জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ
ডারউইন টেস্টে
বাংলাদেশের অবস্থান এখন বেশ শক্ত।
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানের জবাবে
৪২৬ রান করে ২২৮
রানের লিড নেওয়ার পর
তৃতীয় দিন শেষে স্বাগতিকদের
দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬১ রানে ৪
উইকেট তুলে নিয়েছে নাজমুল
হোসেন শান্তর দল। অস্ট্রেলিয়ার লিড
এখন ৬৭ রান। ম্যাচের
বাকি দুই দিন।তবে এতটা
সুবিধাজনক অবস্থানেও এখনই জয়ের কথা
ভাবছেন না বাংলাদেশের অলরাউন্ডার
মেহেদী হাসান মিরাজ। তাঁর লক্ষ্য আপাতত
একেকটি উইকেট করে এগিয়ে যাওয়া।মারারা স্টেডিয়ামের
উইকেট সময় গড়ানোর সঙ্গে
ব্যাটিংয়ের জন্য আরও ভালো
হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার পেসার জশ হ্যাজলউডও মনে
করছেন, উইকেটে এখনো ব্যাট করা
তুলনামূলক সহজ। ফলে হাতে
থাকা ছয় উইকেট নিয়ে
অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে লড়াই জমিয়ে তুলতে
পারে।দিন শেষে
সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বলেন, ‘আমরা ওইভাবে চিন্তা
করছি না। আমরা চেষ্টা
করছি ভালো জায়গায় বল
করার জন্য। প্রতিটি উইকেট নিতে গেলে কষ্ট
করে বল করতে হবে,
কারণ উইকেট অত সহজ নয়।’জয়ের পরিকল্পনা
নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘যত কম রান
হয়, ততই ভালো। এখনো
খেলার দুদিন বাকি। আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো
এখান থেকে দ্রুত তিনটি
উইকেট নেওয়া, কারণ ওরা সবাই
ভালো ব্যাটিং করে। উইকেট সময়ের
সঙ্গে আরও ভালো হচ্ছে।
আমরা বড় লক্ষ্য নিয়ে
চিন্তা না করে ছোট
ছোট পদক্ষেপে এগোনোর চেষ্টা করছি।’অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের
উইকেট পাওয়া সহজ হচ্ছে না
বলেও জানান তিনি। মিরাজ বলেন, ‘আমরা যে উইকেটগুলো
পেয়েছি, অনেক কষ্ট করেই
নিতে হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি
রান যতটা আটকানো যায়।
এই রানের ভেতরে যদি আরও তিন-চারটা উইকেট নিতে পারি, তখন
আমাদের জন্য সহজ হবে।
হয়তো রানের লক্ষ্যটাও বেশি থাকবে না।’প্রথম ইনিংসে
বাংলাদেশের ৪২৬ রানে গুরুত্বপূর্ণ
অবদান রেখেছেন মিরাজ। তাঁর ব্যাট থেকে
এসেছে ৬৫ রান। মুশফিকুর
রহিম আউট হওয়ার পর
মূলত লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে
নেন তিনি।নিজের ব্যাটিং
নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘আমার জন্য ব্যাটিংটা
একটু কঠিন ছিল। আমি
যখন নেমেছিলাম, তখন মুশফিক ভাই
আউট হয়ে গেছেন। আমি
বোলারদের নিয়েই যা রান করার
করেছি। ওই সময়ে রান
করাটা আমার জন্য একটু
চ্যালেঞ্জিং ছিল।’বল হাতেও
অবদান রেখেছেন মিরাজ। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে দলের অন্যতম ভরসা
স্টিভ স্মিথকে নিজের বলে ক্যাচ বানিয়ে
ফিরিয়েছেন তিনি। এর আগে ২০১৭
সালের মিরপুর টেস্টেও স্মিথের উইকেট নিয়েছিলেন এই অলরাউন্ডার।স্মিথের উইকেটকে
নিজের জন্য বিশেষ মুহূর্ত
হিসেবে উল্লেখ করে মিরাজ বলেন,
‘এটি আমার জন্য দারুণ
একটি মুহূর্ত ছিল। তিনি বিশ্বের
অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান, আর
তাঁর উইকেট নেওয়াটা আমার জন্য দারুণ
একটি মুহূর্ত।’সাম্প্রতিক ব্যর্থতা
পেছনে ফেলে বাংলাদেশ ঘুরে
দাঁড়ানোর পেছনে দলের আত্মবিশ্বাসকে বড়
কারণ মনে করছেন মিরাজ।
তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের সবার বিশ্বাস ছিল
যে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে
পারি। আমরা ভালো ক্রিকেট
খেলার চেষ্টা করেছি এবং প্রত্যেক খেলোয়াড়ের
মধ্যে বিশ্বাসটা ছিল।’এখন সেই
আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে অস্ট্রেলিয়ার
বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়তে পারে কি
না, সেটিই দেখার বিষয়।