ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান সেলিম উদ্দিনের

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান সেলিম উদ্দিনের

সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। অর্থের অভাবে নিম্নআয়ের অনেক মানুষ বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারছেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।শুক্রবার সকালে রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকার ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী সেলিম উদ্দিনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘পয়সা দিলে সব ঠিক, পয়সা নাই তো চিকিৎসা পাবেন না’—এমন পরিস্থিতি থেকে মানুষকে বের করে আনতে হবে। চিকিৎসাকে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।তিনি বলেন, জামায়াতের উদ্যোগে সারা বছর বিভিন্ন স্থানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করা হয়, যাতে অসচ্ছল ও নিম্নআয়ের মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।দায়িত্ব পেলে ঢাকা উত্তর সিটির হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এবং কম খরচে সরকারি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান সেলিম উদ্দিন। হাসপাতালগুলোকে দ্রুত সার্জারি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার কথাও বলেন তিনি।সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল গড়ে তুলতে চাই।’ উন্নত চিকিৎসার জন্য যাতে দেশের মানুষকে বিদেশে যেতে না হয়, সে ধরনের পরিবর্তন চিকিৎসাক্ষেত্রে আনার কথা জানান তিনি।চিকিৎসার নামে অর্থপাচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করতে কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম ও উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান।ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ঢাকা উত্তর সিটির উন্নয়ন ও আধুনিক নগরায়নে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নেতৃত্বের বিকল্প নেই।দিনব্যাপী এ মেডিকেল ক্যাম্পে মিরপুর ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চিকিৎসাসেবা নেন।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাঁর প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৈঠক শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছেন দলের সংগ্রামী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ থেকে মির্জা ফখরুল পদত্যাগ করেছেন বলেও জানান রিজভী।আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্বাচন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।এরই মধ্যে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর পক্ষে জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।ইসির তফসিল অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোট হবে।১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকছে না।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে পাঁচ বছর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাঁকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়।২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাঁকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়।১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল