ঢাকা    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ঢাবির শেখ মুজিব হলের ফটকে ফিরছে পুরোনো নাম

ঢাবির শেখ মুজিব হলের ফটকে ফিরছে পুরোনো নাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি মুছে ফেলার কাজ শুরু করেছে হল প্রশাসন। আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে সেখানে আবার ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নাম লেখা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।বুধবার দুপুরে হলের প্রধান ফটকে নামটি মুছে ফেলার কাজ শুরু হয়। হলের সিনিয়র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মো. জবান আলী বলেন, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে মৌখিকভাবে হলের নাম সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছেন। নাম নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি এড়াতে পুরোনো নাম পুনরায় লেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি।এর আগে ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর রাতে হলের প্রধান ফটক থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশের উদ্যোগে এ পরিবর্তন করা হয়েছিল। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও শেখ মুজিবুর রহমান হল সংসদের পক্ষ থেকে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়।ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি ২০২৫ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন, ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পর ১৮ ডিসেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পরই হলটির নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ সামনে আসে।এদিকে ৮ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শেখ মুজিবুর রহমান হলসহ শেখ পরিবারের নামে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সভায় শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ করার সুপারিশও ছিল।তবে নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে মতভেদ দেখা দেয়। গত ২৯ জুনের অধিবেশনে বিষয়টি আলোচনায় উঠলে কয়েকজন সদস্য বিধি অনুসরণ করে প্রস্তাবটি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর পক্ষে মত দেন। সিনেট সদস্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান এ প্রস্তাব দেন। অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফাও নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আপত্তি জানান। অন্যদিকে সিনেট সদস্য ফজলুল হক মিলন হলটির নাম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে রাখার প্রস্তাব করেন।দীর্ঘ আলোচনা হলেও সেদিন নাম পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিষয়টি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর প্রতিবাদে সিনেট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন ডাকসুর পাঁচ সিনেট সদস্য ভিপি সাদেক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ ও সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না।এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে সিনিয়র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার জবান আলী জানান, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্তি দূর করতেই আগের নাম পুনরায় লেখা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেও বর্তমানে হলটির নাম ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হলটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৮ সালে।