ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
সাংবাদিকদের ওপর হামলা: রাবি ছাত্রদলের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা প্রেসক্লাবের

সাংবাদিকদের ওপর হামলা: রাবি ছাত্রদলের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা প্রেসক্লাবের

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর নিঃশর্ত ক্ষমা দাবি করেছেন ক্যাম্পাসে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা। একই সঙ্গে হামলার বিচার ও ছাত্রদল সভাপতির ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত রাবি ছাত্রদলের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব। প্রেসক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আজাহারুল ইসলাম তুহিন বিজ্ঞপ্তিটি পাঠান।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৪ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর হামলায় ক্যাম্পাসের চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত নেওয়া ব্যবস্থাকে যথেষ্ট মনে করছে না প্রেসক্লাব।প্রেসক্লাব জানায়, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা হাসিবুল ইসলাম হাসিবকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।বিজ্ঞপ্তিতে ১৫ অক্টোবরের সিন্ডিকেট সভায় এ ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্য কমিটি গঠন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আহসান হাবীবের সনদ বাতিল, হাসিবুল ইসলাম হাসিবকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং অভিযোগের সত্যতা ও অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে প্রেসক্লাব।ভুল বোঝাবুঝি মন্তব্যে আপত্তিছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর বক্তব্যের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রেসক্লাবের মতে, তাঁর এ বক্তব্য হামলার গুরুত্ব খাটো করে দেখানোর পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ছাত্রদল সভাপতির বক্তব্য ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। এ ছাড়া হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের বারবার হুমকি দেওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রেসক্লাব।প্রেসক্লাবের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ছাত্রদল সভাপতি তাঁর বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চাননি।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এবং সুলতান আহমেদ রাহীর নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত রাবি ছাত্রদলের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কট করবেন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকেরা।

ট্রাকচালক নয়ন মন্ডল ছাত্রদলের বড় পদে

পেশায় ট্রাকচালক। অভিযোগ রয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা না করেও কম্পিউটারের দোকান থেকে ৬০০ টাকার বিনিময়ে তৈরি করা সনদ দিয়ে ছাত্রদলের পদ নিয়েছেন নয়ন মন্ডল। বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের ৭৮৯ সদস্যের কমিটিতে তিনি সহসাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন।নয়ন মন্ডলের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, ছাত্রদলের পদ ব্যবহার করে তিনি ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন। সম্প্রতি সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছেও তিনি নিজের পদ-পদবি ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত একটি এনএসআই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়ন মন্ডল ঘোড়াঘাট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা। নদীভাঙনের কারণে তাঁর পরিবার ১০ থেকে ১২ বছর ধরে সেখানে বসবাস করছে। ফুলছড়িতে তাঁর বাড়িঘর বা ব্যবসা নেই। তবে ভোটার তথ্য অনুযায়ী, তিনি ফুলছড়ি উপজেলার নদীভাঙনকবলিত এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার।ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম সরকার বলেন, নয়ন মন্ডলকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। সার ডিলার নিয়োগের বিষয়ে নয়ন তাঁকে ফোন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এজিএস পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন। পরে খোঁজ নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নন; ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক।আব্দুস সালাম সরকারের ভাষ্য, নয়ন মন্ডলের ফুলছড়িতে কোনো ব্যবসা বা বাড়িঘর নেই। এ কারণে উপজেলা সার ডিলার কমিটির সভা থেকে তাঁর নাম বাদ দিয়ে জেলায় সুপারিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পরে তাঁর নাম মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার কথা শুনে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, জীবিকার প্রয়োজনে ২০০৮-০৯ সালের দিকে ঢাকায় আসেন নয়ন মন্ডল। প্রথমে আওয়ামী লীগ নেতা ও নিটল-টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান মাতলুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কাজ করেন। ২০১৬ সাল পর্যন্ত সেখানে চাকরি করার পর একই বছরের আগস্টে অনলাইন সুপারশপ দারাজ বাংলাদেশে চালক হিসেবে যোগ দেন। দারাজের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) মোস্তফা জামান খান জানিয়েছেন, নয়ন এখনো প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত।২০২১ সালে জসিম শিকদার রানা ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের আহ্বায়ক হওয়ার পর নয়ন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ রয়েছে, নিজের চালকের পেশা গোপন করে সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন তিনি। পরে বনানী থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হন।ওই কমিটিতে নয়ন মন্ডল যে এসএসসি সনদ জমা দিয়েছিলেন, সেটি রামপুরার একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে ৬০০ টাকার বিনিময়ে তৈরি করা হয়েছিল বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে—এমন দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।বনানী থানা ছাত্রদলের ওই কমিটির আহ্বায়ক এবং বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি আশরাফুল ইসলাম বলেন, নয়ন মন্ডলের জমা দেওয়া এসএসসি সনদটি তখনই জাল বলে প্রমাণিত হয়েছিল। তবে ওপরের নেতাদের চাপের কারণে তাঁকে কমিটিতে রাখতে হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।আশরাফুল ইসলামের ভাষ্য, কমিটি গঠনের আগে তিনি নয়নকে চিনতেন না। কমিটি হওয়ার পর দেড় থেকে দুই বছরে তাঁকে মাত্র একটি কর্মসূচিতে দেখা গেছে। তাঁর জানামতে, নয়ন এখনো দারাজের আন্তজেলা ট্রাকচালক হিসেবে কাজ করছেন।ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন বলেন, নয়ন মন্ডল পেশায় চালক হয়ে থাকলে এবং ভুয়া সনদ ব্যবহার করে পদ নিয়ে থাকলে যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহ করে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পদ ব্যবহার করে অন্যায্য সুবিধা নেওয়া বা কাউকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলেও সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান লিপকন বলেন, এত বড় কমিটিতে সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে চেনা সম্ভব নয়। তিনি নয়ন মন্ডলকে চেনেন না। তবে তথ্য গোপন করে ও ভুয়া সনদ দিয়ে পদ নেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি গুরুতর এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, পেশায় চালক হলে ছাত্রদল করার সুযোগ নেই; এ ক্ষেত্রে অন্য সংগঠনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরিচয় গোপন করে ছাত্রদল করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে নয়ন মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্রাকচালক নয়ন মন্ডল ছাত্রদলের বড় পদে

ঢাবি ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের তিন নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কয়েকজন নেতাকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় এখনো নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি।বুধবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও রাজু ভাস্কর্যের পেছনের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১১টার দিকে ঘটনার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। একই রাতে ভুক্তভোগী তিন নারী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।কী ঘটেছিলভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাত ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে তাঁরা টিএসসি ও রাজু ভাস্কর্যের পেছনের এলাকায় রিকশায় ওঠার সময় কয়েকজন যুবক তাঁদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। প্রতিবাদ করার পরও ওই যুবকেরা উত্ত্যক্ত করা অব্যাহত রাখেন বলে অভিযোগ তাঁদের।এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, রিকশায় ওঠার পর তাঁদের উদ্দেশে বিভিন্ন মন্তব্য করা হয়। প্রতিবাদ জানালে এক যুবক বলেন, ‘সুন্দর জিনিস দেখলে কি দেখব না?’পরে কয়েকজন যুবক তাঁদের রিকশা ঘিরে দাঁড়ান বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী। পরিস্থিতি দেখে তাঁরা পরিচিতদের ফোন করে সহায়তা চান। পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়।একপর্যায়ে তাঁদের নিরাপত্তায় ছাত্র ইউনিয়নের কয়েকজন নেতাকর্মী এগিয়ে এলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে সংগঠনটির দাবি। পরে ঘটনাস্থলে আরও লোকজন জড়ো হয়ে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।ছাত্র ইউনিয়নের তিন নেতা আহতছাত্র ইউনিয়নের দাবি, হামলায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি অন্তু অরিন্দম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক মো. মুস্তাকিম আহত হয়েছেন।সংগঠনটির নেতারা জানান, আহত শিমুল কুম্ভকারকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে। অন্য কয়েকজনও চিকিৎসা নিয়েছেন বলে তাঁরা দাবি করেন।ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, ঘটনার সময় কয়েকজন যুবক নিজেদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন বলে জানিয়েছিলেন। তাঁরা একটি রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীদের ফোন করে ডাকার কথাও বলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা দাবি করেন, পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে এসে তাঁদের ওপর হামলা চালান। নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ সংগঠনটির।প্রক্টরের কাছে তিন শিক্ষার্থীর অভিযোগঘটনার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিন নারী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে ঘটনার তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।তিনি বলেন, ‘সঠিকভাবে আমি তো রিকগনাইজ করতে পারলাম না। আমি বলব যে এটা এই সংগঠন বা ওই সংগঠন, বা বহিরাগত—এভাবে বলার সুযোগ নেই।’সহকারী প্রক্টর আরও বলেন, ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয়েছে। আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় কোনো শিথিলতা দেখানোর সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান।ছাত্রদলের বক্তব্যঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তবে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া ইমন বলেন, বামপন্থী শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। হামলাকারীরা ছাত্রদলের নেতাকর্মী কি না, সেটিও নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলেও জানান তিনি।

