ঢাকা    শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

শিক্ষাঙ্গন

২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’

২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যবইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিবন্ধটির সঙ্গে জিয়াউর রহমানের তৎকালীন একটি ঐতিহাসিক ডায়েরির ছবিও যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।এনসিটিবি জানিয়েছে, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম স্মৃতিকথা হিসেবে আলোচিত এই নিবন্ধ পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)। গত ২৪ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এনসিসিসির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)কে বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে এনসিসিসি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। তাঁর ভাষ্য, যার যতটুকু অবদান, তা নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।এনসিটিবির কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকের ২২ নম্বর গদ্যের লেখক পরিচিতিতে জিয়াউর রহমানকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও ‘বীর উত্তম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।এতে বলা হয়েছে, ২৫ মার্চের গণহত্যার পর শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হলে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিকামী মানুষের জন্য ‘তুর্যধ্বনির মতো’ ছিল।প্রস্তাবিত নিবন্ধে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রাম থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সম্মুখসমরের বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। চট্টগ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর গতিবিধি, ২৫-২৬ মার্চের রাতের পরিস্থিতি এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘটনাও এতে উঠে এসেছে।সশস্ত্র দায়িত্ব গ্রহণের অনুভূতি বর্ণনা করতে গিয়ে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন, ‘সবাই আমরা যুদ্ধ করেছি। সৈনিক, জনগণ সবাই। জাতির চরম সংকটের মুহূর্তে কাউকে না কাউকে সামনে এগিয়ে আসতে হয়। নিতে হয় দায়িত্ব। আমি কেবল সেই দায়িত্ব পালন করেছি।’চট্টগ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর তৎপরতার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি ২০তম বেলুচ রেজিমেন্টের ‘রহস্যজনক গতিবিধি’ এবং ২৫-২৬ মার্চের রাতের ঘটনাপ্রবাহের কথা উল্লেখ করেন। আগ্রাবাদে ব্যারিকেডের সামনে মেজর খালিকুজ্জামানের কাছ থেকে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান শুরুর খবর পাওয়ার পর তিনি ‘উই রিভোল্ট’ বলার কথা লিখেছেন।নিবন্ধে জিয়াউর রহমান আরও লিখেছেন, ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর পটিয়ার পাহাড়ের দিকে যাত্রা এবং পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখসমরের কথাও তিনি তুলে ধরেছেন।কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ২৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারের স্মৃতিও নিবন্ধে রয়েছে। জিয়াউর রহমানের বর্ণনা অনুযায়ী, সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রেডিও স্টেশনে গিয়ে একটি এক্সারসাইজ খাতার পৃষ্ঠায় স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম ঘোষণার কথা লিখেছিলেন। পরে বেতার তরঙ্গে সেই ঘোষণা প্রচার করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।এনসিটিবি জানায়, নিবন্ধের আগে দেওয়া ব্যাখ্যায় ১৯৭২ সালে ‘দৈনিক বাংলা’য় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং ১৯৮০ সালে অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’কে মুক্তিযুদ্ধের অনন্য দলিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদকে অনিবার্য নাম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরাও নিবন্ধটি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মত দিয়েছেন। জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বাসসকে বলেন, জিয়াউর রহমানের লেখা এই নিবন্ধের ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে এবং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতার সংগ্রাম সম্পর্কে জানতে পারবে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বলেন, নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ ঘটনা জানার সুযোগ পাবে।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বাসসকে বলেন, এনসিসিসির সভায় নিবন্ধটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও নির্মোহ ইতিহাস জানতে পারবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

কাজলায় ৫০ শিক্ষার্থীর হিফজের সবক, নূর মুহাম্মদের হাতে পাগড়ি-সনদ

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় ৫০ শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআন হিফজের সবক গ্রহণ করেছে। একই অনুষ্ঠানে হিফজ সম্পন্ন করায় শিক্ষার্থী নূর মুহাম্মদকে পাগড়ি ও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে।শায়েখ নেছার আহমাদ আন নাছিরীর পরিচালিত মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার কাজলা শাখায় এ আয়োজন করা হয়। মাদ্রাসাটি ৩০৬ দনিয়া কলেজের পশ্চিমে কাজলা ফুটওভার ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।অনুষ্ঠানে স্বনামধন্য শায়েখ ও মুরুব্বিয়ানরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের হিফজের সবক গ্রহণ ও নূর মুহাম্মদের হিফজ সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, পবিত্র কোরআন হিফজের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ৫০ শিক্ষার্থীর হিফজের সবক গ্রহণকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়।নূর মুহাম্মদের হিফজ সম্পন্ন হওয়ায় তাঁর বাবা মাওলানা মো. আল আমিন শুকরিয়া আদায় করে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে নূর মুহাম্মদের হিফজ পরিপূর্ণ হয়েছে। মাদ্রাসা থেকে পাগড়ি ও সার্টিফিকেট পেয়েছে।অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা হিফজের অভিজ্ঞতা, শিক্ষকদের সহযোগিতা এবং মাদ্রাসার পরিবেশ নিয়ে কথা বলেন। শিক্ষার্থী নূর মুহাম্মদ বলেন, শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা ও নিয়মিত পড়াশোনার মাধ্যমে হিফজ সম্পন্ন করার সুযোগ পেয়েছি। আল্লাহ যেন আমাদের কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তাওফিক দেন।শায়েখ নেছার আহমাদ আন নাছিরী মাদ্রাসার পরিচালক বলেন, শিক্ষার্থীদের হিফজ সম্পন্ন করার পেছনে তাদের পরিশ্রমের পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। কোরআনের হাফেজ হিসেবে শিক্ষার্থীরা যেন ভবিষ্যতে সমাজে নৈতিক ও মানবিক ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।অনুষ্ঠানে উপস্থিত শায়েখ ও মুরুব্বিয়ানরা শিক্ষার্থীদের জন্য দোয়া করেন। পাশাপাশি ব্যক্তি ও সমাজজীবনে কোরআনের শিক্ষা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, কোরআন হিফজের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ইসলামী আদর্শ, শিষ্টাচার ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কাজলায় ৫০ শিক্ষার্থীর হিফজের সবক, নূর মুহাম্মদের হাতে পাগড়ি-সনদ

এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফলে জিপিএ-৫ পেল ৩ হাজার ৭৯ জন

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী। আর ফেল থেকে পাস করেছে ৪ হাজার ৫৮৫ জন।বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পুনর্নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফল দেখতে পারছে। পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষার্থীর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল পাঠানো হচ্ছে।গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। সে হিসাবে মূল ফল প্রকাশের ৩১ দিন পর পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলো।এবার ফল প্রকাশের পর উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট প্রায় পৌনে ১৩ লাখ খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা হয়। আবেদনকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারায় খাতার সংখ্যা পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় বেশি হয়েছে।গত ১১ আগস্ট পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়। ১৭ আগস্ট রাত পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ ছিল। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার উত্তরপত্রের জন্য ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি আবেদন জমা পড়ে।সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন।এ ছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন।অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পাস করেছে। তাঁদের মধ্যে ৪ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন।

এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফলে জিপিএ-৫ পেল ৩ হাজার ৭৯ জন

বেলাব ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আইপিএস দিল বাদশা সাইফান আলী ফাউন্ডেশন

নরসিংদীর বেলাব ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আইপিএস (ইনভার্টার) দিয়েছে বাদশা সাইফান আলী ফাউন্ডেশন। শিক্ষার্থীদের পাঠদানসহ বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবিলায় এ সহায়তা দেওয়া হয়।বাদশা সাইফান আলী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগী কায়েস আহমেদ সেলিমের পক্ষ থেকে তাঁর পিতা মো. হযরত আলী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের হাতে আইপিএসটি তুলে দেন। এ সময় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাজেদুর রাহমান রাহাত, সহ-সভাপতি রাসেল আহমেদ ভুলু, বেলাব উপজেলা যুবদলের সভাপতি মো. আখতারুজ্জামানসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মো. হযরত আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের সুন্দর ও স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। বিদ্যালয়ের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আইপিএস দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমাদের এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ভালো পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।

বেলাব ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আইপিএস দিল বাদশা সাইফান আলী ফাউন্ডেশন

ইউনেস্কোর ডিজিটাল লার্নিং উইকে যোগ দিতে প্যারিসে শিক্ষামন্ত্রী

ইউনেস্কোর আয়োজনে ডিজিটাল লার্নিং উইক -এ অংশ নিতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।রোববার রাতে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর প্যারিসে ইউনেস্কোর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে শিক্ষা সত্য, দ্বন্দ্ব, সীমানা।ইউনেস্কোর বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেবেন মন্ত্রীআগামী ৮ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে ‘এইজ অপ্রোপ্রিয়েটনেস অ্যান্ড এআই ইন এডুকেশন’ শীর্ষক সেশনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর।পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর ‘টিচার্স অ্যাট দ্য সেন্টার এজেন্ট-সি, কমপিটেন্সিস অ্যান্ড দ্য টিচার-স্টুডেন্ট রিলেশনশিপ’ শীর্ষক প্লেনারি সেশনেও তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। চার দিনের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে।

