ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

শিক্ষাঙ্গন

কারিগরি শিক্ষার দক্ষতা উন্নয়নে চীনের সঙ্গে সমঝোতা বাংলাদেশের

কারিগরি শিক্ষার দক্ষতা উন্নয়নে চীনের সঙ্গে সমঝোতা বাংলাদেশের

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঘোষিত ফ্রেমওয়ার্ক অব ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন স্ট্যান্ডার্ডস বা ‘বেইজিং এগ্রিমেন্টে’ সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চীনের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে দেশটি।শনিবার চীনের তিয়ানজিনের মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে ২০২৬ সালের বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক কাঠামোটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন। তিনি এ কাঠামোকে সমর্থনকারী দেশগুলোর অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে মঞ্চে অংশ নেন।সম্মেলনে ৪০টির বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১০০টির বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। বেইজিং এগ্রিমেন্টের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ‘চীনে বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক শ্বেতপত্র’, ‘লুবান ওয়ার্কশপের জাতীয় মানদণ্ড’ এবং আন্তর্জাতিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আরও কয়েকটি উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।বেইজিং এগ্রিমেন্টে বাংলাদেশের সমর্থনের মাধ্যমে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা-প্রশিক্ষণের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড উন্নয়নে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষতায় প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।বাংলাদেশ-চীন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরসম্মেলনের যৌথ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদার করতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী ওয়াং গুয়াংইয়ান এতে স্বাক্ষর করেন।এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সমঝোতা স্মারক ও বেইজিং এগ্রিমেন্ট একসঙ্গে বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়নে গতি আনবে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক কারিগরি শিক্ষার মানদণ্ড এবং বাস্তবধর্মী দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা তরুণ বাংলাদেশিদের জন্য বাস্তব কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।সমঝোতা স্মারক ও বৈশ্বিক কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে উভয় পক্ষ। পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই আর্থসামাজিক উন্নয়নে এ উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে তারা আশাবাদ জানিয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন স্থগিত রাখতে নির্দেশনা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখতে অনুরোধ জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।বৃহস্পতিবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনসংক্রান্ত প্রবিধানমালা-২০২৬ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠনের কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।এ নির্দেশনার অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পাশাপাশি সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদেরও বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন স্থগিত রাখতে নির্দেশনা

সাংবাদিকদের ওপর হামলা: রাবি ছাত্রদলের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা প্রেসক্লাবের

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর নিঃশর্ত ক্ষমা দাবি করেছেন ক্যাম্পাসে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা। একই সঙ্গে হামলার বিচার ও ছাত্রদল সভাপতির ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত রাবি ছাত্রদলের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব। প্রেসক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আজাহারুল ইসলাম তুহিন বিজ্ঞপ্তিটি পাঠান।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৪ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর হামলায় ক্যাম্পাসের চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত নেওয়া ব্যবস্থাকে যথেষ্ট মনে করছে না প্রেসক্লাব।প্রেসক্লাব জানায়, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা হাসিবুল ইসলাম হাসিবকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।বিজ্ঞপ্তিতে ১৫ অক্টোবরের সিন্ডিকেট সভায় এ ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্য কমিটি গঠন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আহসান হাবীবের সনদ বাতিল, হাসিবুল ইসলাম হাসিবকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং অভিযোগের সত্যতা ও অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে প্রেসক্লাব।ভুল বোঝাবুঝি মন্তব্যে আপত্তিছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর বক্তব্যের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রেসক্লাবের মতে, তাঁর এ বক্তব্য হামলার গুরুত্ব খাটো করে দেখানোর পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ছাত্রদল সভাপতির বক্তব্য ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। এ ছাড়া হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের বারবার হুমকি দেওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রেসক্লাব।প্রেসক্লাবের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ছাত্রদল সভাপতি তাঁর বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চাননি।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এবং সুলতান আহমেদ রাহীর নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত রাবি ছাত্রদলের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কট করবেন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকেরা।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা: রাবি ছাত্রদলের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা প্রেসক্লাবের

ইবির আট অনুষদের ৩৬ শিক্ষার্থী পেলেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড

একাডেমিক কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আটটি অনুষদের ৩৬ শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে মেডেল, সনদ ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান। এ ছাড়া আটটি অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।প্রতিটি অনুষদে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী এবং যৌথভাবে সর্বোচ্চ ফল করা শিক্ষার্থীদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।কোন অনুষদে কতজনডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের নয়জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মোহাম্মদ আল-ফিড, আলী আহসান মোহাম্মদ জুবায়ের, মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. শরিফুল ইসলাম ও নাঈমুর রহমান; আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ আহসান ভূঁইয়া এবং দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নাজমুল ইসলাম ও নুমান আল হাদী।কলা অনুষদ থেকে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের মোছা. তানজিলা খাতুন, মো. হাফিজুল ইসলাম ও জেবা রহমান পুরস্কার পেয়েছেন।সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের চার শিক্ষার্থী হলেন লোকপ্রশাসন বিভাগের মো. মুনতাকিম রহমান, অর্থনীতি বিভাগের মো. টোগর আলী ও জেসিয়া খাতুন এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের মোছা. শিরাজাম মনিরা।আইন অনুষদ থেকে ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের সাদিয়া, রফিয়া খাতুন ও মোছা. হাফসা খানসান সন্ধানী ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ থেকে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সুমি খাতুন ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিম; ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রত্যশী সানা, মো. সিরাজুল ইসলাম ও অনিন্দ্য সাহা এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের মেহেদী হাসান সিকদার পুরস্কার পেয়েছেন।বিজ্ঞান অনুষদ থেকে পরিসংখ্যান ও তথ্য বিজ্ঞান বিভাগের মো. মেহেদী হাসান লিমন ও মো. মাহমুদুল ইসলাম এবং গণিত বিভাগের আরিফুল ইসলাম ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ থেকে ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের মোছা. মোহনা রহমান নাইস, জান্নাতুন নাঈম ও নাফিজ রহমান সায়েম; ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. আহসান হাবীব এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মো. মাহফুজুর রহমান পুরস্কার পেয়েছেন।জীববিজ্ঞান অনুষদ থেকে ফার্মেসি বিভাগের আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মো. আব্দুল রাশাড় এবং বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. মেহেদী হাসান ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।স্বীকৃতির পাশাপাশি এটি নতুন দায়িত্বঅ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, এ স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের মেধা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মূল্যায়ন। একই সঙ্গে এটি তাঁদের জন্য নতুন দায়িত্বও।তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে দেশ, দেশের মানুষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে হবে।উপাচার্য আরও বলেন, ২০২২ সালে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন থাকাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিনস অ্যাওয়ার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তৎকালীন প্রশাসনের সহযোগিতায় পরে তা বাস্তবায়িত হয়।

ইবির আট অনুষদের ৩৬ শিক্ষার্থী পেলেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড

শিক্ষার্থীদের শর্তে ক্যাম্পাস ছাড়লেন চুয়েট উপাচার্য

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) অবরুদ্ধ উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উদ্ধার করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে তাঁকে বের করে আনা হয়। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় অ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাস ছাড়েন তিনি।তবে উপাচার্যকে ক্যাম্পাস ছাড়তে একটি শর্ত দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনের নিচে তাঁকে নামিয়ে আনার পর মাইক হাতে এক শিক্ষার্থী ঘোষণা করেন, ‘ভিসিকে আমরা ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দিচ্ছি একটি মাত্র শর্তে, সেটি হলো- তিনি আর চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরবেন না।’এ সময় ওই শিক্ষার্থীর পাশে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। পরে উপাচার্যকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় শিক্ষার্থীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।এর আগে মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা ২০ মিনিটের দিকে উপাচার্যকে উদ্ধারে চুয়েট ক্যাম্পাসে যান জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিকদের বলেন, ‘একজন সম্মানিত শিক্ষক আমাদের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন, চিকিৎসার জন্য বলেছেন। তাঁকে আমরা নিয়ে যেতে এসেছি। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।’যেভাবে অবরুদ্ধ হন উপাচার্যসাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সকাল পৌনে নয়টার দিকে তাঁর ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য বহিরাগত ব্যক্তিদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এর প্রতিবাদে তাঁরা তাঁর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে তাঁকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন উপাচার্য।২১ সেপ্টেম্বর থেকে অচলাবস্থাউপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে অচলাবস্থা চলছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ওই দিন আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্য ভবনে তালা দেওয়া, মুখোশ মিছিল ও চোখ বাঁধা প্রতিবাদ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।একপর্যায়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক বন্ধের কর্মসূচিও শুরু হয়।এদিকে নবনিযুক্ত উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের প্রতিবাদে সোমবার চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করে। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের শর্তে ক্যাম্পাস ছাড়লেন চুয়েট উপাচার্য

দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি কত দিন, কবে থেকে শুরু

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চলতি বছর দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘ ছুটির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসার ছুটির তালিকা অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হলে প্রতিষ্ঠানভেদে টানা ১০ দিন বা তারও বেশি সময় বন্ধ থাকতে পারে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরন ও শিক্ষার স্তর অনুযায়ী ছুটির সময়সূচিতে পার্থক্য রয়েছে।এদিকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটিও বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করায় সাপ্তাহিক ছুটিসহ তাঁরা টানা পাঁচ দিনের বিরতি পাচ্ছেন।মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে টানা ১০ দিনের সুযোগ২০২৬ সালের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।এর আগে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা সাত দিন বন্ধ থাকবে বিদ্যালয়গুলো। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর আবার সাপ্তাহিক ছুটি। ২৫ অক্টোবর রোববার লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ছুটি থাকলে ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ১০ দিনের বিরতি পাওয়া যাবে।তবে এই ছুটির হিসাব সংশ্লিষ্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। একাডেমিক ক্যালেন্ডারের প্রয়োজনে ছুটির সময়সূচিতে পরিবর্তনও আসতে পারে।কলেজে ছুটি ১৮ থেকে ২৯ অক্টোবরমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ-৪ শাখার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কলেজগুলোতে ১৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি আলাদাভাবে গণনা করা হয়নি।দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমীর পাশাপাশি প্রবারণা পূর্ণিমা এবং ২৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে এই ছুটি রাখা হয়েছে।ছুটির আগে ও পরের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হলে কলেজের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ বিরতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ১৬ ও ১৭ অক্টোবর এবং ৩০ ও ৩১ অক্টোবরের শুক্র ও শনিবার যুক্ত করলে ১৬ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১৬ দিনের ছুটি হতে পারে।মাদরাসায় তিন দিনের ছুটিদুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি, এমপিওভুক্ত ও ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্যও ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি থাকবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি নির্ভর করবে নিজস্ব সিদ্ধান্তেদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দুর্গাপূজার ছুটির সময়সূচি একরকম নয়। সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ছুটির তালিকা সরাসরি প্রযোজ্য হয় না। স্বতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব একাডেমিক ক্যালেন্ডার, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে ছুটি নির্ধারণ করে।তাই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে কত দিনের ছুটি থাকবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তির ওপর। কোনো প্রতিষ্ঠান সরকারি ছুটির সঙ্গে মিল রেখে ছুটি দিতে পারে, আবার কোনোটি পূজার আগে বা পরে অতিরিক্ত ছুটি নির্ধারণ করতে পারে।ক্লাস, পরীক্ষা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আবাসিক হলের কার্যক্রমের সময়সূচিও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আলাদা হতে পারে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টানা কত দিনের ছুটি পাওয়া যাবে, তা পৃথক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।সরকারি চাকরিজীবীদের টানা পাঁচ দিনের ছুটিজনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে ছুটি নির্ধারিত ছিল। এর সঙ্গে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।ফলে সাপ্তাহিক ছুটিসহ সরকারি চাকরিজীবীদের টানা পাঁচ দিনের ছুটি তৈরি হয়েছে।

দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি কত দিন, কবে থেকে শুরু

ঢাবিতে গাড়ির ধাক্কায় সাত শিক্ষার্থী আহত, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করার আশ্বাস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের (এফবিএস) সামনের সড়কে একটি গাড়ির ধাক্কায় সাত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়ার পা গুরুতরভাবে জখম হয়েছে। মাথায়ও আঘাত পেয়েছেন তিনি। আহত শিক্ষার্থীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, গাড়িটি প্রথমে তাহিয়াকে ধাক্কা দেয়। এরপর আরও ছয় শিক্ষার্থী আহত হন।গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের ছেলে। দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা তাঁকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান।সাদমানের দাবি, গাড়ি চালানোর সময় আতঙ্কিত হয়ে ব্রেকের বদলে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দেওয়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।‘ব্রেক নিতে গিয়ে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিই’দুর্ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করে সাদমান সাকিব ‘আমার দেশ’কে বলেন, ‘আমি আগে তেমন গাড়ি চালাইনি। আজকে শখের বসে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলাম। সঙ্গে ড্রাইভারও ছিল। চালাতে চালাতে আমি কলা ভবনে একটা রাউন্ড দিয়ে আসি। ওই মুহূর্তে বেশি মানুষ দেখে আমি ভয় পেয়ে যাই। এফবিএসের সামনে এসে ব্রেক নিতে গিয়ে আমি অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে দিই।’তিনি আরও বলেন, সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটি দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকে এবং সামনে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেয়। পরে চালকের সহায়তায় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে আসে।তবে দুর্ঘটনার আগেও গাড়িটির চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিনহা মল্লিক। তাঁর ভাষ্য, গাড়িটি একাধিকবার সড়কে ঘোরাঘুরি করছিল এবং সামনে থাকা রিকশা ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জোরে হর্ন দিচ্ছিল।সিনহা মল্লিক বলেন, ‘আমি আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে স্যাডো থেকে সাইকেল নিয়ে এফবিএস রোডে উঠতেই গাড়িটি আমাকে অস্বাভাবিকভাবে ওভারটেক করে এফবিএসের দিকে যায়। সামনে যত রিকশা বা শিক্ষার্থী আসছিল, তাদের উদ্দেশে অনেক জোরে হর্ন দিচ্ছিল। সম্ভবত সেবার দুর্ঘটনাটি ঘটেনি। পরবর্তী চক্করে ঘটেছে।’আহতদের মধ্যে ছয়জন মার্কেটিং বিভাগেরআহত সাত শিক্ষার্থীর মধ্যে ছয়জন মার্কেটিং বিভাগের ৩২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাঁদের হাত, পা, হাঁটু ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগেছে। অন্য আহত শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়া ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, গাড়ির ধাক্কায় কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিটকে পড়েন। তাঁদের মধ্যে তাহিয়ার আঘাত ছিল সবচেয়ে গুরুতর। মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুসফিকুল ইসলাম জানান, তাহিয়ার মুখ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।হাসপাতালে নেওয়ার পর আহত শিক্ষার্থীদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে একজন আতঙ্কিত হয়ে পড়লে তাঁকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। অন্যদের ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করা হয়। তাহিয়ার পায়ের আঘাতের মাত্রা এবং হাড় ভেঙেছে কি না, তা চিকিৎসকদের পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।মামলা করার আশ্বাস প্রক্টর কার্যালয়েরদুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে মামলা করার দাবি জানান। এ দাবির পক্ষে তাঁরা লিখিত আবেদন তৈরি করে শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল রতন বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁদের জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শান্টু বড়ুয়া বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় মামলা করার জন্য লিখিতভাবে দাবি জানানো হয়েছে। প্রক্টর কার্যালয়ও এ বিষয়ে ইতিবাচক।তিনি আরও বলেন, প্রক্টর কার্যালয়ের উদ্যোগে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে মামলা করবে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।এ বিষয়ে গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি তা মেনে নেবেন।দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

ঢাবিতে গাড়ির ধাক্কায় সাত শিক্ষার্থী আহত, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করার আশ্বাস

