ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

শিক্ষাঙ্গন

জবিতে ছাত্রদলের হামলা, জকসু ভিপিসহ শিবির-ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মী আহত

জবিতে ছাত্রদলের হামলা, জকসু ভিপিসহ শিবির-ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মী আহত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর প্রতিনিধিরা।মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।জকসুর প্রতিনিধিদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরাণীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং মেডিকেল সেন্টারের সেবার উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরতে তারা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের বাধা দেওয়া হয়। পরে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।এ ঘটনায় জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা, আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারুক, জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, জকসুর প্রতিনিধিরা মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল তাদের বাধা দেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসানকে ধাক্কা দেওয়ার দৃশ্যও ভিডিওতে দেখা যায়।জকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও তাদের অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি তুলে ধরতে গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তিনি ঘটনার বিচার এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অডিটোরিয়ামের সামনে ছেঁড়া প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করছিলেন জকসুর প্রতিনিধিরা।এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মশাল মিছিল, উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচার, উপাচার্য-প্রক্টরের পদত্যাগ ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে মশাল মিছিল করেছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ও ছাত্রদলের নেতাদের একটি প্ল্যাটফর্ম ‘সন্ত্রাস বিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’।শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বর থেকে বের হয়ে মশাল মিছিলটি কলাভবন, হলপাড়া, রেজিস্ট্রার ভবন ঘুরে ভিসি চত্বরে এসে শেষ হয়।এ সময় ‘সাম্য হত্যার বিচার চাই’, ‘ভিসি প্রক্টরের অনেক গুণ, নয় মাসে দুই খুন’, ‘আমার ভাই কবরে, প্রক্টর কেন চেয়ারে’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া দেন মিছিলকারীরা।১৩ মে রাত ১১টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছুরিকাঘাতে আহত হন সাম্য। রাত ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।পরদিন সকালে সাম্যের বড় ভাই শরীফুল আলম শাহবাগ থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ।সাম্য হত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে।এতে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করছেন তারা। একই সঙ্গে কিছু কিছু বিষয়ে আরও স্বচ্ছতার জন্য আসামিদের পুনরায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই হত্যার কারণ উদঘাটন ও আসামিদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মশাল মিছিল, উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি

নিয়ম ভেঙে জাবির ছাত্র হলে ছাত্রীর প্রবেশ

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছড়িয়ে পড়া ছবিতে ছাত্রীর সঙ্গে থাকা ছাত্ররা হলেন- এফএম প্রত্যয়, আমিনুল ইসলাম, সামিদুল ইসলাম এবং মো. রাশেদ। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২ ব্যাচের (২০২২-২৩ সেশন) বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী।ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, ছাত্রীসহ তার দুই ছেলে বন্ধু একটি চৌকির উপর বসে আছেন। তাদের পেছনে একজন চৌকিতে শুয়ে আছেন। আরেকজন একটু সামনে এগিয়ে সেলফি তুলেছেন।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮-এর হল সংক্রান্ত বিধিমালার (ভ) এর (২) এ উল্লেখ করা আছে- ‘ছাত্রদের হলে প্রভোস্টের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো ছাত্রী/নারী প্রবেশ করতে পারবে না।’এছাড়া অধ্যাদেশের চতুর্থ ধারায় শাস্তি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের (ঘ)-তে বলা হয়েছে- ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গ কিংবা অসদাচরণের জন্য একজন হল প্রভোস্ট তার হলের ছাত্র/ছাত্রীকে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার অথবা সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা জরিমানা করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় অথবা বহিষ্কারাদেশকে পর্যাপ্ত মনে না করলে তিনি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি উপাচার্যের নিকট প্রেরণ করবেন।’খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই ছাত্রী প্রাধ্যক্ষের অনুমতি ছাড়াই ছাত্র হলে প্রবেশ করেছেন। এছাড়া ছবিতে থাকা অন্য ছাত্ররাও এ বিষয়ে কোনো অনুমতি নেননি। তবে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি গত বছরের অক্টোবর মাসের বলে দাবি করেছেন ছবিতে থাকা ব্যক্তিরা।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছবিতে থাকা শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসের। তখন নজরুল হল সদ্য চালু হয়েছে। আমরা নতুন রুমে উঠেছিলাম, তাই আমাদের এক বান্ধবীকে রুম দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলাম। ছবিটি তোলা হয়েছিল হলের ৫২৭ নম্বর কক্ষের পঞ্চম তলায়।ছবিতে থাকা ছাত্রী বলেন, ছবিটি অনেক আগের। সম্ভবত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসের। তখন কাজী নজরুল ইসলাম হলটি অফিসিয়ালি চালু হয়নি। এমনকি হলে কোনো নিরাপত্তা প্রহরীও ছিল না। অনেকেই তখন হলে গিয়ে ছবি তুলেছিল। আমি সেদিন বন্ধুদের সঙ্গে গিয়েছিলাম, কিছুক্ষণ থেকে চলে এসেছি। আমার সঙ্গে আরও ৭-৮ জন বন্ধু ছিল; কিন্তু এখন হঠাৎ করে পুরোনো একটি ছবি ভাইরাল করে আমাকে টার্গেট করা হয়েছে। এটা এক ধরনের ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে করা হয়েছে বলেই আমি মনে করি। কেন হঠাৎ করে এখন এই ছবি ছড়ানো হলো, সেটা আমার জানা নেই।

নিয়ম ভেঙে জাবির ছাত্র হলে ছাত্রীর প্রবেশ

২ দফা দাবিতে আন্দোলনের ডাক এসএসসির ফল প্রত্যাশীদের

তাদের দুই দফার প্রথমটি হলো- লিখিত (তত্ত্বীয়) ও বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পরীক্ষার নম্বর একসঙ্গে যোগ করে পাস-ফেল ও জিপিএ হিসাব করা এবং দ্বিতীয় দাবি সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা (ফল প্রকাশের কিছুদিন পরই ফেল করা বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া) চালু করা।চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের লিখিত (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা শেষ হয়েছে গত ১৩ মে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পার না হতেই আন্দোলনে নামছে যাচ্ছে তারা।দুই দফা দাবিতে আগামী রোববার (২৫ মে) শিক্ষা ভবনের (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর) সামনে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।দাবি-দাওয়ার সঙ্গে একমত পোষণকারী রাজধানীর একটি স্কুল থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, ২০১৮ সালের আগে এসএসসিতে আলাদা আলাদা পাশ মার্কস ছিল না। এখন লিখিত পরীক্ষায় পাশ করলেও এমসিকিউতে ফেল করলে তাকে ফেল দেওয়া হয়। এটা আমরা চাইছি না। আমরা চাই, দুইটা (লিখিত ও এমসিকিউ) মিলিয়ে পাশ-ফেল হিসাব করা হোক।সে আরও বলেছে, আমরা ২৫ মে সমাবেশ করব। শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি-দাওয়া জানাব। আশা করছি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়ে এবার এসএসসির ফল প্রকাশ করবে।গত ১০ এপ্রিল এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। এতে অংশ নিতে ফরম পূরণ করেন ১৯ লাখ ২৮ হাজার ২৮১ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষা শেষ হয়েছে গত ১৩ মে।

২ দফা দাবিতে আন্দোলনের ডাক এসএসসির ফল প্রত্যাশীদের

ক্যাম্পাস ছাড়ছেন জাবি শিক্ষার্থীরা

বাড়ির উদ্দেশ্যে হল ছাড়ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী বিপুল রায়হান। দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফেরার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, সারা বছর ক্লাশ-পরীক্ষা আর অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে দম ফেলার সময় পাই না। ঈদ আর গরমের ছুটি মিলিয়ে এবার বাড়ি গিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারব, এটা ভাবতেই ভালো লাগছে।৫৩ ব্যাচের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া রহমান বলেন, এই প্রথম ঈদে এত লম্বা ছুটি পাচ্ছি। বন্ধুদের সঙ্গে বিদায় নিতে খারাপ লাগলেও পরিবারের কাছে যাওয়ার আনন্দটাই বেশি।গত ১৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবিএম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রীষ্মকালীন ও পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসসমূহ আগামী ২২ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।ছুটিতে হল বন্ধ থাকবে কিনা? জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় হল প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, এবার হল ভ্যাকেন্ট দেওয়া হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সন্ধ্যা ৬টার পর কাউকে হলের বাইরে অবস্থান করতে নিষেধ করা হতে পারে।হল খোলা থাকলে ডাইনিং ও ক্যান্টিন খোলা থাকবে কিনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডাইনিং বন্ধ থাকবে তবে ক্যান্টিনের পরিচালক চাইলে ক্যান্টিন খোলা রাখতে পারবেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহম্মদ কামরুল আহসান জানান, যারা বিশেষ কারণে হলে অবস্থান করবেন, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সেবার ব্যবস্থা রাখা হবে।

ক্যাম্পাস ছাড়ছেন জাবি শিক্ষার্থীরা