ইউনেস্কোর ডিজিটাল লার্নিং উইকে যোগ দিতে প্যারিসে শিক্ষামন্ত্রী

সরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্ন

সরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্ন সরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্নসরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্নসরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্নসরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্নসরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্নসরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্নসরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্নসরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্নসরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্নসরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্নসরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্নসরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্নসরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্নসরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্নসরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্নসরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্নসরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্নসরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্নসরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্নসরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্ন

সরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্ন

রিকশার বিকল্পে বৈদ্যুতিক যান, সমাধান খুঁজছে এআইইউবি

দেশের প্রচলিত তিন চাকার রিকশার বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক যানবাহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করেছেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) শিক্ষার্থীরা। বৈদ্যুতিক যান ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড বৈদ্যুতিক যান নিয়ে করা এ গবেষণায় টেকসই ও নিরাপদ নগর পরিবহনের বিভিন্ন সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে।এআইইউবিতে আয়োজিত ‘গবেষণা থেকে বাস্তবে’ কীভাবে আমরা বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড বৈদ্যুতিক যানবাহনের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্প তৈরি করেছি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও আলোচনা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ৩লিফ টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল। এআইইউবির উপাচার্য, শিক্ষক, গবেষক, বিশেষ অতিথি ও শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। এ সময় গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল বলেন, কোনো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে যথাযথ গবেষণা ও সম্ভাব্যতা যাচাই জরুরি। সঠিক গবেষণার মাধ্যমে একটি ধারণাকে বাস্তব, কার্যকর ও টেকসই প্রকল্পে রূপ দেওয়া সম্ভব।তিনি বলেন, তিন চাকার রিকশার বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড যান নিয়ে এআইইউবির শিক্ষার্থীদের গবেষণা সময়োপযোগী। এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, নিরাপদ ও স্মার্ট পরিবহন এবং টেকসই নগর উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সহযোগিতা বাড়লে তরুণদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তব সমাধানে রূপ দেওয়া সহজ হবে। গবেষণা যেন শুধু গবেষণাপত্রে সীমাবদ্ধ না থাকে, বাস্তব প্রয়োগেও এর সুফল নিশ্চিত করতে হবে।৩লিফ টেকনোলজিসের পক্ষ থেকে এআইইউবির শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবন ও টেকসই পরিবহন নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সমন্বিত উদ্যোগই গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজে লাগানোর কার্যকর পথ তৈরি করতে পারে।

রিকশার বিকল্পে বৈদ্যুতিক যান, সমাধান খুঁজছে এআইইউবি

গবেষণা থেকে বাস্তব সমাধানের পথে এআইইউবির উদ্যোগ

গবেষণাকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) আয়োজন করেছে গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘গবেষণা থেকে বাস্তবতা’ কীভাবে আমরা বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড যানবাহনের সম্ভাব্যতা প্রকল্প তৈরি করেছি। অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন নিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩লিফ টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ইর্তিজা আহম্মদ রাইফা। অনুষ্ঠানে এআইইউবির উপাচার্য, অধ্যাপক, শিক্ষক, গবেষক, বিশেষ অতিথি ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় এআইইউবির গবেষণা দলের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রচলিত তিন চাকার রিকশার বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক যানবাহন ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড বৈদ্যুতিক যানবাহন নিয়ে শিক্ষার্থীদের গবেষণার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের গবেষণা পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, স্মার্ট ও নিরাপদ চলাচল এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।অনুষ্ঠানে ৩লিফ টেকনোলজিস লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল বলেন- বড় কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে গবেষণা ও সম্ভাব্যতা যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক গবেষণার মাধ্যমে একটি সম্ভাবনাময় ধারণাকে বাস্তব, কার্যকর ও টেকসই প্রকল্পে রূপ দেওয়া সম্ভব।প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এআইইউবির শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভবিষ্যতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক গবেষণা, উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি ও টেকসই পরিবহন নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানানো হয়।সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ তরুণ গবেষকদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তব সমাধানে রূপ দিতে পারে। গবেষণা যেন শুধু গবেষণাপত্রে সীমাবদ্ধ না থেকে উদ্ভাবন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনে কার্যকর প্রভাব ফেলে, এ ধরনের উদ্যোগ সেই পথ তৈরি করতে পারে।অনুষ্ঠানে তরুণদের গবেষণা, মেধা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, গবেষণা থেকে উদ্ভাবন, উদ্ভাবন থেকে বাস্তবায়ন এবং সেখান থেকে মানুষের জন্য কার্যকর সমাধানের পথ তৈরি হবে।

