নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর
ভোটের মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত
হতে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের
ভোট গ্রহণ হবে। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে
শপথ পড়াবেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে
মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল
৫টা পর্যন্ত সংসদে ভোট গ্রহণ চলবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর
নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের
প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ
বীর বিক্রম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।ডেপুটি স্পিকার কেন শপথ পড়াবেননতুন রাষ্ট্রপতিকে কে
শপথ পড়াবেন, এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ
বিভাগের পক্ষ থেকে আইন
মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়। পরে সংবিধানের
সংশ্লিষ্ট বিধান পর্যালোচনা করে মতামত দেয়
মন্ত্রণালয়।আইন মন্ত্রণালয়ের মতে,
বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম সংবিধানের
৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে
সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ
অনুযায়ী স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি
স্পিকার কায়সার কামাল। এ কারণে নবনির্বাচিত
রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর ক্ষেত্রেও
ডেপুটি স্পিকার সাংবিধানিকভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ।ভোট দেবেন ৩৪৯ সংসদ সদস্যত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মোট ৩৪৯ জন
সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন। তাঁদের
মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০
জন সদস্য রয়েছেন।চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির
প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা ও সংসদ সদস্য
হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বাতিল
করায় আসনটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে।সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি
সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে একাধিক প্রার্থী
থাকায় সংবিধান অনুযায়ী ভোট গ্রহণ করা
হচ্ছে।শুক্রবার বঙ্গভবনে শপথভোট গ্রহণ শেষে
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের
দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির
শপথ অনুষ্ঠান হবে। শপথ অনুষ্ঠানের
সার্বিক আয়োজন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতিসহ রাষ্ট্র ও সরকারের শীর্ষ
পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।সর্বশেষ ভোট হয়েছিল ১৯৯১ সালেদেশে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি
পদে সংসদে ভোট হয়েছিল ১৯৯১
সালের ৮ অক্টোবর। ওই
নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুদ্দোজা চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে
নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী
বদরুদ্দোজা চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।