ঢাকা    সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
বগুড়ায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, সেবা পেলেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ

বগুড়ায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, সেবা পেলেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ

অর্থের অভাবে সময়মতো চক্ষু চিকিৎসা নিতে পারেন না নিম্নআয়ের অনেক মানুষ। বিশেষ করে ছানি ও দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় ভুগলেও চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পারায় দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। এমন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বগুড়ায় আয়োজন করা হয়েছে দিনব্যাপী বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ও পরামর্শ ক্যাম্প।শুক্রবার বগুড়া পৌর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত এ ক্যাম্পে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রায় ৫ হাজার নারী, পুরুষ ও শিশু চিকিৎসাসেবা নেন। সেখানে চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ, ব্যবস্থাপত্রের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা বিনামূল্যে দেওয়া হয়।আয়োজকেরা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে এ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ক্যাম্পটি বাস্তবায়ন করে আল-বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন।সকাল থেকেই রোগীরা ক্যাম্পে আসতে শুরু করেন। শিশু ও বয়স্কদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ চিকিৎসা নেন। চিকিৎসকেরা চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র দেন এবং পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও চশমা বিতরণ করা হয়।ক্যাম্পে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে ছানি ও দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত প্রায় ৫০০ জনকে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জন্য বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে লেন্সসহ বিনামূল্যে ছানি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রোপচার করা হবে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।ক্যাম্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন এবং আল-বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর আহমেদ তাহের হামিদ আলী। তাঁরা চিকিৎসক ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।আয়োজকেরা বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অনেক মানুষ চক্ষু চিকিৎসা নিতে পারেন না। বিশেষ করে ছানি আক্রান্ত নিম্নআয়ের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শাজাহানপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত দুই

বগুড়ার শাজাহানপুরে সড়কের ওপর থেকে দুই তরুণের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁরা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।নিহত দুজন হলেন সোনাতলা উপজেলার জোরগাছা ইউনিয়নের হলিদাবগা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে আশিকুর রহমান (২২) এবং গাবতলী উপজেলার স্বরধনকুটি এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মুজাহিদুল ইসলাম সামিউল (৩০)। আশিকুর ছাত্র ছিলেন। সামিউল ব্যবসা করতেন।সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে উপজেলার নিশ্চিন্তপুর চারমাথা এলাকায় লিচুতলা-মাটিডালী দ্বিতীয় বাইপাস সড়কে এ ঘটনা ঘটে।শাজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক আব্দুস সালাম জানান, নিশ্চিন্তপুর চারমাথা এলাকায় সড়কের মাঝখানে দুজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে।পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, কোনো যানবাহনের ধাক্কায় তাঁরা নিহত হয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

শাজাহানপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত দুই

বগুড়ায় সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

বগুড়া সদর উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে সাইফুল ইসলাম (৫৫) নামের সাবেক এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার রাত ১০টার দিকে নুনগোলা ইউনিয়নের বাঘোপাড়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত সাইফুল ইসলাম সদর উপজেলার আশোকোলা পূর্বপাড়া এলাকার মৃত আবেদ আলী মণ্ডলের ছেলে। তিনি নুনগোলা ইউনিয়ন পরিষদের দুইবার নির্বাচিত সাবেক সদস্য ছিলেন।স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে বাঘোপাড়া বন্দর মোড়ে চা পান করতে যান সাইফুল। পরে বাড়ি ফেরার পথে বাঘোপাড়া ব্রিজের কাছে কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় রমজান ও নিঝুম নামে দুই ব্যক্তি রামদা দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপান।স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তার আগেই ঘটনাস্থলে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রাকিব মিয়া বলেন, তাঁরা বন্দর মোড় থেকে চা পান করে বাড়ি ফিরছিলেন। ব্রিজ পার হওয়ার পর রমজান ও নিঝুম তাঁদের পথরোধ করেন। প্রথমে তাঁদের ধাক্কা দেওয়া হয়। পরে দুজন দা দিয়ে সাইফুলকে কোপাতে থাকেন। এ সময় তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়, ঘটনার বিষয়ে কারও নাম বললে তাঁকেও হত্যা করা হবে।নিহতের ভাতিজি মোছা. শারমিন খাতুন বলেন, তাঁর চাচা দুইবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলেন। বিভিন্ন সময় সালিশ-বিচার করায় কারও সঙ্গে তাঁর বিরোধ থাকতে পারে। তাঁর দাবি, পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে সাইফুল ইসলামকে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের নিরাপত্তার পাশাপাশি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন তিনি।বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইব্রাহিম আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সাইফুল ইসলামের লাশের সুরতহাল করে। তাঁর শরীরে একাধিক কোপের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।ওসি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁদের নাম এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

বগুড়ায় সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা