ঢাকা    সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
শিক্ষা ও মানবিক উন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়নের মাপকাঠি: ডেপুটি স্পিকার

শিক্ষা ও মানবিক উন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়নের মাপকাঠি: ডেপুটি স্পিকার

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, একটি এলাকার উন্নয়ন শুধু ইট-পাথরের ভবন নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ তৈরি করাই প্রকৃত উন্নয়নের অন্যতম মাপকাঠি।রোববার দুপুরে দুর্গাপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি (বিরিশিরি) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এবতেদায়ি পঞ্চম শ্রেণি, অষ্টম শ্রেণি/সমমান জুনিয়র বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং এসএসসি/সমমান-২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কায়সার কামাল বলেন, ‘আমাকে আপনারা গতানুগতিক ধারার কোনো রাজনৈতিক কর্মী বা এমপি হিসেবে দেখবেন না। আমি শুধু ইট-পাথরের অট্টালিকা বা দালানকোঠা নির্মাণ করে উন্নয়নের প্রমাণ দিতে চাই না। আমি চাই আমাদের এ অঞ্চলের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা ও মানবিক উন্নয়ন।’তিনি শিক্ষার্থীদের অতিথিদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পরামর্শ দেন। নারী শিক্ষার্থীদের সাফল্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সাধারণ শাখায় ২৮ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ২১ জনই নারী শিক্ষার্থী।ভবিষ্যতে দুর্গাপুর-কলমাকান্দা এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের কেউ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হবে, এমন প্রত্যাশার কথাও জানান ডেপুটি স্পিকার।কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিএ, এমএ পাস করার পর অনেকেই বেকার থাকেন, কিন্তু টেকনিক্যাল স্কুল-কলেজ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের বেকার থাকার সুযোগ কম।শিক্ষার্থীদের সততা ও একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে কায়সার কামাল বলেন, মানুষ হিসেবে কর্মের মাধ্যমে আত্মতৃপ্তি অর্জন করতে না পারলে জীবনের সার্থকতা থাকে না। সততা ও একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করলেই সেই আত্মতৃপ্তি পাওয়া সম্ভব।অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বইয়ের সব অর্থ একবারে বোঝা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই পাশে ডিকশনারি রেখে বই পড়তে হবে। ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে এই অভ্যাস কাজে দেবে।দুপুর গড়িয়ে যাওয়ায় উপস্থিত সবার ক্ষুধার কথা বিবেচনা করে নিজের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করেন ডেপুটি স্পিকার। অনুষ্ঠানে দেরিতে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন।অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, কৃতি শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অভাব পেরিয়ে সুমাইয়ার জিপিএ-৫

অভাব-অনটনকে পেছনে ফেলে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সুমাইয়া আক্তার। পরিবারের আর্থিক সংকটের মধ্যেও পড়াশোনায় মনোযোগ ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জন করেছে সে। তার ফলাফলে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।সুমাইয়ার বাড়ি উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের চাপুরী গ্রামে। তার বাবা সাইফুল ইসলাম ফকির একটি মুরগির খামারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। সংসারের খরচ চালাতে সুমাইয়ার মাকেও বিভিন্ন কাজে যুক্ত হতে হয়। সীমিত আয়ের সংসারে মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানো পরিবারের জন্য সহজ ছিল না। তবে সামর্থ্যের মধ্যে থেকে মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তার বাবা-মা।সুমাইয়া এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে কথাসাহিত্যিক ড. হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান ‘শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ’ থেকে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে সুমাইয়ার জিপিএ-৫ বিদ্যালয়ের সাফল্যে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।সুমাইয়ার মেধা ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বিবেচনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তার পাশে দাঁড়িয়েছে। পড়াশোনার খরচের একটি অংশ বহন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।সুমাইয়া জানায়, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একজন সফল মানুষ হতে চায়। তার স্বপ্ন পূরণে শিক্ষক ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা চায় সে।সুমাইয়ার এই ফলাফলে পরিবার ও শিক্ষকেরা খুশি। তাঁদের প্রত্যাশা, আর্থিক সংকট যেন তার উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

অভাব পেরিয়ে সুমাইয়ার জিপিএ-৫

ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা-শেরপুর সীমান্তে চোরাচালানের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক

ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও শেরপুরের ভারতের মেঘালয়সংলগ্ন সীমান্তের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে মাদক, অস্ত্র, গবাদিপশু ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য আনা-নেওয়া হচ্ছে।হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদীর বিভিন্ন সীমান্তপথে এই অবৈধ বাণিজ্য চলছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও বাংলাদেশের নিজস্ব কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় এসব এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি কঠিন।অনুসন্ধানে ভারত থেকে অস্ত্র, মাদক, বিদেশি মদ, ওষুধ, গরু ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য প্রবেশের তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও মাছ, কৃষিপণ্য, খাদ্যসামগ্রী, প্লাস্টিক পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য ভারতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাই পণ্য বিক্রির জন্য বাজারও গড়ে উঠেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এসব বাজারে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা আসেন। ফলে সীমান্তকেন্দ্রিক অবৈধ বাণিজ্য একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, চোরাচালান এখন শুধু রাজস্ব ক্ষতির বিষয় নয়; এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা, দেশীয় শিল্প, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার বিষয়ও জড়িত। সীমান্তে আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি, জনবল ও অবকাঠামো বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যকর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সীমান্তের দুর্গমতা ও সীমিত জনবলের কথা জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, নিয়মিত টহল, অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ চলছে। তবে জনবল ও আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা বাড়ানো গেলে এ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা-শেরপুর সীমান্তে চোরাচালানের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক