ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের তিন নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কয়েকজন নেতাকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় এখনো নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি।
বুধবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
টিএসসি ও রাজু ভাস্কর্যের
পেছনের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরে রাত ১১টার দিকে
ঘটনার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্র ইউনিয়নের
নেতাকর্মীরা। একই রাতে ভুক্তভোগী
তিন নারী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের
প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ
দেন।
কী ঘটেছিল
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাত ৮টা ৫৫
মিনিটের দিকে তাঁরা টিএসসি
ও রাজু ভাস্কর্যের পেছনের
এলাকায় রিকশায় ওঠার সময় কয়েকজন
যুবক তাঁদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। প্রতিবাদ করার পরও ওই
যুবকেরা উত্ত্যক্ত করা অব্যাহত রাখেন
বলে অভিযোগ তাঁদের।
এক শিক্ষার্থী অভিযোগ
করেন, রিকশায় ওঠার পর তাঁদের
উদ্দেশে বিভিন্ন মন্তব্য করা হয়। প্রতিবাদ
জানালে এক যুবক বলেন,
‘সুন্দর জিনিস দেখলে কি দেখব না?’
পরে কয়েকজন যুবক
তাঁদের রিকশা ঘিরে দাঁড়ান বলে
অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী।
পরিস্থিতি দেখে তাঁরা পরিচিতদের
ফোন করে সহায়তা চান।
পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে
গেলে কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে তাঁদের নিরাপত্তায় ছাত্র ইউনিয়নের কয়েকজন নেতাকর্মী এগিয়ে এলে হাতাহাতির ঘটনা
ঘটে বলে সংগঠনটির দাবি।
পরে ঘটনাস্থলে আরও লোকজন জড়ো
হয়ে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়
বলে অভিযোগ করা হয়।
ছাত্র ইউনিয়নের তিন নেতা আহত
ছাত্র ইউনিয়নের দাবি, হামলায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি অন্তু অরিন্দম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সংসদের সাধারণ সম্পাদক মো. মুস্তাকিম আহত
হয়েছেন।
সংগঠনটির নেতারা জানান, আহত শিমুল কুম্ভকারকে
জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে। অন্য কয়েকজনও চিকিৎসা
নিয়েছেন বলে তাঁরা দাবি
করেন।
ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য,
ঘটনার সময় কয়েকজন যুবক
নিজেদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
নন বলে জানিয়েছিলেন। তাঁরা
একটি রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীদের ফোন করে ডাকার
কথাও বলেন বলে অভিযোগ
করেন তিনি।
ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা দাবি করেন, পরে
ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে এসে তাঁদের
ওপর হামলা চালান। নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার
প্রতিবাদ করায় এ হামলা
চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ সংগঠনটির।
প্রক্টরের কাছে তিন শিক্ষার্থীর অভিযোগ
ঘটনার পর রাত সাড়ে
১২টার দিকে তিন নারী
শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ
দেন। এতে ঘটনার তদন্ত,
জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত
ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী
প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, শিক্ষার্থীদের
অভিযোগে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের
নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে
ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক
পরিচয় তিনি নিশ্চিত করতে
পারেননি।
তিনি বলেন, ‘সঠিকভাবে
আমি তো রিকগনাইজ করতে
পারলাম না। আমি বলব
যে এটা এই সংগঠন
বা ওই সংগঠন, বা
বহিরাগত—এভাবে বলার সুযোগ নেই।’
সহকারী প্রক্টর আরও বলেন, ঘটনার
বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয়েছে। আইনগত
ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা
নেওয়া হবে। এ ঘটনায়
কোনো শিথিলতা দেখানোর সুযোগ নেই বলেও তিনি
জানান।
ছাত্রদলের বক্তব্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা
ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায়
সাহস ও সাধারণ সম্পাদক
নাহিদুজ্জামান শিপনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের
বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া ইমন বলেন, বামপন্থী শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। হামলাকারীরা ছাত্রদলের নেতাকর্মী কি না, সেটিও নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলেও জানান তিনি।