ঢাকা    শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ফিফা বয়কটে অনড় উয়েফা, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে অনাস্থা

ফিফা বয়কটে অনড় উয়েফা, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে অনাস্থা

ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা প্রত্যাহার করা হলেও ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেনি। সংস্থাটি জানিয়েছে, ফিফার প্রতিযোগিতায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে তাদের ৫৫টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন এখনো অনড় রয়েছে।এক বিবৃতিতে উয়েফা বলেছে, ফিফায় স্বাভাবিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের জন্য যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো এখনো পূরণ হয়নি। তাদের দাবি, শুধু বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা প্রত্যাহার করাই যথেষ্ট নয়; ভবিষ্যতে ফুটবলের কাঠামো ও প্রতিযোগিতার মালিকানা বিক্রির মতো উদ্যোগ আর না নেওয়ার নিশ্চয়তাও প্রয়োজন ছিল।বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রধান প্রতিযোগিতার স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা ঘোষণার পর উয়েফা সর্বসম্মতিক্রমে ফিফার সব ইভেন্ট বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ওই পরিকল্পনা প্রত্যাহার করেন এবং বুধবার মরক্কোয় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বের সমর্থন পান।তবে উয়েফা বলছে, সেই সিদ্ধান্ত তাদের উদ্বেগ দূর করতে পারেনি। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর তাদের আস্থা নেই এবং এ অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।অন্যদিকে, ফিফা দাবি করেছে, তাদের কাউন্সিল ও সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলো সভাপতির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। একই সঙ্গে অতীতের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।এদিকে উয়েফা আল জাজিরাকে নিশ্চিত করেছে, সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে তারা ফিফার কাছে একটি 'ডকুমেন্ট প্রিজারভেশন লেটার' পাঠিয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট কোনো নথি বা সম্ভাব্য প্রমাণ নষ্ট না করা হয়।সংকটের মধ্যেই উয়েফার ভাইস প্রেসিডেন্ট লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার বলেছেন, ফিফার পরবর্তী সভাপতিকে এমন একজন হতে হবে, যিনি বিশ্ব ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারবেন এবং সত্যিকার অর্থে এই খেলার অভিভাবকের ভূমিকা পালন করবেন।উয়েফার ঘোষিত বয়কটের প্রথম বড় পরীক্ষা হতে পারে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর, যেদিন পোল্যান্ডে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা।

মেসির বারবার পেনাল্টি মিসের পেছনে যে কারণ

২০২৬ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির পেনাল্টি যেন হয়ে গেছে অরণ্যে রোদন, সব যেন নিষ্ফল চেষ্টা। ২ বার পেনাল্টি নিয়ে দুই বারই পেনাল্টি মিস করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অথচ আগের আসরেই মেসি পেনাল্টি থেকে করেছিলেন ৪ গোল, শ্যুট আউট যোগ করলে পেনাল্টিতে স্কোর করেছিলেন ৬ বার। সেবার মেসি খুবই বুদ্ধিদীপ্ত এক কৌশল ব্যবহার করতেন। তিনি গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতেন, সঠিক সময়ে শট নিতেন এবং মানসিকভাবে থাকতেন শান্ত।  মূলত তিনি দুই ধরনের শট নিতেন। একটি ছিল চতুর সাইড ফুট শট, যেখানে তিনি গোলরক্ষককে ভালোভাবে লক্ষ্য করে বিপরীত দিকে শট নিতেন। আরেকটি ছিল শক্তিশালী ইনস্টেপ শট, যেখানে গতিই ছিল আসল অস্ত্র। দৌড় শুরুর সময় মেসি ছোট ছোট পা ফেলতেন। এতে তিনি নিজের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারতেন। পাশাপাশি গোলরক্ষকের নড়াচড়াও ভালোভাবে বুঝতে পারতেন। বল না দেখে তিনি চোখ রাখতেন গোলরক্ষকের দিকে। গোলরক্ষক কোন দিকে ঝুঁকছেন, সেটাই বোঝার চেষ্টা করতেন তিনি। গোলরক্ষক একবার দিক ঠিক করে ফেললে, মেসি আলতো করে বল পাঠিয়ে দিতেন উল্টো দিকের ফাঁকা কোণে। এই ধরনের শটের গতি সাধারণত থাকত ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে। এখানে শক্তির চেয়ে নিখুঁত নিশানাই ছিল আসল ব্যাপার। সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সের বিপক্ষে এই কৌশলে গোল করেছেন তিনি। তবে গোলরক্ষক যদি স্থির দাঁড়িয়ে থাকতেন বা তার এই কৌশল ধরে ফেলতেন, তখন মেসি ভিন্ন পথে হাঁটতেন। সেই সময় তিনি সোজা পথে দৌড় শুরু করতেন। গোলরক্ষকের দিকে না তাকিয়ে তিনি চোখ রাখতেন বলের দিকে। এতে বলে ঠিকভাবে পা লাগানো সম্ভব হতো। এরপর তিনি জোরালো শট নিতেন। সেই শটের গতি অনেক সময় ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারও ছাড়িয়ে যেত এবং তা গিয়ে লাগত গোলবারের ওপরের কোণে। এত দ্রুতগতির শট হওয়ায় গোলরক্ষক সঠিক দিকে ঝাঁপ দিলেও কিছুই করার থাকত না তার। এই পদ্ধতির শটে অবশ্য সফলতার হার ৫০ শতাংশ ছিল, তিনি পোল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যর্থ হলেও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সফল হয়েছিলেন।  ২০২২ বিশ্বকাপের ২ কৌশলের প্রথমটির ব্যবহার এবারের বিশ্বকাপে করেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অস্ট্রিয়া ও মিশর দুই দলের বিপক্ষেই পেনাল্টি নিয়েছেন বেশ জোরের ওপর, প্রথমটি বারের ওপর দিয়ে গেছে, দ্বিতীয়টি হয়েছে সেভ। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে ওই প্রথম কৌশল ব্যবহার না করার ফলেই পেনাল্টি থেকে এভাবে ব্যর্থ হচ্ছেন মেসি।

মেসির বারবার পেনাল্টি মিসের পেছনে যে কারণ