রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থী হওয়ার পর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী
কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের
এ তথ্য জানান বিএনপির
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি
বলেন, দলের চেয়ারম্যান ও
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার
সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রিজভী জানান, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার
সঙ্গে সঙ্গেই মির্জা ফখরুল মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির
সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ
করেছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালের
২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি
অর্জনের পর ১৯৭২ সালে
বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে
যোগ দেন। ঢাকা কলেজসহ
কয়েকটি সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিষয়ে শিক্ষকতা করেন তিনি।
১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা
ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন মির্জা ফখরুল।
১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের
সময় বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর
১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা
বিএনপির সভাপতি হন।
২০০১ সালের জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে
বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত
হন তিনি। পরে খালেদা জিয়ার
সরকারের কৃষি এবং বেসামরিক
বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
দলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে
মির্জা ফখরুল ২০০৯ সালের বিএনপির
পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে
খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তাঁকে ভারপ্রাপ্ত
মহাসচিব করা হয়। ২০১৬
সালের জাতীয় কাউন্সিলে তিনি বিএনপির পূর্ণাঙ্গ
মহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর থেকে
তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।
২০১৮ সালের জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির
প্রার্থী হন। বগুড়া-৬
আসনে নির্বাচিত হলেও পরে শপথ
না নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।
ব্যক্তিগত জীবনে রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে
বিবাহিত মির্জা ফখরুল। তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছে।
তাঁর বাবা মির্জা রুহুল
আমিন ছিলেন আইনজীবী ও সংসদ সদস্য।
চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন বিএনপি নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের
সাবেক স্পিকার।
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হলো।