গবেষণা থেকে বাস্তব সমাধানের পথে এআইইউবির উদ্যোগ

ভোকেশনাল নবম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়সূচি ঘোষণা

২০২৬ সালের এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) নবম শ্রেণি সমাপনী পরীক্ষার ফরম পূরণ এবং টিসি-পিসি নম্বর অনলাইনে এন্ট্রির সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।আজ সোমবার বোর্ডের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৭ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে টিসি ও পিসি নম্বর এন্ট্রি করা যাবে। কোনো বিলম্ব ফি ছাড়াই ১০ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষার ফরম পূরণ করা যাবে।এরপর ২৫ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩০০ টাকা বিলম্ব ফি দিয়ে ফরম পূরণের সুযোগ থাকবে। আর ১ থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত বিলম্ব ফি’র পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানকে ১ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে ফরম পূরণ করা যাবে।পরীক্ষার ফি সোনালী সেবার মাধ্যমে ৮ থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে জমা দিতে হবে।কারিগরি শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস, পূর্ণমান ও নির্ধারিত সময়ের ভিত্তিতে নবম শ্রেণি সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতে প্রতি ঘণ্টার পরীক্ষায় অতিরিক্ত ১০ মিনিট সময় দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শ্রুতিলেখকেরও সুযোগ রাখা হয়েছে। ফরম পূরণের বিস্তারিত তথ্য ও নিয়মাবলি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

ভোকেশনাল নবম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়সূচি ঘোষণা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এডমিন প্রধানের ফেনসিডিল সেবনের ভিডিও ভাইরাল

রাজধানীর ব্রাইট মাইন্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাডেমি নামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক (এডমিন) প্রধানের ফেনসিডিল সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি ফেনসিডিলের বোতলসদৃশ একটি বস্তু হাতে নিয়ে তা পান করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে ওই ব্যক্তিকে ব্রাইট মাইন্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাডেমির এডমিন প্রধান মোহাম্মাদ মিফতাহুল ফেরদাউস বলে দাবি করা হয়েছে।তবে ভিডিওটির সত্যতা, ধারণের সময় ও স্থান এবং ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোহাম্মাদ মিফতাহুল ফেরদাউসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক সেবনের মতো অভিযোগ উঠলে বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এডমিন প্রধানের ফেনসিডিল সেবনের ভিডিও ভাইরাল

বেলাবতে দ্বিনি ও আধুনিক শিক্ষার মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর

নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বেলাব ইউনিয়নের গাংকুল পাড়া গ্রামে দ্বিনি শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষার সমন্বয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নিয়ে একটি নতুন মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। গতকাল মাদ্রাসাটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।প্রায় ছয় গন্ডা জমির ওপর মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসাটির পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন মো. হজরত আলী। তাঁর সঙ্গে সহযোগী হিসেবে থাকবেন নাজিম উদ্দিন ও স্বপন।ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা কায়েস আহমেদ সেলিম বলেন, মাদ্রাসাটিতে দ্বিনি শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করাই তাঁদের লক্ষ্য।কায়েস আহমেদ সেলিম আরও বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজিতে দক্ষ করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই মাদ্রাসাটিতে দ্বিনি শিক্ষার সঙ্গে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয় করা হবে।মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো. হজরত আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের পাশাপাশি আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে পরিচালক মো. হজরত আলী, নাজিম উদ্দিন, স্বপন, সাংবাদিক দুলাল সরকারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মাদ্রাসাটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।আয়োজকেরা জানান, শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলে মাদ্রাসাটিতে দ্বিনি শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজিসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক শিক্ষার সুযোগ থাকবে। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে। 

বেলাবতে দ্বিনি ও আধুনিক শিক্ষার মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর

শিক্ষা ও মানবিক উন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়নের মাপকাঠি: ডেপুটি স্পিকার