ঢাবি ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ

যেকোনো সময় ছাত্রদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় ঢাবির একাধিক নেতা

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ফেব্রুয়ারিতে। এরপর থেকেই নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সংগঠনের ভেতরে আলোচনা চলছে। ছাত্রদলের প্রায় সব সাংগঠনিক ইউনিটের কাজ শেষ করে নতুন নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বর্তমান নেতারা। এখন নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের অপেক্ষা।ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে তৎপরতাও বেড়েছে। নিজ নিজ বলয়ে যোগাযোগের পাশাপাশি বিএনপির হাইকমান্ডের মনোযোগ পাওয়ার চেষ্টা করছেন অনেকে। তবে নতুন কমিটি গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।২০২৪ সালের ১ মার্চ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছির। সংগঠনের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সংসদের মেয়াদ দুই বছর প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই হিসাবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, তাঁদের কাজ প্রায় শেষ। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যখন প্রয়োজন মনে করবেন, তখন নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।নেতৃত্বে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছেবিএনপি ও ছাত্রদলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং দলের প্রতি আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অতীতের মতো কোনো সিন্ডিকেটের প্রভাব বা ‘পকেট কমিটি’র বদলে পরীক্ষিত ও দক্ষ নেতৃত্ব বাছাইয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দীর্ঘদিন সময়মতো কমিটি না হওয়ায় ছাত্রদলে নেতৃত্বের একটি জট তৈরি হয়েছে। তাই নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যাচের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এ কারণে ২০০৮-০৯ থেকে পরবর্তী কয়েকটি শিক্ষাবর্ষের নেতাদের মধ্য থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।ঢাবি থেকে যাঁদের নাম আলোচনায়নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের নেতাদের মধ্যে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল আলোচনায় রয়েছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি তিনি হামলা, মামলা, কারাবরণ ও পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি ছাড়াও কেন্দ্রীয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও হল শাখার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।একই ব্যাচের মনজুরুল আলম রিয়াদ, এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েল ও সাফি ইসলামও আলোচনায় রয়েছেন। রিয়াদ বর্তমান কমিটির সহসভাপতি এবং এর আগে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও অমর একুশে হলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। রুয়েল আন্দোলন-সংগ্রামের সময় একাধিক মামলার আসামি হয়ে কারাবরণ করেছেন।২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, ২ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান ও মোস্তাফিজুর রহমানের নাম রয়েছে।জিসান দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনে সাংগঠনিক ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর দাবি, দল ও নেতাকর্মীদের প্রয়োজনে তিনি নিজের সাধ্যের মধ্যে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। তবে দলের সিদ্ধান্তই তাঁর কাছে চূড়ান্ত।ফারুক হোসেনকে ক্লিন ইমেজের নেতা ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে বর্ণনা করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। আমানউল্লাহ আমান ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্দোলনের সময় হামলায় আহত হওয়ার পাশাপাশি তিনি মামলায় গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মোস্তাফিজুর রহমান ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী ছিলেন।আরও যাঁদের নিয়ে আলোচনা২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারিক, ঢাবি শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র সাহস, সিনিয়র সহসভাপতি মাসুম বিল্লাহ মাসুম ও সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিকের নামও আলোচনায় রয়েছে।তারিক আন্দোলন-সংগ্রামে একাধিকবার হামলা, গুলিবিদ্ধ ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দেওয়া দায়িত্ব পালন এবং রাজপথের সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাঁকে সাধারণ সম্পাদক পদে বিবেচনার আলোচনা রয়েছে।অনিক ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের মনোনীত জিএস প্রার্থী ছিলেন। আন্দোলনের সময় তিনি গুম ও কারাবরণের শিকার হন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের নেতাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহামেদ, গাজী মো. সাদ্দাম হোসেন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স এবং ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের নাম আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন সমীকরণে রাজু আহামেদ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পদের আলোচনায় এগিয়ে আছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।