ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
গুমের শিকারদের খুঁজে পরিবারের কাছে সত্য তুলে ধরার দাবি নাহিদ ইসলামের

গুমের শিকারদের খুঁজে পরিবারের কাছে সত্য তুলে ধরার দাবি নাহিদ ইসলামের

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার সব ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে তাঁদের পরিবারের কাছে সত্য তুলে ধরা এবং প্রতিটি ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব দাবি জানান। একই সঙ্গে গুম প্রতিরোধ আইনে গুমের অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের সুস্পষ্ট বিধান রাখার আহ্বান জানান তিনি।বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান।নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনামলে গুমকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিরোধী দল ও মতের অনেক নাগরিক এর শিকার হয়েছেন এবং তাঁদের অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে স্বজনদের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।‘আয়নাঘর’-এ মানুষকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা মানবতার জন্য লজ্জাজনক।বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশেও অনেক পরিবার প্রিয়জনের সন্ধানের অপেক্ষায় রয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, গুমের শিকার অনেক ব্যক্তির এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। মোংলার কারাগারে মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগও উদ্বেগের বিষয়।বর্তমান সরকারের সংসদে উত্থাপিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির আহ্বায়ক। তাঁর আশঙ্কা, এসব উদ্যোগে গুমের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়মুক্তির সুযোগও থেকে যেতে পারে।নাহিদ ইসলাম বলেন, গুমের প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত না হলে দেশে গুমের সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান সম্ভব নয়।তিনি চারটি দাবি তুলে ধরেন- মোংলায় গুমের শিকার মিরাজ শেখসহ আওয়ামী লীগ আমলে নিখোঁজ সবাইকে খুঁজে বের করা, তাঁদের পরিবারের কাছে সত্য তুলে ধরা, গুমের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং গুম প্রতিরোধ আইনে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের সুস্পষ্ট বিধান রাখা। বাংলাদেশে ভবিষ্যতে যেন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের ঘটনা না ঘটে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে লংমার্চ: নাহিদ ইসলাম

সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে ১১ দলীয় ঐক্য কী করবে এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, তাঁদের কর্মসূচি চলমান রয়েছে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে লংমার্চ কর্মসূচি শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিভাগেও এ কর্মসূচি পালন করা হবে।এ ছাড়া গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কথাও জানান তিনি।বুধবার রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।তিনি বলেন, ‘দেশে এই মুহূর্তে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট চলছে। এমনকি মন্ত্রী-এমপিরা যখন কথা বলছেন, তখনও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। অবশ্য, তাঁরা ইনিয়ে-বিনিয়ে বলার চেষ্টা করছেন, দেশে এই মুহূর্তে কোনো সংকট নেই।’গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পদযাত্রাসংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিগত সময়ে বিচারবহির্ভূতভাবে অনেক মানুষ গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার বিচার এখনো হয়নি।এসব বিষয় সামনে রেখে আগামী ৩০ আগস্ট রোববার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করবে ১১ দলীয় ঐক্য। এতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেবেন বলে জানান তিনি।সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে লংমার্চ: নাহিদ ইসলাম

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর জনগণ মেনে নেবে না: নাহিদ

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর জনগণ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।শুক্রবার গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এনসিপি আয়োজিত গণসমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, দেশের পরিবর্তন ও সংস্কারের জন্যই এনসিপি গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল এবং পরে নির্বাচনে অংশ নেয়।তিনি বলেন, আমরা আপনাদের বলেছিলাম, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে দেশের সংস্কার হবে।প্রতারক সরকারসরকারকে ‘প্রতারক’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা দেশের জনগণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও হাজারো শহীদের সঙ্গে প্রতারণা করে ক্ষমতায় এসেছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।তিনি আরও বলেন, মাত্র পাঁচ মাসে বাংলাদেশের ইতিহাসে লোডশেডিংয়ের সব রেকর্ড ভেঙেছে সরকার। এ প্রসঙ্গে তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সময়ের কথাও উল্লেখ করেন।দেশের সম্পদ তুলে দেওয়া হচ্ছেনাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নির্বাচন করা হয়েছিল, এখন তাদের হাতেই দেশের সম্পদ তুলে দেওয়া হচ্ছে।গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে এনসিপির পক্ষ থেকে আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর জনগণ মেনে নেবে না: নাহিদ

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে সীমান্ত হত্যা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি বাদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে সীমান্ত হত্যা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।শনিবার বেলা ১১টার পর জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন।নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে সীমান্ত হত্যার একটি সেগমেন্ট ছিল। সীমান্তে যেসব হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সেসবের স্মৃতি এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।’জাদুঘরে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রাম তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশে যে ফ্যাসিবাদ ছিল, তার সঙ্গে ভারত জড়িত ছিল। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি হয়তো ভারতকে ভয় পাচ্ছে এবং সরকার মনে করছে, এভাবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখা সম্ভব।ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো বা খারাপের বিষয় নয়। সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদাপূর্ণ।’গণভবন প্রসঙ্গে নাহিদজুলাই স্মৃতি জাদুঘর যে ভবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই গণভবন সম্পর্কে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই গণভবন থেকেই শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী সব সিদ্ধান্ত নিতেন। মানুষকে লুটপাট, অর্থ লুটপাটসহ সব সিদ্ধান্ত এখান থেকেই নেওয়া হতো।’তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছিল। জাদুঘরটি খুলে দেওয়ার জন্য তারা সংসদে ও সংসদের বাইরে অনেক কথা বলেছেন। এর আগেও তিনি জাদুঘরটি পরিদর্শন করেছিলেন। নির্বাচনের পর সরকার জাদুঘরে কিছু পরিবর্তন করেছে বলেও জানান তিনি।‘জুলাইয়ের ইতিহাস আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে হবে’জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিগুলো জাদুঘরে আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার দাবি জানান নাহিদ ইসলাম। তাঁর মতে, সময়ের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অবদানও জাদুঘরে তুলে ধরা প্রয়োজন।জাদুঘরে কেন্দ্রীয় ও পরিচিত ব্যক্তিদের বারবার তুলে ধরা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি জাদুঘরের দায়িত্বশীলদের জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা সংসদে বলেছিলাম, এটি স্বায়ত্তশাসিত জাদুঘর হওয়া উচিত।’জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করেন- এমন ব্যক্তিদের দিয়ে জাদুঘর পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর যেন দলীয় ইতিহাস চর্চার জায়গা না হয়, জাতীয় ইতিহাস চর্চার জায়গা হয়। প্রকৃত সত্যটাই যেন এখানে আসে এবং সবাই যেন সেটি ধারণ করতে পারে।’এ সময় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে সীমান্ত হত্যা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি বাদ