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, একটি এলাকার উন্নয়ন শুধু ইট-পাথরের ভবন নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ তৈরি করাই প্রকৃত উন্নয়নের অন্যতম মাপকাঠি।রোববার দুপুরে দুর্গাপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি (বিরিশিরি) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এবতেদায়ি পঞ্চম শ্রেণি, অষ্টম শ্রেণি/সমমান জুনিয়র বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং এসএসসি/সমমান-২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কায়সার কামাল বলেন, ‘আমাকে আপনারা গতানুগতিক ধারার কোনো রাজনৈতিক কর্মী বা এমপি হিসেবে দেখবেন না। আমি শুধু ইট-পাথরের অট্টালিকা বা দালানকোঠা নির্মাণ করে উন্নয়নের প্রমাণ দিতে চাই না। আমি চাই আমাদের এ অঞ্চলের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা ও মানবিক উন্নয়ন।’তিনি শিক্ষার্থীদের অতিথিদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পরামর্শ দেন। নারী শিক্ষার্থীদের সাফল্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সাধারণ শাখায় ২৮ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ২১ জনই নারী শিক্ষার্থী।ভবিষ্যতে দুর্গাপুর-কলমাকান্দা এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের কেউ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হবে, এমন প্রত্যাশার কথাও জানান ডেপুটি স্পিকার।কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিএ, এমএ পাস করার পর অনেকেই বেকার থাকেন, কিন্তু টেকনিক্যাল স্কুল-কলেজ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের বেকার থাকার সুযোগ কম।শিক্ষার্থীদের সততা ও একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে কায়সার কামাল বলেন, মানুষ হিসেবে কর্মের মাধ্যমে আত্মতৃপ্তি অর্জন করতে না পারলে জীবনের সার্থকতা থাকে না। সততা ও একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করলেই সেই আত্মতৃপ্তি পাওয়া সম্ভব।অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বইয়ের সব অর্থ একবারে বোঝা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই পাশে ডিকশনারি রেখে বই পড়তে হবে। ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে এই অভ্যাস কাজে দেবে।দুপুর গড়িয়ে যাওয়ায় উপস্থিত সবার ক্ষুধার কথা বিবেচনা করে নিজের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করেন ডেপুটি স্পিকার। অনুষ্ঠানে দেরিতে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন।অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, কৃতি শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা ও মানবিক উন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়নের মাপকাঠি: ডেপুটি স্পিকার

অভাব পেরিয়ে সুমাইয়ার জিপিএ-৫

অভাব-অনটনকে পেছনে ফেলে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সুমাইয়া আক্তার। পরিবারের আর্থিক সংকটের মধ্যেও পড়াশোনায় মনোযোগ ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জন করেছে সে। তার ফলাফলে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।সুমাইয়ার বাড়ি উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের চাপুরী গ্রামে। তার বাবা সাইফুল ইসলাম ফকির একটি মুরগির খামারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। সংসারের খরচ চালাতে সুমাইয়ার মাকেও বিভিন্ন কাজে যুক্ত হতে হয়। সীমিত আয়ের সংসারে মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানো পরিবারের জন্য সহজ ছিল না। তবে সামর্থ্যের মধ্যে থেকে মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তার বাবা-মা।সুমাইয়া এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে কথাসাহিত্যিক ড. হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান ‘শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ’ থেকে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে সুমাইয়ার জিপিএ-৫ বিদ্যালয়ের সাফল্যে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।সুমাইয়ার মেধা ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বিবেচনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তার পাশে দাঁড়িয়েছে। পড়াশোনার খরচের একটি অংশ বহন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।সুমাইয়া জানায়, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একজন সফল মানুষ হতে চায়। তার স্বপ্ন পূরণে শিক্ষক ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা চায় সে।সুমাইয়ার এই ফলাফলে পরিবার ও শিক্ষকেরা খুশি। তাঁদের প্রত্যাশা, আর্থিক সংকট যেন তার উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

