ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
শিক্ষককে পিটিয়ে পুলিশের কাছে দিল স্থানীয়রা, অভিযোগ ধর্ষণের

শিক্ষককে পিটিয়ে পুলিশের কাছে দিল স্থানীয়রা, অভিযোগ ধর্ষণের

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মাওলানা মোবারক হোসেন ওরফে এমরান (৪৫) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে মারধর করার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে শিশুটি পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ায় তার বাবা-মা বিষয়টি নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। পরে সোমবার তাকে সুধারাম থানা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।হাসপাতালে শিশুটি পরিবারের কাছে অভিযোগ করে, গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসাশিক্ষক মোবারক হোসেন ওরফে এমরান তাকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করেছেন।পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁর নিজের বাসায় শিশুটিকে প্রাইভেট পড়াতেন। সেখানেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের মারধরে আহত হওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষককে মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টার দিকে পুলিশ পাহারায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।অভিযুক্ত এমরান উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। আর ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের বাসায় শিশুটিকে প্রাইভেট পড়াতেন। পরিবারের অভিযোগ, সেখানেই তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে মোবারক হোসেন ওরফে এমরানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ইতিহাসের সাক্ষী বজরা শাহী মসজিদ, ২৮০ বছরের পুরোনো স্থাপত্য

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ২৮০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা বজরা শাহী মসজিদ। দিল্লির শাহী জামে মসজিদের নকশার আদলে নির্মিত এই মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ইতিহাস ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।ইতিহাস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭৪১-৪২ সালে জমিদার আমানুল্লাহ প্রায় ৩০ একর জায়গাজুড়ে একটি বিশাল দীঘি খনন করেন। ওই দীঘির পশ্চিম প্রান্তে পরে নির্মাণ করা হয় বজরা শাহী মসজিদ।মসজিদটির রয়েছে দৃষ্টিনন্দন প্রবেশ তোরণ। স্থাপনাটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১১৬ ফুট, প্রস্থ প্রায় ৭৪ ফুট এবং উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট। তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটির ভিত্তি মাটির প্রায় ২০ ফুট নিচ থেকে নির্মাণ করা হয়েছে বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। তিনটি গম্বুজই মার্বেল পাথর দিয়ে সুসজ্জিত।মসজিদের ভেতরে প্রবেশের জন্য রয়েছে তিনটি ধনুকাকৃতির দরজা। কেবলার দিকে রয়েছে কারুকার্যখচিত তিনটি মিহরাব। প্রবেশপথের তোরণের ওপরও কয়েকটি ছোট গম্বুজ দেখা যায়। এসব স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য মসজিদটির ঐতিহাসিক ও নান্দনিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে।১৯০৯ সালে প্রথম সংস্কারনির্মাণের প্রায় ১৭৭ বছর পর ১৯০৯ সালে বজরা শাহী মসজিদ প্রথমবার সংস্কার করা হয়। এরপর সময়ের সঙ্গে মসজিদটির সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা আরও গুরুত্ব পায়।১৯৯৮ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ঐতিহাসিক বজরা শাহী মসজিদের ঐতিহ্য রক্ষা ও দুর্লভ নিদর্শন সংরক্ষণে কাজ করে আসছে।মানত ও সিন্নি নিয়ে লোকবিশ্বাসবজরা শাহী মসজিদকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নানা লোকবিশ্বাসও প্রচলিত রয়েছে। লোকমুখে বলা হয়, এখানে কিছু মানত করলে তা পূরণ হয়। এই বিশ্বাস থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ মসজিদে আসেন নামাজ আদায় করতে। কেউ কেউ রোগমুক্তির আশায় এখানে টাকা-পয়সা ও সিন্নি দান করেন।তবে এসব বিশ্বাস মূলত লোকমুখে প্রচলিত। মসজিদটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় এর দীর্ঘ ইতিহাস, স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব।কাবা শরিফ থেকে আসা প্রথম ইমামবজরা শাহী মসজিদের সঙ্গে ইমামদের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্যও জড়িয়ে আছে। ইতিহাসে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোগল সম্রাট মোহাম্মদ শাহের অনুরোধে সৌদি আরবের পবিত্র কাবা শরিফ থেকে মাওলানা শাহ আবু সিদ্দীক এসে এই মসজিদের প্রথম ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।এরপর তাঁর বংশধরেরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম বজরা শাহী মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে শাহ আবু সিদ্দীক সাহেবের সপ্তম পুরুষ ইমাম হাসান সিদ্দীকি এই মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।সংরক্ষণে গুরুত্ববজরা শাহী মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি নোয়াখালীর ইতিহাস, স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রায় তিন শতাব্দী ধরে টিকে থাকা এই স্থাপনার স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য ও ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এর যথাযথ সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। লেখক: মোহাম্মাদ নাজমুল হক শামীম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ইতিহাস চর্চা পরিষদ

ইতিহাসের সাক্ষী বজরা শাহী মসজিদ, ২৮০ বছরের পুরোনো স্থাপত্য

হাতিয়ায় হানিফ মেম্বারকে ঘিরে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সাবেক ইউপি সদস্য হানিফ মেম্বারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। তিনি ৯ নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য। স্থানীয়ভাবে তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ও হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মদ আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সূত্রের দাবি, হানিফ মেম্বার শুধু বুড়িরচর ইউনিয়ন নয়, হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন। খেয়াঘাট, মাছের আড়ত ও বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকাতেও তাঁর প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো, নির্যাতন ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে তিনি সশস্ত্রভাবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।স্থানীয়দের ভাষ্য, সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে হানিফ মেম্বার দীর্ঘদিন এলাকায় নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবাদ করার সাহস পেতেন না।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হানিফ মেম্বারের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও করা সম্ভব হয়নি।

হাতিয়ায় হানিফ মেম্বারকে ঘিরে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগ