ঢাকা    রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
শেখ হাসিনা কবে আসবেন ২০৩০ না ২০৫০ সালের ডিসেম্বর: দুলু

শেখ হাসিনা কবে আসবেন ২০৩০ না ২০৫০ সালের ডিসেম্বর: দুলু

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলে তাঁকে নির্দিষ্ট তারিখ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে উত্তরাঞ্চল জাতীয়তাবাদী ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা হুমকি দেন, ডিসেম্বর মাসে আসবেন। আপনি স্পষ্ট করে ঘোষণা দেন, ২০৩০ সালে নাকি ২০৫০ সালের ডিসেম্বর আসবেন?’শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশের ব্যাংকগুলো দুর্বল করে বিপুল অর্থ নিয়ে পালানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা শুধু পালিয়ে যাননি, বরং দেশের ব্যাংকগুলো ফোকলা করে লাখ লাখ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। গত ছয় মাসে আইনবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি দাবি করে দুলু বলেন, অতীতে ক্ষমতায় থাকা পক্ষগুলো প্রতিপক্ষকে বিভিন্নভাবে ঘায়েল করলেও বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছে।তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মসজিদের ইমামদের সরকারি ভাতা ও বেতনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্য ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্যও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। দুলুর ভাষ্য, ‘এই বিধ্বস্ত দেশকে তারেক রহমান সাহেব একটা নিয়মের মধ্যে নিয়ে এসেছেন।’ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যার সমাধান করার কথা তারেক রহমান বলেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে দুলু বলেন, ওই আন্দোলনে প্রায় দুই হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং সেই রক্ত এখনো শুকায়নি। শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনি কোন বর্ডার দিয়ে আসবেন ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের পরিবারের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি অতীতের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, ফাঁসি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।দুলু বলেন, আপনি দেশে আসলে এবার আর সংসদের মধ্যে নয়, বরং কাশিমপুর কারাগারে রাখা হবে ইনশাআল্লাহ। বিরোধী দলগুলোর প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ‘ফ্যাসিস্টদের’ মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে।আলোচনা সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিদিন সকাল নয়টার মধ্যে সচিবালয়ে চলে আসেন। এতে সচিবালয়ের কর্মকর্তারাও নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দিচ্ছেন এবং প্রশাসনিক কাজে গতি ফিরেছে বলে দাবি করেন তিনি।সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরে মাহমুদা হাবীবা বলেন, গত পাঁচ মাসে ২৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশি ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। হজের ফ্লাইট শেষ হওয়ার পর উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে প্রত্যেক হাজিকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।জনপ্রশাসনের ব্যয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১০০ টাকা বাজেট থাকলে সেখানে জনপ্রশাসনের পেছনে ব্যয় করতে হয় ৬০ টাকা। একটা মাথামোটা জনপ্রশাসন আমরা পুষে যাচ্ছি। এটা থেকে যত দ্রুত সম্ভব মুক্ত করতে পারব, তত দ্রুত আমরা উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হব। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. এছাহক আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মো. আব্বাস আলী এবং সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল মোমিন সরকার প্রমুখ।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভোটের মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদে ভোট গ্রহণ চলবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।ডেপুটি স্পিকার কেন শপথ পড়াবেননতুন রাষ্ট্রপতিকে কে শপথ পড়াবেন, এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়। পরে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান পর্যালোচনা করে মতামত দেয় মন্ত্রণালয়।আইন মন্ত্রণালয়ের মতে, বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। এ কারণে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর ক্ষেত্রেও ডেপুটি স্পিকার সাংবিধানিকভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ।ভোট দেবেন ৩৪৯ সংসদ সদস্যত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মোট ৩৪৯ জন সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন। তাঁদের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সদস্য রয়েছেন।চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা ও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বাতিল করায় আসনটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে।সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে একাধিক প্রার্থী থাকায় সংবিধান অনুযায়ী ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে।শুক্রবার বঙ্গভবনে শপথভোট গ্রহণ শেষে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান হবে। শপথ অনুষ্ঠানের সার্বিক আয়োজন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতিসহ রাষ্ট্র ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।সর্বশেষ ভোট হয়েছিল ১৯৯১ সালেদেশে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি পদে সংসদে ভোট হয়েছিল ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুদ্দোজা চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বদরুদ্দোজা চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

২০ আগস্ট সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন ৩৪৯ সংসদ সদস্য

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচনের সময় কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণার সুযোগ থাকবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।বুধবার নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সিইসি।এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ঐতিহাসিক এ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই। আশা করি, একটি সুন্দর নির্বাচন হবে। বিশ্ববাসী এ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে।’১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘এটা আমার জন্য ভাগ্যের বিষয়।’প্রচার-প্রচারণার সুযোগ নেইরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সিইসি। তিনি বলেন, নির্বাচনী স্থানে উপস্থিত থেকে কোনো ধরনের প্রচার বা প্রচারণা চালানো যাবে না।গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ২২তম রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে একই দিন পদটি শূন্য হয়। এরপর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ।ভোট দেবেন ৩৪৯ সংসদ সদস্যরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা ভোট দেবেন। চট্টগ্রাম-৪ আসন শূন্য থাকায় এবার মোট ভোটার ৩৪৯ জন।আগামী বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা সরাসরি ভোটদান ও ভোট গণনা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের ভোটদান সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ভোটগ্রহণের পর সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও ফলাফল ঘোষণার সময় তা আবার সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ ভবনের বৈঠককক্ষে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবেন সিইসি। একই দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।

২০ আগস্ট সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন ৩৪৯ সংসদ সদস্য

মেয়র থেকে মন্ত্রী, এবার রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে ফখরুল

