ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

ড. ইউনূসকে হয়রানি ও অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান সাবেক ১২ উপদেষ্টার


মো: পলাশ তুষার পাঠান
মো: পলাশ তুষার পাঠান স্টাফ রিপোর্টার

ড. ইউনূসকে হয়রানি ও অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান সাবেক ১২ উপদেষ্টার
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগ্রহ

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে লক্ষ্য করে অব্যাহত হয়রানি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ১২ উপদেষ্টা। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বলেছেন, ভয়ভীতি, মিথ্যা তথ্য ও হামলার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা থেকে উৎসারিত পরিবর্তনের অঙ্গীকার নস্যাৎ করা যাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনার পর দেওয়া এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান সাবেক উপদেষ্টারা। বিমানবন্দরের লবি দিয়ে যাওয়ার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ করে কটূক্তি করেন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি করেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হয়রানি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।

সাবেক উপদেষ্টারা বলেন, দেশ যখন চরম সংকটের মুখে ছিল, তখন অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক লুটপাট, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপর্যয়, দুর্নীতি, কর্তৃত্ববাদী শাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছে। তাঁদের দাবি, ওই সরকার গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধমূলক চর্চার অবসান ঘটিয়েছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, স্বৈরাচারী শাসনামলের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল।

তবে বর্তমানে কিছু রাজনৈতিক অপতৎপরতায় যুক্ত ব্যক্তি ও স্বার্থান্বেষী মহল অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর পাশাপাশি তাঁকে শারীরিকভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক উপদেষ্টারা। তাঁদের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা।

বিবৃতিতে তাঁরা আরও বলেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যাচার, অনলাইন হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত হুমকি—কোনো কিছুই তাঁদের পরিবর্তনের অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। তরুণদের বিপুল আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ সংস্কার ও মর্যাদার যে ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট অর্জন করেছেন, অপপ্রচার কিংবা ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার সমর্থকদের প্রচেষ্টায় তা মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

বিবৃতিতে যাঁরা স্বাক্ষর করেছেন

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, শিক্ষাবিদ সি আর আবরার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আদিলুর রহমান খান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন এবং ফারুক ই আজম বীর প্রতীক।

এ ছাড়া বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ইউবিনিগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার, সমাজবিজ্ঞানী ও ব্রতীর প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান নির্বাহী শারমীন সোনিয়া মুরশিদ, চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

বিষয় : বাংলাদেশ রাজনীতি মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকার জুলাইগণ অভ্যুত্থান

দৈনিক নবকাল

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


ড. ইউনূসকে হয়রানি ও অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান সাবেক ১২ উপদেষ্টার

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে লক্ষ্য করে অব্যাহত হয়রানি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ১২ উপদেষ্টা। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বলেছেন, ভয়ভীতি, মিথ্যা তথ্য ও হামলার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা থেকে উৎসারিত পরিবর্তনের অঙ্গীকার নস্যাৎ করা যাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনার পর দেওয়া এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান সাবেক উপদেষ্টারা। বিমানবন্দরের লবি দিয়ে যাওয়ার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ করে কটূক্তি করেন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি করেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হয়রানি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।

সাবেক উপদেষ্টারা বলেন, দেশ যখন চরম সংকটের মুখে ছিল, তখন অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক লুটপাট, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপর্যয়, দুর্নীতি, কর্তৃত্ববাদী শাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছে। তাঁদের দাবি, ওই সরকার গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধমূলক চর্চার অবসান ঘটিয়েছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, স্বৈরাচারী শাসনামলের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল।

তবে বর্তমানে কিছু রাজনৈতিক অপতৎপরতায় যুক্ত ব্যক্তি ও স্বার্থান্বেষী মহল অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর পাশাপাশি তাঁকে শারীরিকভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক উপদেষ্টারা। তাঁদের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা।

বিবৃতিতে তাঁরা আরও বলেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যাচার, অনলাইন হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত হুমকি—কোনো কিছুই তাঁদের পরিবর্তনের অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। তরুণদের বিপুল আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ সংস্কার ও মর্যাদার যে ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট অর্জন করেছেন, অপপ্রচার কিংবা ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার সমর্থকদের প্রচেষ্টায় তা মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

বিবৃতিতে যাঁরা স্বাক্ষর করেছেন

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, শিক্ষাবিদ সি আর আবরার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আদিলুর রহমান খান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন এবং ফারুক ই আজম বীর প্রতীক।

এ ছাড়া বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ইউবিনিগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার, সমাজবিজ্ঞানী ও ব্রতীর প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান নির্বাহী শারমীন সোনিয়া মুরশিদ, চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
ড. ইউনূসকে হয়রানি ও অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান সাবেক ১২ উপদেষ্টার
0:00 0:00
1.0x