বাংলাদেশ পুলিশের ছয় কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ইউনিট ও কর্মস্থলে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। জনস্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁদের নতুন পদ ও কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সরকারকে চাঁদপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রিভার) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।পুলিশ স্টাফ কলেজ, ঢাকায় কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আশিকুর রহমানকে ভোলা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।হবিগঞ্জের মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম সালিমুল হককে হাইওয়ে পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।এপিবিএনে কর্মরত সহকারী পুলিশ সুপার তানিয়া ইসলামকে হাইওয়ে পুলিশে একই পদে পদায়ন করা হয়েছে।চট্টগ্রামের মীরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাদিম হায়দার চৌধুরীকে ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ট্যুরিস্ট পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে তাঁর আগের বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে।এ ছাড়া শিল্পাঞ্চল পুলিশে কর্মরত সহকারী পুলিশ সুপার অনিক চৌধুরীকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বদলিকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় বিভিন্ন অপরাধে ১৯টি মামলা করা হয়েছে। অভিযানে একটি দেশীয় রিভলবার, চার রাউন্ড গুলি, ৬ হাজার ৩২৪টি ইয়াবা, ৩৩ পুরিয়া গাঁজা ও নগদ ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।বুধবার ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।ডিএমপির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩২ জন, লালবাগে ৩৬ জন, ওয়ারীতে ৫০ জন, মতিঝিলে ৫৬ জন, তেজগাঁওয়ে ৫৯ জন, মিরপুরে ১৩৩ জন, গুলশানে ২৩ জন এবং উত্তরা বিভাগে ৫০ জন রয়েছেন। এ ছাড়া গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।অভিযানে অস্ত্র ও গুলির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬ হাজার ৩২৪টি ইয়াবা ও ৩৩ পুরিয়া গাঁজা। এ ছাড়া নগদ ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
রাজধানীর গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে অভিযান চালিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা-পুলিশ।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত গুলশান থানা-পুলিশ পৃথকভাবে দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়।অভিযান চালানো প্রতিষ্ঠান দুটি হলো গুলশান থানার ২৪ নম্বর সড়কের ‘গুলশান ওয়ান সেলুন’ এবং ৯৯ নম্বর সড়কের ‘হট স্টোন স্পা’।পুলিশ জানায়, অভিযানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৪ জন পুরুষ ও ২৯ জন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।গুলশান থানা সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।পুলিশ জানিয়েছে, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঢাকার বংশাল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোরচক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ। এ সময় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৬টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সজিব (২৮), মো. নিশান আহমেদ (২৫), রুবেল আহমেদ (৩৮) ও নিত্য সরকার (১৯)। তাঁদের মধ্যে সজিবের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে, নিশান আহমেদের বাড়ি নাটোরের বাগাতিপাড়ায়, রুবেল আহমেদের বাড়ি বাঞ্ছারামপুর এবং নিত্য সরকারের বাড়িও একই উপজেলার বটতলী এলাকায়।ডিএমপি জানায়, গত ১৮ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি ওয়ারী বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম বংশাল থানার মোকিম বাজার রোডে অভিযান চালায়। সেখান থেকে সজিব ও নিশান আহমেদকে আটক করা হয়।পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রুবেল আহমেদ ও নিত্য সরকারসহ চোরচক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।অভিযানে উদ্ধার করা ১৬টি মোটরসাইকেলের মধ্যে রয়েছে সুজুকি জিক্সার, হোন্ডা এক্স-ব্লেড, ইয়ামাহা এফজেডএস, টিভিএস রাইডার, রয়্যাল এনফিল্ড, হোন্ডা সিবিআর ও ইয়ামাহা আর১৫সহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল।ডিবি ওয়ারী বিভাগ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মোটরসাইকেল ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বংশাল থানায় মামলা করা হয়েছে। ১৯ আগস্ট দায়ের করা মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৪১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৫৫টি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।