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থী হওয়ার পর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।রিজভী জানান, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মির্জা ফখরুল মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন। ঢাকা কলেজসহ কয়েকটি সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিষয়ে শিক্ষকতা করেন তিনি।১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন মির্জা ফখরুল। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন।২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরে খালেদা জিয়ার সরকারের কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।দলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে মির্জা ফখরুল ২০০৯ সালের বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তাঁকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়। ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে তিনি বিএনপির পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হন। বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচিত হলেও পরে শপথ না নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।ব্যক্তিগত জীবনে রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে বিবাহিত মির্জা ফখরুল। তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছে। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও সংসদ সদস্য। চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন বিএনপি নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার।রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হলো।

মেয়র থেকে মন্ত্রী, এবার রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে ফখরুল

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাঁর প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৈঠক শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছেন দলের সংগ্রামী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ থেকে মির্জা ফখরুল পদত্যাগ করেছেন বলেও জানান রিজভী।আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্বাচন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।এরই মধ্যে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর পক্ষে জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।ইসির তফসিল অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোট হবে।১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকছে না।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে পাঁচ বছর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাঁকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়।২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাঁকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়।১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল

আজ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বিএনপি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকেই রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দলের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আজ ১৩ আগস্ট। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রার্থী চূড়ান্ত করে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি।এর আগে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আলোচনায় আসে। তবে তাঁর প্রার্থিতার বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট হবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

আজ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বিএনপি

৫ আগস্টের পর দীর্ঘদিন দেশেই আত্মগোপনে ছিলাম: সাদ্দাম হোসেন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় বাংলাদেশেই আত্মগোপনে ছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। পরে পরিস্থিতি আরও কঠোর হলে তাঁকে দেশ ছাড়তে হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে শনিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। ‘আওয়ামী লীগের নেতারা ভারতে দুই বছর কীভাবে কাটালেন’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে সাদ্দাম হোসেনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়।সাদ্দাম হোসেন বলেন, ৫ আগস্টের পর দীর্ঘদিন তিনি দেশেই ছিলেন। কৌশলগত কারণে তাঁকে বারবার অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। এর মধ্যেই সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করেছেন।তিনি বলেন, সে সময়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় আওয়ামী লীগ যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেগুলোর ভিত্তিতেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। তবে ‘পূর্ণাঙ্গ দমন-পীড়ন’ শুরু হলে তাঁকে স্থান পরিবর্তন করতে হয়।সাদ্দাম হোসেন দাবি করেন, আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী এখনো দেশের ভেতরে অবস্থান করছেন।‘দেশে থাকা নেতাকর্মীরাই মূল শক্তি’বাংলাদেশে থাকা নেতাকর্মীদের দলের মূল শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, বিভিন্ন কমিটি পুনর্গঠন এবং চলমান মামলায় সহযোগিতা করতেই তাঁর সময় কাটছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার কাজও চলছে বলে জানান তিনি।‘দেশে ফেরার জন্য মানসিক ও পারিবারিকভাবে প্রস্তুত’দেশে ফেরার বিষয়ে সাদ্দাম হোসেন বলেন, তিনি এবং তাঁর পরিবার দেশে ফেরার জন্য মানসিক ও পারিবারিকভাবে প্রস্তুত। তাঁর ভাষ্য, দেশে ফেরার একটি ‘রোডম্যাপ’ তৈরি রয়েছে এবং এখন শুধু সময়সীমার অপেক্ষা।দেশে ফিরলে কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন, সে সম্পর্কেও তাঁদের ধারণা রয়েছে বলে জানান তিনি।সাদ্দাম হোসেন বলেন, দেশে ফেরার পর ভবিষ্যতে কী হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।

৫ আগস্টের পর দীর্ঘদিন দেশেই আত্মগোপনে ছিলাম: সাদ্দাম হোসেন

হাসিনা কার্ড বন্ধ না হলে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কঠিন: সালাউদ্দিন

ভারত একদিকে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইবে- এ দুটি বিষয় একসঙ্গে চলতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়। তবে এ সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা, সম্মান ও দুই দেশের সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে। বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সেখান থেকে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারত সরকার যদি সত্যিই বাংলাদেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার বক্তব্য সমর্থন না করে, তাহলে তাঁকে ভারতের মাটিতে বারবার সভা ও বিশ্বমিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কেন?তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা রয়েছে। তাই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রয়োজন। তবে কোনো দেশের প্রভুত্ব মেনে নেওয়া হবে না।‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে’জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ওসমান, আবু সাঈদসহ নিহতদের স্মরণ করে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার ও সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে।তিনি বলেন, ৫ আগস্টের অর্জন কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর নয়; এটি গণতন্ত্রকামী মানুষের দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ফল। এর মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র ও মানুষের সাংবিধানিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা।আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ আদালত নির্ধারণ করবেআওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংগঠন হিসেবে দলটির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা আদালতের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। আইসিটি আইনে অপরাধী সংগঠনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, কার্যক্রম স্থগিত বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্তসহ বিভিন্ন ব্যবস্থার বিধান রয়েছে।তিনি জানান, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বিচারও চলমান রয়েছে।‘চেতনা বিক্রির রাজনীতি আর চলবে না’জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিজেদের করে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টার সমালোচনা করে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চেতনা বিক্রির রাজনীতি’ বাংলাদেশে ব্যর্থ হয়েছে।তাঁর ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়; দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের ফল। মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে আগের দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস অস্বীকার করা হবে।

হাসিনা কার্ড বন্ধ না হলে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কঠিন: সালাউদ্দিন