়ে পরিচিত।তবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার তাঁকে দেওয়া হয়েছে এমন তথ্যের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য নিশ্চিতকরণ প্রয়োজন। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা যাচাই না করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সংবাদ প্রকাশ করা উচিত নয়।১৮৯৫ সালে সুইডিশ শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের উইলের মাধ্যমে নোবেল পুরস্কারের সূচনা হয়। নোবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী, শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয় সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে, যারা জাতিগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি, স্থায়ী সেনাবাহিনী বিলুপ্ত বা হ্রাস এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ীর নাম ও অবদানের বিস্তারিত জানতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করা প্রয়োজন।

শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাই

জাতিসংঘে বৃহস্পতিবার প্রথম ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বৃহস্পতিবার ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এটিই তাঁর প্রথম বক্তব্য। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে, যা বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর ৩টা।নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক’ হোটেলে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন। তিনি বলেন, দেশের আবেগ, অনুভূতি ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তব্য দেবেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।মাহ্‌দী আমিন বলেন, এর মধ্য দিয়ে একই পরিবারের তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। এর আগে তাঁর বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলায় আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এবারের সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের আমন্ত্রণে ওই সভা অনুষ্ঠিত হবে।সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, উন্নয়ন সহযোগিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয় গুরুত্ব পাবে।এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। অধিবেশনকে কেন্দ্র করে বিশ্বনেতারা বৈশ্বিক সংকট, শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করছেন।নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচিতেও অংশ নিচ্ছেন। জাতিসংঘের অধিবেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হচ্ছে।

জাতিসংঘে বৃহস্পতিবার প্রথম ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যুদ্ধ, জলবায়ু ও এআই গুরুত্ব পাচ্ছে

নিউইয়র্কে শুরু হয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন। ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এবারের অধিবেশন। সাধারণ বিতর্কে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যদেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেবেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এবারের অধিবেশনে ইরান, গাজা, ইউক্রেন, সুদান, কঙ্গো ও মিয়ানমারের সংঘাত গুরুত্ব পাবে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হবে।আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। প্রযুক্তিটির দ্রুত বিকাশের বিপরীতে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এখনো সীমিত। এআই নিয়ে বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন নেতা এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব উদ্বেগকে ‘হোক্স’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।জলবায়ু সংকট নিয়েও থাকছে বিশেষ আয়োজন। ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র এবং প্রধান জ্বালানি উৎপাদক ও ভোক্তা দেশগুলোর নেতারা জলবায়ু সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু ন্যায়বিচার নিয়ে আলোচনা করবেন।এদিকে জাতিসংঘের সংস্কার ও আর্থিক সংকটও আলোচনায় থাকবে। নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের বিষয়ে ১৯৩ সদস্যরাষ্ট্র একটি বিস্তৃত সংস্কার প্যাকেজে সম্মত হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়েও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।জাতিসংঘের আর্থিক সংকটের প্রভাব পড়ছে শান্তিরক্ষা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও। যুক্তরাষ্ট্র বকেয়া চাঁদার একটি অংশ পরিশোধ করায় চলতি বছর সাধারণ পরিষদে দেশটির ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা আপাতত এড়ানো গেছে। তবে অর্থসংকটের কারণে বিভিন্ন কার্যক্রমে কাটছাঁটের চাপ অব্যাহত রয়েছে।মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বুধবার বক্তব্য দেওয়ার কথা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের। বৃহস্পতিবার ভাষণ দেবেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।তবে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বনেতা এবারের অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিত থাকছেন না। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিউইয়র্কের পরিবর্তে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন। তাঁর পরিবর্তে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘে প্রতিনিধিত্ব করবেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও আসছেন না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সফর বাতিল করেছেন।যুদ্ধ-সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি এআই এবং জাতিসংঘের সংস্কার- সব মিলিয়ে এবারের অধিবেশনে বৈশ্বিক নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জ আলোচনার কেন্দ্রে থাকছে। সূত্র: এপি নিউজ ও রয়টার্স

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যুদ্ধ, জলবায়ু ও এআই গুরুত্ব পাচ্ছে

৪০ বছর পর জাতিসংঘের সভাপতির দায়িত্বে বাংলাদেশ

আজ ৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করবে বাংলাদেশ। ৪০ বছর পর এই মর্যাদা পেল দেশটি। ১৯৮৬ সালে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর এবার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি নির্বাচনে ৯৯ ভোট পান।আগামী এক বছর সাধারণ পরিষদের নেতৃত্বে থেকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তিরক্ষা, গাজাসহ বৈশ্বিক মানবিক সংকট এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাবে।২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবার জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতির কথা তুলে ধরবেন। একই সময়ে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ায় নতুন মহাসচিব নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটিও বাংলাদেশের সভাপতিত্বের সময় অনুষ্ঠিত হবে। ফলে আগামী এক বছর আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

৪০ বছর পর জাতিসংঘের সভাপতির দায়িত্বে বাংলাদেশ

জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করতে পাকিস্তানি সাবেক সেনা কর্মকর্তার আহ্বান

জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও নিরপেক্ষ করতে সংস্থাটির কাঠামো পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) নেতা ও সাবেক সিনেটর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল কাইয়ুম। তাঁর মতে, নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি দেশের ভেটো ক্ষমতা এবং বিভিন্ন অঞ্চল ও মুসলিম বিশ্বের সীমিত প্রতিনিধিত্ব জাতিসংঘের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে।ইউনিভার্সাল পিস ফেডারেশন (ইউপিএফ) ইউকের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।আবদুল কাইয়ুম বলেন, শান্তি রক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন ও শরণার্থী সংকট মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। তবে সদস্য রাষ্ট্রগুলো জাতিসংঘ সনদ ও সংস্থাটির প্রস্তাব বাস্তবায়ন না করলে এর কার্যকারিতা সীমিত হয়ে পড়ে।সংঘাতের পেছনে নানা কারণবিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতা, ঘোষণাবিহীন পারমাণবিক অস্ত্র, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরেন কাইয়ুম। এ প্রসঙ্গে তিনি ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন।তাঁর মতে, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, সীমান্ত বিরোধ, দারিদ্র্য, বৈষম্য, জাতীয়তাবাদ, বর্ণবাদ, ধর্মীয় উগ্রতা এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের অন্যতম কারণ।তিনি বলেন, বৈশ্বিক রাজনীতির বাস্তবতা ও শক্তির ভারসাম্য বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবভিত্তিক কূটনীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এক রাষ্ট্রকে অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে নিরাপত্তাআবদুল কাইয়ুমের মতে, ছোট রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা কোনো পরাশক্তির সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ ক্ষেত্রে আফগানিস্তানে ন্যাটোর ব্যর্থতা এবং ইরানে সরকার পরিবর্তনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা সফল না হওয়ার বিষয় উল্লেখ করেন কাইয়ুম। তিনি বলেন, নিজেদের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন রক্ষায় কিছু দেশ দীর্ঘ সময় অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতেও প্রস্তুত থাকে।সংলাপ ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বানবিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংলাপ, মধ্যস্থতা ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন আবদুল কাইয়ুম।তিনি আন্তর্জাতিক জলপথে ন্যায্য বাণিজ্য নিশ্চিত করা, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার, সহনশীলতা বৃদ্ধি, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।কাইয়ুম বলেন, এসব লক্ষ্য জাতিসংঘের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে জাতিসংঘ কতটা সফল হবে, তা শেষ পর্যন্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর নির্ভর করবে। সূত্র: ডন

জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করতে পাকিস্তানি সাবেক সেনা কর্মকর্তার আহ্বান