ঢাকা    রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে পারেন, তবে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে: রিজভী

শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে পারেন, তবে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চাইলে ফিরতে পারেন। তবে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানসহ তাঁর শাসনামলে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জনগণের কাছে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা হবে।রোববার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা মূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রিজভী।শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, তিনি দেশে ফিরলে আবু সাঈদসহ গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের হত্যার বিচার কে করবে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর মতো অপরাধেরও বিচার হতে হবে।রিজভী বলেন, মাঝেমধ্যেই শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কথা শোনা যাচ্ছে। তিনি ভারত থেকে কোথায় নামবেন—প্যারাশুটে, নাকি হেলিকপ্টারে? ঢাকায়, নাকি গোপালগঞ্জে? তিনি দেশে ফিরতে পারেন। তবে দেশে সরকার, আইন ও আদালত রয়েছে। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে।৭ নভেম্বরের চেতনায় গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাঅনুষ্ঠানে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রিজভী বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন, জনগণকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বাংলাদেশকে অন্য দেশের আধিপত্যের অধীন করার চেষ্টা হয়েছিল। এসব তৎপরতার বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ থেকেই সিপাহি-জনতার বিপ্লবের সূচনা হয়। এ কারণে দিনটি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পরিচিত।তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার মিল রয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনের পর জনগণকে আবার রাজপথে নামতে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম, খুন ও গুপ্তহত্যার ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি তরুণ ও শ্রমজীবী মানুষও হত্যার শিকার হয়েছেন।রিজভীর ভাষ্য, ছাত্র, তরুণ, শ্রমিক, রিকশাচালকসহ সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার শাসনের অবসান ঘটে। এই অভ্যুত্থানের পেছনে ৭ নভেম্বরের চেতনা ও প্রেরণা কাজ করেছে।জিয়াউর রহমানের শাসনামলের প্রশংসাবিএনপির এই নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের সময়ে দেশে বহু রাজনৈতিক দল আবার রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছিল। গ্রামাঞ্চলে কৃষি ও উৎপাদন কার্যক্রমে গতি এসেছিল। খাল খননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কলকারখানায় উৎপাদন সচল হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল।রিজভী আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছিল। গ্রাম পুলিশ ও মহিলা পুলিশ ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের একজন শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমিককে হত্যা করে।এরশাদের শাসনামল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় আসেন। এর ফলে দেশে আবার গণতন্ত্রের অবসান ঘটে। পরে খালেদা জিয়া দীর্ঘ নয় বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালে গণতান্ত্রিক শক্তির বিজয় নিশ্চিত করেন।ভারতের আধিপত্যের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বানরিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতা-কর্মীরা এখনো ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণ করে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বাংলাদেশকে কোনো দেশের অধীনস্থ কিংবা সেবাদাস রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের সামনে স্বাধীনতার চেতনার কথা বললেও ভারতের কাছে গিয়ে শেখ হাসিনার অবস্থান ছিল ভিন্ন। জনগণের কাছে এক ধরনের বক্তব্য দিলেও দিল্লির কাছে তাঁর অবস্থান ছিল আলাদা।ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, একসময় মাশরাফি বলেছিলেন, শেখ হাসিনা না থাকলে নড়াইল থাকবে না। এখন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় নেই, তাহলে কি বাংলাদেশে নড়াইলের অস্তিত্ব নেই?শেখ হাসিনার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার প্রচেষ্টার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, অনুগত ও তোষামোদকারীদের ওপর নির্ভর করে তিনি আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলেন। একের পর এক বিনা ভোটের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তাঁর ধারণা হয়েছিল, সবকিছু তাঁর নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু জনগণের শক্তি ও ক্ষোভের গভীরতা তিনি বুঝতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত জনগণের আন্দোলনের মুখে তাঁকে ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ছাড়তে হয়েছে।বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ তুলে ধরে রিজভী বলেন, বিএনপির রাজনীতি সরল ও সঠিক পথের রাজনীতি, যা সিরাতুল মুস্তাকিমের আদর্শ অনুসরণ করে। খালেদা জিয়া কখনো তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেননি। তারেক রহমানও অঙ্গীকারের বরখেলাপ করেননি।