অভাব পেরিয়ে সুমাইয়ার জিপিএ-৫

ঢাবি ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের তিন নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কয়েকজন নেতাকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় এখনো নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি।বুধবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও রাজু ভাস্কর্যের পেছনের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১১টার দিকে ঘটনার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। একই রাতে ভুক্তভোগী তিন নারী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।কী ঘটেছিলভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাত ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে তাঁরা টিএসসি ও রাজু ভাস্কর্যের পেছনের এলাকায় রিকশায় ওঠার সময় কয়েকজন যুবক তাঁদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। প্রতিবাদ করার পরও ওই যুবকেরা উত্ত্যক্ত করা অব্যাহত রাখেন বলে অভিযোগ তাঁদের।এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, রিকশায় ওঠার পর তাঁদের উদ্দেশে বিভিন্ন মন্তব্য করা হয়। প্রতিবাদ জানালে এক যুবক বলেন, ‘সুন্দর জিনিস দেখলে কি দেখব না?’পরে কয়েকজন যুবক তাঁদের রিকশা ঘিরে দাঁড়ান বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী। পরিস্থিতি দেখে তাঁরা পরিচিতদের ফোন করে সহায়তা চান। পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়।একপর্যায়ে তাঁদের নিরাপত্তায় ছাত্র ইউনিয়নের কয়েকজন নেতাকর্মী এগিয়ে এলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে সংগঠনটির দাবি। পরে ঘটনাস্থলে আরও লোকজন জড়ো হয়ে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।ছাত্র ইউনিয়নের তিন নেতা আহতছাত্র ইউনিয়নের দাবি, হামলায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি অন্তু অরিন্দম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক মো. মুস্তাকিম আহত হয়েছেন।সংগঠনটির নেতারা জানান, আহত শিমুল কুম্ভকারকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে। অন্য কয়েকজনও চিকিৎসা নিয়েছেন বলে তাঁরা দাবি করেন।ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, ঘটনার সময় কয়েকজন যুবক নিজেদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন বলে জানিয়েছিলেন। তাঁরা একটি রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীদের ফোন করে ডাকার কথাও বলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা দাবি করেন, পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে এসে তাঁদের ওপর হামলা চালান। নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ সংগঠনটির।প্রক্টরের কাছে তিন শিক্ষার্থীর অভিযোগঘটনার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিন নারী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে ঘটনার তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।তিনি বলেন, ‘সঠিকভাবে আমি তো রিকগনাইজ করতে পারলাম না। আমি বলব যে এটা এই সংগঠন বা ওই সংগঠন, বা বহিরাগত—এভাবে বলার সুযোগ নেই।’সহকারী প্রক্টর আরও বলেন, ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয়েছে। আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় কোনো শিথিলতা দেখানোর সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান।ছাত্রদলের বক্তব্যঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তবে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া ইমন বলেন, বামপন্থী শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। হামলাকারীরা ছাত্রদলের নেতাকর্মী কি না, সেটিও নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলেও জানান তিনি।

ঢাবি ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ

নৈতিক অবক্ষয় রোধে ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব’ তুলে ধরা হলো ঢাবির সেমিনারে

ইসলামী শিক্ষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নৈতিক অবক্ষয় রোধে ইসলামী শিক্ষা: বর্তমান সমাজের সংকট ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।সেমিনারে বক্তারা নৈতিক অবক্ষয়, মূল্যবোধের সংকট ও বিভক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শিক্ষার গুরুত্বের পাশাপাশি জ্ঞান অর্জন, নিয়মিত বই পড়া এবং অর্জিত জ্ঞান দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।অনুষ্ঠানের শুরুতে শিশুশিল্পীদের কণ্ঠে পবিত্র কোরআনের সূরা আলাকের অংশবিশেষ অর্থসহ তিলাওয়াত করা হয়। পরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্নার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেমিনারের উদ্বোধন হয়। এরপর সেমিনার উপলক্ষে প্রকাশিত ক্রোড়পত্র পাঠ ও নাতে রাসূল (সা.) পরিবেশন করা হয়।সেমিনারে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইতিহাসবিদ, গবেষক ও লেখক জিয়াউল হক। তিনি বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান এবং নিয়মিত বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন। অর্জিত জ্ঞান লেখালেখির মাধ্যমে প্রকাশ এবং সমাজের বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।পরে কবি আল মাহমুদের ‘বখতিয়ারের ঘোড়া’ কবিতা আবৃত্তি করা হয়। এরপর একটি কোরাস গান পরিবেশন করা হয়।‘ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব ও ইতিহাস’ বিষয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী। তিনি শহীদ আব্দুল মালেকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশের বিভক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা থেকে উত্তরণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।তিনি বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অর্জন নয়; অর্জিত জ্ঞান মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো এবং নৈতিক ও আদর্শিক মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।সেমিনারের সমাপনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার শিক্ষা বিভাগীয় সম্পাদিকা সানিয়া তারান্নুম অর্নি। তিনি নৈতিক চরিত্র গঠনে সীরাতে রাসূল (সা.) অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।সানিয়া তারান্নুম অর্নি বলেন, নৈতিক চরিত্র গঠন ছাড়া জ্ঞান মানুষের জন্য পূর্ণাঙ্গ কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। তাই শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতা ও আদর্শের সমন্বয় প্রয়োজন। ইসলামী শিক্ষার মাধ্যমে সততা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।অনুষ্ঠানের শেষপর্বে শহীদ আব্দুল মালেকের মায়ের কাছে লেখা একটি চিঠি পাঠ করা হয়। চিঠি পাঠের সময় উপস্থিতদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এর মধ্য দিয়ে ইসলামী শিক্ষা, আদর্শ ও নৈতিকতার জন্য শহীদ আব্দুল মালেকের আত্মত্যাগের স্মৃতি স্মরণ করা হয়।