ডিএমপি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানার এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।কোন বিভাগে কতজন গ্রেপ্তারডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রমনা বিভাগে ২৫ জন, লালবাগে ৪৫, ওয়ারীতে ৬৫, মতিঝিলে ৪৭, তেজগাঁওয়ে ৪১, মিরপুরে ১২০, গুলশানে ৯৩ এবং উত্তরা বিভাগে ৬৩ জন রয়েছেন। এ ছাড়া গোয়েন্দা বিভাগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।যা উদ্ধার হয়েছেঅভিযানে দুটি সুইচ গিয়ার, ২৭ কেজি ৫১০ গ্রাম গাঁজা, ২৩১টি ইয়াবা ও ৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।এ ছাড়া একটি এনা বাস, একটি ট্রাক, ১৭টি মোটরসাইকেল ও আটটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।পুলিশের অভিযানে ৫৯৭ দশমিক ৭৩ গ্রাম স্বর্ণালংকার এবং ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা চোরাই টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪ ভরি ১৫ আনা ৫ রতি চোরাই স্বর্ণালংকার এবং দুজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়েছে।ডিএমপির কর্মকর্তা নিয়াজ মেহেদী জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তায় ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জুলাই মাসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন ইউনিট ও কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এ মূল্যায়নে মিরপুর বিভাগ শ্রেষ্ঠ বিভাগ এবং মিরপুর মডেল থানা শ্রেষ্ঠ থানা নির্বাচিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজারবাগের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে জুলাই মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় শ্রেষ্ঠদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির ও ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান (পিপিএম) এবারও শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছেন। এ নিয়ে ডিএমপির শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে টানা ১২ বার পুরস্কার পেলেন তিনি।ডিএমপিতে যোগদানের পর উত্তরা পশ্চিম, গুলশান, হাজারীবাগ ও বর্তমানে মিরপুর মডেল থানায় দায়িত্ব পালনকালে নিজ নিজ এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকার জন্য তিনি এ স্বীকৃতি পেয়েছেন।অন্যান্য ক্যাটাগরিতে যারা সেরাঅপরাধ বিভাগের মূল্যায়নে দ্বিতীয় হয়েছে উত্তরা-পশ্চিম থানা এবং তৃতীয় হয়েছে বাড্ডা থানা।সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন ডেমরা জোনের এসি মো. শামীম হোসেন। দ্বিতীয় হয়েছেন মোহাম্মদপুর জোনের এসি মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।শ্রেষ্ঠ এসআই হিসেবে প্রথম হয়েছেন পল্লবী থানার এসআই মো. সাইফুল ইসলাম। দ্বিতীয় ভাটারা থানার এসআই দেবাশীষ মন্ডল এবং তৃতীয় পল্টন মডেল থানার এসআই অমিত কুমার বিশ্বাস।এএসআইদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানার এএসআই নাজমুল ইসলাম এবং দ্বিতীয় হয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার এএসআই নাদের আলী।ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগ। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার নির্বাচিত হয়েছেন গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগের ওয়ারী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম।ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগ। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক সার্জেন্টদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন মিরপুর ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. সামসুদ্দীন সরকার এবং দ্বিতীয় হয়েছেন যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. শাহরিয়ার খান।পুরস্কার কাজের স্পৃহা বাড়িয়ে দেয়টানা ১২ বার ডিএমপির শ্রেষ্ঠ ওসি হওয়ার অনুভূতি জানিয়ে হাফিজুর রহমান (পিপিএম) বলেন, ‘জনগণের সেবা দেওয়া আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমি সেই দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। এ ধরনের পুরস্কার কাজের প্রতি স্পৃহা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।’তিনি এ অর্জনের জন্য ডিএমপি কমিশনার, সংশ্লিষ্ট ডিসি এবং মিরপুর মডেল থানায় কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।হাফিজুর রহমান বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও আরও ভালো কাজের মাধ্যমে ডিএমপির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিটের উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, সব থানার ওসি এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।