চুয়েটে ২৫ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্য, বললেন মানবেতর অবস্থায় আছি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম টানা ২৫ ঘণ্টা ধরে প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ রয়েছেন। এ অবস্থায় তিনি বলেছেন, তাঁরা অত্যন্ত মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হতে প্রশাসনের সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় আছি। আমাদের আটকে রাখা হয়েছে। গতকালের রাতটিও আমাদের খুব কষ্টের মধ্য দিয়ে পার করতে হয়েছে। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি।’এ সময় নিজের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে কথা বলার পরিস্থিতিতে নেই। প্রশাসন আসুক, তারপর হয়তো কথা বলতে পারব।’এর আগে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধ উপাচার্য ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের জন্য নাশতা পাঠান। সকালে এক দফায় তাঁদের জন্য নাশতা পাঠানো হয়েছিল।২১ দিন পর দপ্তরে প্রবেশ, এরপর অবরুদ্ধসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সকাল আটটার দিকে ছাত্রদলের নেতা, কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে দীর্ঘ ২১ দিন পর নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম।এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে অবিলম্বে চুয়েট ত্যাগের নির্দেশ দেন। এ জন্য তাঁকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন ত্যাগ না করায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন।সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদসহ অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। তবে উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।দিনভর প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘অনলাইন ভিসি, অনলাইন ভিসি’ এবং ‘যেই ভিসি ছাত্র মারে, সেই ভিসি আমার না’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন।রাতে অসুস্থ কয়েকজন, ভবনে চিকিৎসকসোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপাচার্যের সঙ্গে থাকা কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের কঠোর পাহারার মধ্যে চুয়েটের চিকিৎসকেরা প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমসহ তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন। এ পরিস্থিতিতে উপাচার্য প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন। 

চুয়েটে ২৫ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্য, বললেন মানবেতর অবস্থায় আছি

চুয়েটে ২০ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্য, অসুস্থ কয়েকজন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্য ভবনে ২০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমসহ তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন। এ অবস্থায় তাঁদের মধ্যে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। জরুরি চিকিৎসার জন্য সোমবার দিবাগত রাতে উপাচার্য ভবনের সামনে দুটি অ্যাম্বুলেন্স আনা হয়। পরে চুয়েটের চিকিৎসকেরা সেখানে গিয়ে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।সোমবার দিবাগত রাতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘২০ ঘণ্টার ওপরে আমরা অবরুদ্ধ রয়েছি। অনেকে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। ঘুমানোর কোনো স্থান নেই। বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকায় আমরা অনেক কষ্টে আছি।’চুয়েট সূত্র জানায়, রাত দুইটার দিকে শিক্ষার্থীদের পাহারায় চিকিৎসকেরা উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করেন। এর আগে উপাচার্য নিজেই অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসকদের ডেকে পাঠান।সোমবার সকাল আটটার দিকে ছাত্রদলের নেতাদের নিয়ে তালা ভেঙে ২১ দিন পর নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। এ সময় তাঁর সঙ্গে কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী, বহিরাগত ব্যক্তি ও অধ্যাপক আরাফাত রহমান উপস্থিত ছিলেন।পরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে চুয়েট ছেড়ে যাওয়ার জন্য দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপাচার্য ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা ভবন ত্যাগ না করায় শিক্ষার্থীরা সেখানে তালা লাগিয়ে দেন। এতে তাঁরা ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।দিনভর উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে উপাচার্য তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে এলে শিক্ষার্থীরা ‘অনলাইন ভিসি, অনলাইন ভিসি’ এবং ‘যেই ভিসি ছাত্র মারে, সেই আমার না’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।চুয়েট সূত্র আরও জানায়, সোমবার বিকেলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের জন্য খাবার পাঠান। তবে রাতে তাঁদের মধ্যে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন।এর আগে রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) চুয়েটে গিয়ে উপাচার্য ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ চালু করার জন্য শিক্ষার্থীদের অনুরোধ জানান। তবে শিক্ষার্থীরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার অভিযোগশিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সোমবার বিকেলে রাউজানের মদুনাঘাটসহ একাধিক স্থানে তাঁদের কয়েকটি বাসে হামলা চালিয়েছেন উপাচার্যের সমর্থকেরা। এতে বাস ভাঙচুর করা হয়েছে এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।এ ঘটনার প্রতিবাদে একই দিন বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।আন্দোলনে বুয়েটের শিক্ষার্থীদের সমর্থনচুয়েটের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।অন্যদিকে, চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন বিবৃতি দিয়ে অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে।এদিকে অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল, নতুন উপাচার্যের পদত্যাগ এবং শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন ঢাকায় অবস্থানরত চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীরা।

চুয়েটে ২০ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্য, অসুস্থ কয়েকজন

চুয়েটে তালা ভেঙে প্রশাসনিক ভবনে নতুন ভিসি, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। সোমবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। তাঁকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটডাউন ও শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন উপাচার্যের প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন।প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের পর কয়েকজন নতুন উপাচার্যকে তাঁর চেয়ারে বসান এবং মুঠোফোনে ছবি তোলেন।আন্দোলনকারীদের দাবি, নতুন উপাচার্যের ১১ ও ১২ অক্টোবর ঢাকায় অবস্থান করার কথা ছিল। এ কারণে ওই দুই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাহারা ছিল না। তাঁদের ধারণা, এই সুযোগ কাজে লাগিয়েই তিনি গোপনে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টানা আন্দোলনে প্রায় ২০ দিন ধরে চুয়েটের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেশনজটের আশঙ্কাও বাড়ছে।এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন। তবে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে এত দিন তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি। সোমবার প্রশাসনিক ভবনে তাঁর প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

চুয়েটে তালা ভেঙে প্রশাসনিক ভবনে নতুন ভিসি, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

ছাত্রদলের তিন নেতা ও হল জিএসের ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের তিন নেতাকর্মী ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও প্রমাণ অধিকতর তদন্ত এবং ছাত্রদলের আরও তিন নেতাকে সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের নিয়মিত ছাত্রত্ব নেই বলে জানা গেছে।গত ৪ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি এসব সুপারিশ করেছে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অপরাধের ধরন ও মাত্রা বিবেচনায় সুপারিশগুলো করা হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।যাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশতদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের তালিকায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, ছাত্রদলকর্মী বিশাল চক্রবর্তী এবং শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম।অন্যদিকে, রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ও ছাত্রদলকর্মী তানিম রহমানের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ এবং প্রমাণাদি আরও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।এ ছাড়া শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমান, সহসভাপতি শরীফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করার সুপারিশ করেছে কমিটি।ছাত্রত্ব নেই দুজনেরছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ পাওয়া আহসান হাবীব বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি। জানা গেছে, কয়েক বছর আগেই তাঁর পড়াশোনা শেষ হয়েছে।২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর চাঁদাবাজির অভিযোগে তাঁকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে ছাত্রদল থেকেও তাঁকে তিনবার বহিষ্কার করা হয়।একই তালিকায় থাকা বিশাল চক্রবর্তী অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ না করেই তিনি বেরিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগের তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহিল গালিবের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্যও রয়েছে।অন্যদিকে, ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ পাওয়া হাসিবুল ইসলাম ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এর আগে চাঁদাবাজির অভিযোগেও তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। পরে তাঁদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট ঘোষিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটিতেও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।হাসিবুলের শিক্ষাবর্ষ ২০১৭-১৮ হলেও তিনি বর্তমানে ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন বলে জানা গেছে। জুলাই বিপ্লবের আগে রাজনৈতিক কারণে কারাবন্দি থাকায় তাঁর পড়াশোনা ব্যাহত হয়। পরে তাঁকে আবার ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।ফেসবুক পোস্টের কারণে হল জিএসের বিরুদ্ধে সুপারিশসাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের পাশাপাশি শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্বও সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এ সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।সুপারিশের পর নিজের ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আরিফুল। তাঁর দাবি, ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছিল। তাঁকে না পেয়ে তাঁর কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয় এবং সাংবাদিকদের মারধর করা হয়।ফেসবুক পোস্টে আরিফুল লেখেন, ‘ফেসবুকে একটা পোস্ট করাই ছিল আমার অপরাধ!’ সেদিন হামলাকারীরা তাঁকে পেলে তাঁর জীবনও বিপন্ন হতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন এই হল জিএস।ফেসবুক পোস্ট ঘিরে উত্তেজনা, এরপর হামলাসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ অক্টোবর রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ফেসবুকে আক্রমণাত্মক পোস্ট দেন ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহসভাপতি আহসান হাবীব। এ নিয়ে রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে উভয় পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দেয়।পরদিন ৩ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটের সামনে অবস্থান করেন রাকিবুল। বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে সেখানে অবস্থান নেন আহসান হাবীব। রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার ঘোষণা দিয়ে তিনি রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে উদ্দেশ করে আক্রমণাত্মক ভাষায় ফেসবুকে পোস্ট দেন।এর জেরে হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামও পাল্টা পোস্ট দেন। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হল সংসদের জিএসের কক্ষে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার পর ভিডিও ধারণ ও সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহসভাপতি আহসান হাবীবের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ওই হামলায় অংশ নেন।স্থায়ী বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের দাবিতদন্ত কমিটির সুপারিশের বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম বলেন, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।তিনি সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং যাঁদের ছাত্রত্ব নেই, তাঁদের সনদ বাতিলের দাবি জানান।গত ৪ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।ঘটনার পর দায়ীদের শনাক্ত করে শাস্তির সুপারিশ করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর এখন সুপারিশগুলো সিন্ডিকেটে উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ছাত্রদলের তিন নেতা ও হল জিএসের ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিল

রাবিতে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় চারজনের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের তিন নেতা-কর্মী ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদককে (জিএস) সাময়িকভাবে ছাত্রত্ব থেকে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। শুক্রবার সকালে উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।উপাচার্য বলেন, গত ৪ অক্টোবর রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ঘটে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও দায়ীদের শাস্তির সুপারিশ করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির সদস্যদের সর্বসম্মতিতে তৈরি প্রতিবেদন গতকাল মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছেছে।তদন্ত প্রতিবেদনে ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করা চারজন হলেন—রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, কর্মী বিশাল চক্রবর্তী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান এবং জিয়া হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম।এ ছাড়া রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ও ছাত্রদল কর্মী তানিম রহমানের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও প্রমাণ অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।অন্যদিকে, শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমান, সহসভাপতি শরীফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে। গত ৪ অক্টোবর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কয়েকজন সাংবাদিক হামলার শিকার হন। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

রাবিতে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় চারজনের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ১৪ ঘণ্টায়ও গঠন হয়নি তদন্ত কমিটি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ১৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে হামলায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।হামলার পর সাংবাদিকেরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগামীকালের মধ্যে মামলা করার আশ্বাস দিলে তাঁরা আপাতত কর্মসূচি থেকে সরে আসেন। তবে সোমবার বেলা ১১টায় রবীন্দ্র ভবনের সামনে মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়েছেন সাংবাদিকেরা।তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকেরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম ক্যাম্পাসে নেই। তিনি বিকেলে ফিরলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিবসহ কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু। সাংবাদিকেরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মামলা, দুপুর ১২টার মধ্যে গ্রেপ্তার নিশ্চিত, হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিল এবং পড়াশোনা শেষ করা ব্যক্তিদের সনদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন—এমন অভিযুক্তদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবিও রয়েছে।

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ১৪ ঘণ্টায়ও গঠন হয়নি তদন্ত কমিটি

মাদরাসার শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের বেতনের চেক ছাড়, টাকা তোলা যাবে ৪ অক্টোবরের পর

বেসরকারি মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের চেক ছাড় করা হয়েছে। তবে শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় আগামী ৪ অক্টোবরের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে এ টাকা তুলতে পারবেন তাঁরা।বৃহস্পতিবার মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধিদপ্তরের আওতাধীন বেসরকারি মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের চারটি চেক ১ অক্টোবর বিতরণকারী ব্যাংকগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।চেকগুলো অগ্রণী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে এবং জনতা ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের স্থানীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা আগামী ৪ অক্টোবরের পর নির্ধারিত ব্যাংক থেকে সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

মাদরাসার শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের বেতনের চেক ছাড়, টাকা তোলা যাবে ৪ অক্টোবরের পর

ঢাবির শেখ মুজিব হলের ফটকে ফিরছে পুরোনো নাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি মুছে ফেলার কাজ শুরু করেছে হল প্রশাসন। আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে সেখানে আবার ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নাম লেখা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।বুধবার দুপুরে হলের প্রধান ফটকে নামটি মুছে ফেলার কাজ শুরু হয়। হলের সিনিয়র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মো. জবান আলী বলেন, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে মৌখিকভাবে হলের নাম সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছেন। নাম নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি এড়াতে পুরোনো নাম পুনরায় লেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি।এর আগে ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর রাতে হলের প্রধান ফটক থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশের উদ্যোগে এ পরিবর্তন করা হয়েছিল। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও শেখ মুজিবুর রহমান হল সংসদের পক্ষ থেকে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়।ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি ২০২৫ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন, ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পর ১৮ ডিসেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পরই হলটির নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ সামনে আসে।এদিকে ৮ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শেখ মুজিবুর রহমান হলসহ শেখ পরিবারের নামে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সভায় শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ করার সুপারিশও ছিল।তবে নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে মতভেদ দেখা দেয়। গত ২৯ জুনের অধিবেশনে বিষয়টি আলোচনায় উঠলে কয়েকজন সদস্য বিধি অনুসরণ করে প্রস্তাবটি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর পক্ষে মত দেন। সিনেট সদস্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান এ প্রস্তাব দেন। অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফাও নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আপত্তি জানান। অন্যদিকে সিনেট সদস্য ফজলুল হক মিলন হলটির নাম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে রাখার প্রস্তাব করেন।দীর্ঘ আলোচনা হলেও সেদিন নাম পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিষয়টি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর প্রতিবাদে সিনেট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন ডাকসুর পাঁচ সিনেট সদস্য ভিপি সাদেক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ ও সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না।এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে সিনিয়র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার জবান আলী জানান, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্তি দূর করতেই আগের নাম পুনরায় লেখা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেও বর্তমানে হলটির নাম ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হলটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৮ সালে।

ঢাবির শেখ মুজিব হলের ফটকে ফিরছে পুরোনো নাম

মধ্যরাতে ছয় ছাপাখানা পরিদর্শনে শিক্ষামন্ত্রী, দেখলেন নতুন বই ছাপার কাজ

নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপার কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান দেখতে রাজধানীর ছয়টি ছাপাখানা পরিদর্শন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই এসব ছাপাখানা পরিদর্শন করেন তিনি।পরিদর্শন করা ছাপাখানাগুলো হলো—মৌসুমী অফসেট প্রেস, ফায়িজা প্রিন্টিং প্রেস, শৈলী প্রিন্টার্স, বর্ণশিখা অফসেট প্রিন্টার্স, সোনালী ওয়েব প্রিন্টার্স ও ন্যাশনাল প্রিন্টার্স।পরিদর্শনের সময় শিক্ষামন্ত্রী বিভিন্ন প্রেসে পাঠ্যবই ছাপার বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি বইয়ের ছাপার মান, কাজের অগ্রগতি এবং নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করেন।শিক্ষার্থীদের হাতে নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে ছাপার কাজে নির্ধারিত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন শিক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে বই ছাপার ক্ষেত্রে গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি বই ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বই ছাপার কাজ পুরোদমে চলছে।এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি বই ছাপানো হবে। ইবতেদায়ির প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ছাপানো হবে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ কপি বই। আর ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য প্রায় ১৮ কোটি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে নবম শ্রেণির বইয়ের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই শ্রেণির জন্য ৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ৯ হাজার ৪ কপি ব্রেইল বইও ছাপানো হবে।

মধ্যরাতে ছয় ছাপাখানা পরিদর্শনে শিক্ষামন্ত্রী, দেখলেন নতুন বই ছাপার কাজ