নৈতিক অবক্ষয় রোধে ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব’ তুলে ধরা হলো ঢাবির সেমিনারে

ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো আমেনার জিপিএ-৫, স্বপ্ন এখন ডাক্তার হওয়ার

পদ্মার ভাঙনে প্রায় ১২ বছর আগে বসতভিটা হারিয়েছিল পরিবারটি। এরপর অন্যের জমিতে খাজনা দিয়ে টিনের ঘর তুলে বসবাস। সংসারে অভাব-অনটন, তার ওপর মা দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছেন। মায়ের অসুস্থতার কারণে রান্নাবান্নাসহ ঘরের নানা কাজও করতে হয় মেয়েটিকে। এসবের মধ্যেই নিয়মিত স্কুলে যাওয়া ও পড়াশোনা চালিয়ে গেছে সে।প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান আমেনা। তার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো।গত সোমবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর আমেনার সাফল্যে আনন্দিত তার পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসী। তবে এই সাফল্যের পথ সহজ ছিল না। নদীভাঙন, দারিদ্র্য, মায়ের অসুস্থতা ও পারিবারিক নানা সংকট সামলে তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে।এক কক্ষের ঘরে পড়াশোনাবৃহস্পতিবার সকালে শিবচর উপজেলার মাদবরের চর ইউনিয়নের চরকান্দি গ্রামে আমেনাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টিতে কাদাময় ও পিচ্ছিল উঠান পেরিয়ে টিনের ঘরের সামনে মায়ের কাজে সহযোগিতা করছে আমেনা। মাত্র একটি কক্ষের ঘরে গাদাগাদি করে রাখা আসবাবপত্রের ফাঁকে রয়েছে তার ছোট্ট পড়ার টেবিল। সংসারের কাজ শেষ করে সেখানেই পড়াশোনা করত সে।পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে পদ্মার ভাঙনে তাদের বসতভিটা ও সহায়-সম্বল হারিয়ে যায়। তাদের মূল বাড়ি ছিল শিবচরের চরজানাজাত ইউনিয়নের পূর্ব খাস বন্দরখোলা এলাকায়। নদীভাঙনের পর পরিবারটি মাদবরের চর ইউনিয়নের চরকান্দি গ্রামে এসে অন্যের জমিতে খাজনা দিয়ে বসতি গড়ে। এ পর্যন্ত অন্তত দুইবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে পরিবারটি।আমেনার বাবা হাবিবুর রহমান ওরফে ইলিয়াস কৃষক। অন্যের জমিতে শ্রম দিয়ে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়েই স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান নিয়ে সংসার চালান। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করাও তাঁর জন্য কঠিন ছিল।অসুস্থ মায়ের কাজও সামলাতে হয়েছেআমেনার মা জরিনা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছেন। অসুস্থতার কারণে নিয়মিত কাজ করতে পারেন না তিনি। ফলে রান্নাবান্নাসহ ঘরের বিভিন্ন কাজ আমেনাকেই করতে হয়েছে। এসব কাজ শেষ করেই নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেত সে।অভাবের কারণে প্রাইভেট পড়ার সুযোগও তেমন পায়নি আমেনা। তবে পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রবল।আমেনার মা জরিনা খাতুন বলেন, ‘আমরা নদীভাঙা মানুষ। কৃষিকাজ করে সংসার চলে। সংসারে সব সময় অভাব-অনটন লেগেই থাকে। আমি কিডনি রোগে আক্রান্ত। দুই ছেলে ও তিন মেয়েকে নিয়ে টানাটানির সংসার। তবে আমেনার পড়াশোনার প্রতি খুব আগ্রহ। নিজের ইচ্ছায় বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়েছে।’তিনি বলেন, ‘ঠিকমতো প্রাইভেটও পড়াতে পারিনি। আমার মেয়ে অনেক দূর পর্যন্ত পড়তে চায়। কতটুকু পারব জানি না।’রোল ১৮ থেকে জিপিএ-৫নবম শ্রেণিতে আমেনার রোল ছিল ১২। দশম শ্রেণিতে ওঠার পর ফল কিছুটা খারাপ হওয়ায় রোল হয়ে যায় ১৮। সেই ফলাফলই তাকে আরও ভালো করার জন্য অনুপ্রাণিত করে।আমেনা বলেন, ‘দশম শ্রেণিতে ওঠার পর আমার রেজাল্ট খারাপ হয়। রোল ১৮ হয়ে যায়। রেজাল্ট নিয়ে বাড়ি আসার পর আব্বা খুব মন খারাপ করেছিলেন। আব্বার মলিন মুখ দেখে আমার খুব কষ্ট হয়। তখন আমার মধ্যে জেদ তৈরি হয়, আমাকে ভালো করতেই হবে। এরপর আমি আরও চেষ্টা করতে থাকি।’তার ভাষায়, ‘আমাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা অনেক। চাইলেই বাবার পক্ষে আমার সব চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। মা অসুস্থ। ঘরের রান্নাবান্না করেও আমাকে স্কুলে যেতে হয়েছে। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। আমার স্কুলের স্যাররাও আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন, বিশেষ করে গণিতের পবিত্র স্যার।’স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়ারএসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর আমেনা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি অনেক খুশি। ফলাফল নিয়ে অনেক টেনশনে ছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত ফল পেয়েছি। আমার এ পর্যন্ত আসার পথটা সহজ ছিল না। বাবা-মা ও শিক্ষকদের সহযোগিতা পেয়েছি।’এখন ভালো কলেজে পড়তে চান আমেনা। তাঁর স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়া। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি।আমেনার বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মেয়ে ভালো রেজাল্ট করেছে, আমরা খুবই আনন্দিত। অনেক কষ্টের মধ্যে তাকে পড়াশোনা করিয়েছি। আমি কৃষিকাজ করে সংসার চালাই। আমার সাধ্য অনুযায়ী মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।’শিক্ষকদের প্রত্যাশাপ্রতিবেশী মো. ফারুক বলেন, আমেনার পরিবার পদ্মার ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যের জমিতে খাজনা দিয়ে বসবাস করছে। মেয়েটি খুব মেধাবী। কিন্তু ভালো কলেজে পড়ানোর মতো সামর্থ্য তার বাবার নেই। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এ ধরনের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে।পাঁচ্চর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুল হক বলেন, আমেনা নিঃসন্দেহে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। পারিবারিক নানা প্রতিবন্ধকতা তার পড়ালেখায় বিভিন্ন সময়ে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মায়ের অসুস্থতার কারণে রান্নাবান্নাসহ ঘরের কাজও তাকে নিয়মিত করতে হয়েছে। এরপরও সে স্কুলে এসে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেছে।তিনি বলেন, ‘আমেনার অদম্য চেষ্টার ফলেই সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। আর্থিক অনটন যেন তার উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য সমাজের বিত্তবানদের তার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’এ বছর পাঁচ্চর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাঁদের মধ্যে ইশরাত জাহান আমেনা অন্যতম।বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক পবিত্র চন্দ্র বল্লভ বলেন, আমেনার অধ্যবসায় এবং শিক্ষকদের নির্দেশনা মেনে চলার মানসিকতা তাকে ভালো ফল করতে সহায়তা করেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিত সে।ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক ইয়াসিন কাজী বলেন, আমেনা নিয়মিত ক্লাস করত এবং পাঠে মনোযোগী ছিল। বিদ্যালয়ের পড়াশোনার সঙ্গে নিজের পড়ার রুটিন সমন্বয় করে চলত এবং শিক্ষকদের নির্দেশনাকে গুরুত্ব দিত।সামনে আরও বড় পথপদ্মার ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো, অভাবের সংসার ও অসুস্থ মায়ের দায়িত্ব সামলেও আমেনার জিপিএ-৫ অর্জন এখন পরিবারটির বড় আনন্দের বিষয়। তবে এসএসসির পর সামনে তার আরও বড় পথ- উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনা এবং মেডিকেল কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি।অর্থের অভাবে সেই পথ যাতে থেমে না যায়, সেটিই এখন আমেনা ও তার পরিবারের বড় দুশ্চিন্তা। ভালোভাবে পড়াশোনা করে চিকিৎসক হয়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন পূরণে এখন তার প্রয়োজন সুযোগ ও সহযোগিতা।

ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো আমেনার জিপিএ-৫, স্বপ্ন এখন ডাক্তার হওয়ার