রাজু আহামেদ বলেন, নতুন নেতৃত্ব ও নবোদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সারা দেশের ছাত্রদল অপেক্ষা করছে। তাঁদের আশা, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অচিরেই নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন।এ ছাড়া ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের নূর আলম ভূঁইয়া ইমনের নামও আলোচনায় রয়েছে। সিনিয়রদের মধ্যে ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাছির ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুমের নাম সভাপতি পদে আলোচনায় এসেছে। তবে নাছির জানিয়েছেন, তিনি নতুন কমিটিতে থাকতে চান না।ঢাবির বাইরেও কয়েকজন আলোচনায়ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে সম্ভাব্য নেতৃত্ব হিসেবে ছাত্রদলের বর্তমান সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আবু হোরায়রা ও সাধারণ সম্পাদক এম রাজীবুল ইসলাম তালুকদার বিন্দুর নাম রয়েছে।ডা. আউয়াল আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবায় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি রাজপথের কর্মসূচিতেও সক্রিয় ছিলেন। কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত আন্দোলনের সময় মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।রেকর্ডসংখ্যক সাংগঠনিক কমিটিবর্তমান রাকিব-নাছির কমিটির অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে প্রায় সব সাংগঠনিক ইউনিটে কমিটি গঠনের বিষয়টি তুলে ধরছেন নেতারা।ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছিরের ভাষ্য, তাঁদের মেয়াদে প্রায় ২ হাজার ১০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি করা হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও মহানগরের প্রায় সব কমিটিও দেওয়া হয়েছে। পাঁচ থেকে সাতটি কমিটি এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।তিনি বলেন, দেশের এক হাজারের বেশি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের কমিটি দিয়ে একটি সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে। বাকি কমিটিগুলোর কাজও শেষ হয়েছে; দল চাইলে সেগুলো জমা দেওয়া যাবে।নাছির আরও বলেন, কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার কাজের সঙ্গে নতুন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি চলমান সাংগঠনিক প্রক্রিয়া, পরবর্তী নেতৃত্ব এসে তা সম্পন্ন করবে।নতুন কমিটি কবে ঘোষণা হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নতুন কমিটি এখন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বিবেচনায় রয়েছে এবং যেকোনো সময় ঘোষণা আসতে পারে।

যেকোনো সময় ছাত্রদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় ঢাবির একাধিক নেতা

সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রদল নেতার মৃত্যু

ঢাকার সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মনোয়ারুল হোসেন বকশী (২৯) নামের এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। তবে তাঁর পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের ধাওয়ার কারণে ছাদ থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে সাভারের বিপিএটিসি স্টাফ কোয়ার্টারের একটি পাঁচতলা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের বাবা জাফর আলীর ভাষ্য, রাতে পুলিশের একটি দল তাঁদের বাসার চারতলায় প্রবেশ করে তল্লাশি চালায়। পুলিশ তাঁর ভাগনের খোঁজ করছিল। এ সময় এক পুলিশ সদস্য ছাদের দিকে গেলে কিছুক্ষণ পর নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দ শোনা যায়। পরে নিচে গিয়ে মনোয়ারের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে জানান তিনি।তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় মনোয়ারকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।তবে পুলিশের দাবি, একটি অপহরণ মামলার আসামিকে ধরতে অভিযান চালানোর সময় মনোয়ার ছাদ থেকে লাফ দিলে তাঁর মৃত্যু হয়।সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, রংপুরের পীরগাছায় ১৫ বছর বয়সী এক তরুণী অপহরণের মামলায় মনোয়ারের ভাগনে শাহরিয়ার কবির সৌমিক আসামি ছিলেন। ওই মামলায় মনোয়ারও আসামি ছিলেন।তিনি বলেন, পীরগাছা থানার এসআই মনোরঞ্জন বর্মণ আসামি ধরতে সাভার থানার সহায়তা নিয়ে অভিযান চালান। এ সময় আসামি ছাদ থেকে লাফ দিলে তিনি মারা যান।এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। নিহতের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করেছে। ঢাকা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তমিজ উদ্দিন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন শিকদারও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রদল নেতার মৃত্যু

আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, হলে ভাঙচুরের অভিযোগ

রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া এলাকায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের পর সন্ধ্যায় শিবিরের নেতা-কর্মীরা এলাকা ছেড়ে গেলে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা মাদ্রাসার একমাত্র আবাসিক হল আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলে প্রবেশ করেন। এ সময় হলের কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর এবং ফটকে তালা লাগানোর অভিযোগ ওঠে।মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হককে মারধরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল থেকে মাদ্রাসার সামনে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং সাত থেকে আটটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে।অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিবিরের নেতা-কর্মীরা সরে যাওয়ার পর যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা হলে প্রবেশ করেন। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে শিবিরের নিয়ন্ত্রণে থাকা কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়। হলের শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।ফাজিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা মো. ইব্রাহীম বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে হলটি সাময়িকভাবে তালাবদ্ধ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তা খুলে দেওয়া হবে।অন্যদিকে আলিয়া মাদ্রাসা শাখা ছাত্রশিবিরের নেতা আবদুল আলিম অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হলে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছেন, কক্ষ ভাঙচুর করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বাইরে ফেলে দিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে এবং হলসংলগ্ন এলাকায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন।এর আগে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি সেমিনারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার জেরে বেলা ৩টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে প্রথম দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।শিবিরের দাবি, দুপুরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হলে ঢুকে তাদের সদস্যদের মারধর ও কয়েকটি কক্ষে তালা দেন। পরে শিবিরের নেতা-কর্মীরা তাদের বের করে দিলে আবারও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।অন্যদিকে ছাত্রদলের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে শিবিরের নেতা-কর্মীরা হলের কয়েকটি কক্ষ দখলে রেখেছেন। মঙ্গলবার ছাত্রদলের একটি কক্ষে তালা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষ শুরু হলে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। পুলিশ প্রথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেলেও পরে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে।সংঘর্ষে শিবিরের প্রায় ২৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির ঢাকা মহানগর পূর্বের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক দাউদ খান। তার দাবি, আহত ফুয়াদ নামে এক কর্মীর মাথায় ১২টি সেলাই লেগেছে এবং তার অবস্থা গুরুতর।অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতা সাদ চৌধুরী দাবি করেন, তাদের ৩০ জনের বেশি নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছাত্রদল ও যুবদলের দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে তিনি জানান।

আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, হলে ভাঙচুরের অভিযোগ

জবিতে ছাত্রদলের হামলা, জকসু ভিপিসহ শিবির-ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মী আহত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর প্রতিনিধিরা।মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।জকসুর প্রতিনিধিদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরাণীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং মেডিকেল সেন্টারের সেবার উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরতে তারা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের বাধা দেওয়া হয়। পরে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।এ ঘটনায় জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা, আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারুক, জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, জকসুর প্রতিনিধিরা মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল তাদের বাধা দেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসানকে ধাক্কা দেওয়ার দৃশ্যও ভিডিওতে দেখা যায়।জকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও তাদের অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি তুলে ধরতে গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তিনি ঘটনার বিচার এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অডিটোরিয়ামের সামনে ছেঁড়া প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করছিলেন জকসুর প্রতিনিধিরা।এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

জবিতে ছাত্রদলের হামলা, জকসু ভিপিসহ শিবির-ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মী আহত