যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচারে ভূমিকা, নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাই
দক্ষিণ
আফ্রিকার বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী ও বিচারক নাভি
পিল্লাই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বলে খবরে উল্লেখ
করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচারের
ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তাঁকে এই
সম্মাননা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা
হয়েছে নরওয়ের নোবেল কমিটির ঘোষণার বরাতে।নাভি
পিল্লাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায়
পরিচিত একটি নাম। তিনি
২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল
পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ
ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ
আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।বর্ণবাদবিরোধী
আন্দোলনের পক্ষে আইনি লড়াইনাভি
পিল্লাই ১৯৪১ সালের ২৩
সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ
করেন। নাটাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনের
পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড
ল স্কুল থেকে এলএলএম ও
ডক্টর অব জুরিডিক্যাল সায়েন্স
(এসজেডি) ডিগ্রি অর্জন করেন। হার্ভার্ড থেকে আইন বিষয়ে
ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনকারী প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান নারী হিসেবে তাঁর
নাম উল্লেখ করা হয়।কর্মজীবনের
শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা রাজনৈতিক
বন্দি ও অধিকারকর্মীদের পক্ষে
আইনি লড়াই করেন তিনি।
বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাসহ
বিভিন্ন ব্যক্তির পক্ষে আইনি সহায়তা দেওয়ার
মধ্য দিয়ে তাঁর আইনজীবীজীবনের
গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়।আন্তর্জাতিক
বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাদক্ষিণ
আফ্রিকায় বিচারকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায়ও যুক্ত ছিলেন নাভি পিল্লাই। তিনি
রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ
আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।২০০৮
সালে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। ২০১৪
সাল পর্যন্ত এই পদে থেকে
বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সুরক্ষা ও লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো
মোকাবিলায় কাজ করেন।যুদ্ধাপরাধ,
মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মতো
গুরুতর অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক
বিচারব্যবস্থার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নাভি পিল্লাইয়ের দীর্ঘ
কর্মজীবন মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের
সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত।নোবেল
শান্তি পুরস্কারের পটভূমিসুইডিশ
শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের ১৮৯৫ সালের উইল
অনুযায়ী নোবেল পুরস্কারের সূচনা হয়। তাঁর নির্দেশনায়
শান্তি পুরস্কার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে
এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে, যারা
জাতিগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি, স্থায়ী সেনাবাহিনী বিলুপ্ত বা হ্রাস এবং
শান্তি প্রতিষ্ঠা ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ
অবদান রাখে।
নাভি
পিল্লাইয়ের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত
হলে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক অপরাধের
বিচারে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি
হিসেবে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।