নেত্রকোনার দুর্গাপুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, একটি এলাকার উন্নয়ন শুধু ইট-পাথরের ভবন নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ তৈরি করাই প্রকৃত উন্নয়নের অন্যতম মাপকাঠি।
রোববার দুপুরে
দুর্গাপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি (বিরিশিরি) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান
অতিথির
বক্তব্যে তিনি
এসব
কথা
বলেন।
দুর্গাপুর উপজেলা
প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত
অনুষ্ঠানে এবতেদায়ি পঞ্চম
শ্রেণি,
অষ্টম
শ্রেণি/সমমান জুনিয়র বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং
এসএসসি/সমমান-২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া
হয়।
দুর্গাপুর উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)
আহমেদ
সাদাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ
অতিথি
ছিলেন
নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা
প্রশাসক (শিক্ষা
ও
আইসিটি)
মুন
মুন
জাহান
লিজা।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কায়সার
কামাল
বলেন,
‘আমাকে
আপনারা
গতানুগতিক ধারার
কোনো
রাজনৈতিক কর্মী
বা
এমপি
হিসেবে
দেখবেন
না।
আমি
শুধু
ইট-পাথরের অট্টালিকা বা
দালানকোঠা নির্মাণ করে
উন্নয়নের প্রমাণ
দিতে
চাই
না।
আমি
চাই
আমাদের
এ
অঞ্চলের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা ও
মানবিক
উন্নয়ন।’
তিনি শিক্ষার্থীদের অতিথিদের বক্তব্য মনোযোগ
দিয়ে
শোনার
পরামর্শ দেন।
নারী
শিক্ষার্থীদের সাফল্যের প্রশংসা করে
তিনি
বলেন,
সাধারণ
শাখায়
২৮
জন
জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে
২১
জনই
নারী
শিক্ষার্থী।
ভবিষ্যতে দুর্গাপুর-কলমাকান্দা এলাকা
থেকে
শিক্ষার্থীদের কেউ
প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে
আসীন
হবে, এমন প্রত্যাশার কথাও
জানান
ডেপুটি
স্পিকার।
কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে
ধরে
তিনি
বলেন,
প্রধানমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিএ,
এমএ
পাস
করার
পর
অনেকেই
বেকার
থাকেন,
কিন্তু
টেকনিক্যাল স্কুল-কলেজ থেকে পাস
করা
শিক্ষার্থীদের বেকার
থাকার
সুযোগ
কম।
শিক্ষার্থীদের সততা
ও
একাগ্রতার সঙ্গে
কাজ
করার
আহ্বান
জানিয়ে
কায়সার
কামাল
বলেন,
মানুষ
হিসেবে
কর্মের
মাধ্যমে আত্মতৃপ্তি অর্জন
করতে
না
পারলে
জীবনের
সার্থকতা থাকে
না।
সততা
ও
একাগ্রতার সঙ্গে
কাজ
করলেই
সেই
আত্মতৃপ্তি পাওয়া
সম্ভব।
অষ্টম থেকে
দশম
শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই
পড়ার
অভ্যাস
গড়ে
তোলার
পরামর্শ দিয়ে
তিনি
বলেন,
বইয়ের
সব
অর্থ
একবারে
বোঝা
সম্ভব
নাও
হতে
পারে।
তাই
পাশে
ডিকশনারি রেখে
বই
পড়তে
হবে।
ভবিষ্যৎ জীবন
গঠনে
এই
অভ্যাস
কাজে
দেবে।
দুপুর গড়িয়ে
যাওয়ায়
উপস্থিত সবার
ক্ষুধার কথা
বিবেচনা করে
নিজের
বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করেন
ডেপুটি
স্পিকার। অনুষ্ঠানে দেরিতে
যোগ
দেওয়ার
জন্য
তিনি
আন্তরিক দুঃখ
প্রকাশ
করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, কৃতি শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।