ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
কুমিল্লায় জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুর

কুমিল্লায় জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুর

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়ের ছাদে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর মোগলটুলীতে মহানগর জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মহানগর জামায়াতের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। বুধবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে কমিটি গঠন নিয়ে বৈঠক চলাকালে সেই বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। নতুন কমিটিতে বর্তমান সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান আমির হতে পারেন—এমন গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।অভিযোগ রয়েছে, মাহবুবুর রহমানের বিরোধী পক্ষের কয়েকজন দলীয় কার্যালয়ের সামনে তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করেন। একই সময়ে কার্যালয়ের ছাদে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাহবুবুর রহমান কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ফোন করেন। এ ঘটনায় মহানগর জামায়াতের সহসাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন ও দাওয়াহ ও তথ্য সম্পাদক হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সহসাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।দলীয় সূত্রের দাবি, বুধবার রাতেই মহানগর জামায়াতের নতুন কমিটি গঠনের জন্য ভোট গ্রহণের সম্ভাবনা ছিল। এ নিয়ে চলমান বৈঠকে সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান তাঁর অনুসারীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরোধী পক্ষের কয়েকজন কার্যালয়ে প্রবেশ করে গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।এ বিষয়ে মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা মিডিয়ায় ব্রিফিং দেব। আমাদের মিটিং চলছে।’মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার আমার দেশকে বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠিয়েছি। এই মুহূর্তে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ভেতরে জামায়াতের ঊর্ধ্বতন নেতারা আছেন।

জামায়াতের স্থানীয় কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ, শার্শায় বিএনপিতে ২০ পরিবারের ৬০ সদস্য

যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ায় জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ জানিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন ২০টি পরিবারের ৬০ সদস্য। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বাগআঁচড়ায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।যোগদানকারীদের ভাষ্য, জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিজেদের চিন্তা-চেতনা বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।অনুষ্ঠানে শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আলী বিশ্বাস নতুন সদস্যদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন মনিরুল হক, জাহানারা বেগম, রোজিনা খাতুন, সানজিদা খাতুন, কোহিনূর বেগম, শুকজান, হোসনে আরা, রুপালি, মনিরুজ্জামান মনি, মিনু, ইসমাইল, রুমা, সালমা, আন্না, আবু তাহের, রেবেকা, জোসনা ও ঝরনা।অনুষ্ঠানে মনিরুল হক বলেন, ‘জামায়াতের স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা সন্তুষ্ট ছিলাম না। এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজ করতেই আমরা বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।’আগামী দিনে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি। বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবির আলম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোনায়েম হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি শাহাজান কবির, বাগআঁচড়া শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুর রহমান বাবু, বিএনপি নেতা ইসমাইল হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

জামায়াতের স্থানীয় কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ, শার্শায় বিএনপিতে ২০ পরিবারের ৬০ সদস্য

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান সেলিম উদ্দিনের

সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। অর্থের অভাবে নিম্নআয়ের অনেক মানুষ বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারছেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।শুক্রবার সকালে রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকার ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী সেলিম উদ্দিনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘পয়সা দিলে সব ঠিক, পয়সা নাই তো চিকিৎসা পাবেন না’—এমন পরিস্থিতি থেকে মানুষকে বের করে আনতে হবে। চিকিৎসাকে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।তিনি বলেন, জামায়াতের উদ্যোগে সারা বছর বিভিন্ন স্থানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করা হয়, যাতে অসচ্ছল ও নিম্নআয়ের মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।দায়িত্ব পেলে ঢাকা উত্তর সিটির হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এবং কম খরচে সরকারি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান সেলিম উদ্দিন। হাসপাতালগুলোকে দ্রুত সার্জারি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার কথাও বলেন তিনি।সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল গড়ে তুলতে চাই।’ উন্নত চিকিৎসার জন্য যাতে দেশের মানুষকে বিদেশে যেতে না হয়, সে ধরনের পরিবর্তন চিকিৎসাক্ষেত্রে আনার কথা জানান তিনি।চিকিৎসার নামে অর্থপাচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করতে কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম ও উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান।ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ঢাকা উত্তর সিটির উন্নয়ন ও আধুনিক নগরায়নে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নেতৃত্বের বিকল্প নেই।দিনব্যাপী এ মেডিকেল ক্যাম্পে মিরপুর ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চিকিৎসাসেবা নেন।

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান সেলিম উদ্দিনের

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাঁর প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৈঠক শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছেন দলের সংগ্রামী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ থেকে মির্জা ফখরুল পদত্যাগ করেছেন বলেও জানান রিজভী।আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্বাচন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।এরই মধ্যে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর পক্ষে জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।ইসির তফসিল অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোট হবে।১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকছে না।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে পাঁচ বছর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাঁকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়।২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাঁকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়।১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল